সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হাওড়া স্টেশনে ট্রেন ঢুকতে দেরি। আর সেই দেরিই কেড়ে নিল দু’টি তরতাজা প্রাণ। শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই ঘটেছে শিবপুরের বনবিহারী বোস রোডের সিং পরিবারের সঙ্গে। গত শুক্রবার ট্রেন দেরিতে ঢোকার কারণে মৃত্যু হয়েছে দশ মাসের এক শিশুপুত্রের। আর সেই শোক সামলাতে না পেরে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলেন ওই শিশুর মা। এই ঘটনায় শনিবার ভাইফোঁটার দিনে শোকের ছায়া নেমে আসে শিবপুরের বনবিহারী বোস রোডে। ওই মহিলার বাপের বাড়ির লোকের অভিযোগ, বিভূতি এক্সপ্রেস প্রায় সাত ঘণ্টা লেটের কারণেই বাঁচানো যায়নি পূজা সিং (৩০) নামে ওই মহিলার দশ মাসের শিশুপুত্রকে। ট্রেনের মধ্যেই যক্ষ্মা আক্রান্ত শিশুপুত্রের অবস্থার অবনতি হয়। তারপরই মৃত্যু হয় ফুটফুটে শিশুটির।
[তাজমহল বিতর্কে ড্যামেজ কন্ট্রোলে এবার আগ্রা সফরে যোগী আদিত্যনাথ]
জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের বালিয়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে হাওড়ায় বাপের বাড়িতে যক্ষ্মা আক্রান্ত শিশুপুত্রের চিকিৎসার জন্য আসছিলেন পূজা। ৭৯ নম্বর বনবিহারী বোস রোডে বাপের বাড়িতে শিশুপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে একাই ফিরছিলেন তিনি। ঠিক ছিল, বাপের বাড়িতে থেকে চিকিৎসা করাবেন দশ মাসের শিশুপুত্র লালুর। কিন্তু তা আর হল না। পুত্রের মৃত্যুশোক সামলাতে না পেরে নিজেও ঝাঁপ দিলেন গঙ্গায়। শনিবার সকালে শিবপুরের বিচালিঘাট থেকে উদ্ধার হয় পূজার দেহ। মৃতার পরিবারের এক সদস্য সত্যনারায়ণ সিং বলেন, শিশুপুত্রের শোক সামলাতে না পেরে পূজা শনিবার ভোরেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
[পণ দিলেই সম্ভব কুৎসিত মেয়ের বিয়ে, পাঠ্যবই ঘিরে বিতর্ক]
বেনারস-হাওড়া বিভূতি এক্সপ্রেসের শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টায় হাওড়া স্টেশনে ঢোকার কথা ছিল। কিন্তু ট্রেনটি লেট করায় শুক্রবার দুপুর দেড়টা নাগাদ হাওড়া স্টেশনে পৌঁছয়। পূজার বাপের বাড়ির লোকের অভিযোগ, প্রায় সাত ঘণ্টা ট্রেন লেট করাতেই মৃত্যু হয়েছে শিশুপুত্রের। দু’দিন আগে বক্সা স্টেশন থেকে বিভূতি এক্সপ্রেসে শিশুপুত্রকে নিয়ে ট্রেনে উঠেছিলেন পূজা। কিন্তু ট্রেনে ওঠার পর থেকেই তাঁর দশ মাসের শিশুপুত্র অসুস্থ হয়ে পড়ে। শুক্রবার দুপুরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই চিকিৎসক শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুটিকে শিবপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এর পরই শোকস্তব্ধ হয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন পুজা। তাঁর পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, পূজার এর আগেও এক সন্তান ছিল। সেই শিশুসন্তানও মারা যায়। লালু পূজার দ্বিতীয় সন্তান। ফলে দ্বিতীয় শিশুসন্তানের মৃত্যুতে একেবারেই ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।
পূজার স্বামী ধনঞ্জয় সিং (২৭) মূজফ্ফরপুরে একটি চায়ের কোম্পানিতে চাকরি করেন। স্ত্রী ও শিশুপুত্রের মৃত্যুসংবাদ শুনে শনিবারই হাওড়ার বনবিহারী বোস রোডে শ্বশুরবাড়িতে ছুটে আসেন ধনঞ্জয়। পূজা ও তাঁর শিশুপুত্রের আকস্মিক মৃত্যু ভেঙে পড়েছেন পূজার বাবা বাচ্চালাল সিং ও মা শকুন্তলা দেবী। বোন ও তাঁর শিশুপুত্রের মৃত্যুর জন্য ট্রেন লেটকেই দায়ী করেছেন পূজার ভাই ধর্মেন্দ্র সিং।
[টেস্ট ক্রিকেট থেকে কবে বিদায় নেবেন, জানিয়ে দিলেন অশ্বিন]
সর্বশেষ খবর
-
‘হকার’ না ‘ভোটার’, আমরা কোন চোখে মানুষগুলিকে দেখেছি?
-
‘আলোচনা ব্যর্থ হলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’, আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘আল্লার উপহার’ হরমুজই অস্ত্র ইরানের!
-
জার্সি বেচে সন্তানকে বাঁচান প্যারাগুয়ের নায়ক গিল, ‘আকাশের ঠিকানায়’ দাদুকে চুমু গোলদাতা এনসিসোর
-
মমতা অতীত, জোটের প্রশ্নই নেই! বিজেপির বাংলায় কংগ্রেস কর্মীদের লড়াইয়ের ডাক বেণুগোপালের
-
‘মা-কাকিমা ছাড়া রোল পাবে না’, এবার রচনাকে পালটা কল্যাণের, প্রশ্ন তুললেন শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও