সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ছাই ফেলতে ভাঙা কুলোর প্রবাদ তো ছিলই৷ তবে এবার বোধহয় তা বদলাতে চলেছে৷ সৌজন্যে এক ছাইদানি৷ যা রমরমিয়ে বিকোচ্ছে ই কমার্স সাইট আমাজনে৷ এ নিয়েই জমেছে বিতর্ক৷
খোলা যৌনতার পরিবেশে কোনওকিছুই আর গোপন নয়৷ নীল ছবির দুনিয়া হোক বা যৌন খেলনা-সবই আজ হাতের মুঠোয়৷ এক ক্লিকের ওপারেই সাজানো ইন্দ্রিয়সুখের হাজারও পসরা৷ যৌন চাহিদা যে একপ্রকার ব্যবসার বড় ক্যাপিটাল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না৷ তা পূরণ করতে তাই প্রতিযোগিতার অন্ত নেই৷ কারণে অকারণেই তাই নারী শরীরের নগ্নতাকে বিপণনের সামগ্রী করে তোলা হয়েছে৷ তা নিয়ে এন্তার সমালোচনাও হয়েছে৷ কিন্তু ছবি বদলায়নি৷ বরং নারীকে পণ্য করা নিয়ে যত প্রতিরোধ বেড়েছে তত বেড়েছে বিকৃতি৷

আজ হয়তো নারীকে দাসীবৃত্তি করতে হয় না, কিংবা সভ্য দেশে যৌনদাসীরও প্রচলন নেই৷ কিন্তু যৌনতার সামগ্রী হিসেবে নারীকে দেখার চোখ কিন্তু সমাজের গায়ে আজও সজাগ৷ আর তাই উল্টো রাস্তায় হেঁটে সে স্বাদ পূরণ করছে বাজারি সভ্যতা৷ নগ্নতারও যে নিজস্ব সৌন্দর্য আছে তা যেন ঢাকা পড়েছে এই বিকৃত ব্যবসার যুগে৷ আর তাই সামনে এসেছে এমন ছাইদানি যেখানে নারীমূর্তিকে বসানো হয়েছে অশ্লীল ভঙ্গিমায়৷ আর সে মূর্তির যৌনাঙ্গের স্থানটিই হয়ে উঠেছে সিগারেটের ছাই ফেলার জায়গা৷ এ যেন অনেকটা সেই আদিম যৌনদাসীরই আধুনিক সংস্করণ৷ তফাত শুধু এই জিনিসের প্রাণ নেই৷ কিন্তু যে হারে এ ছাইদানি বিকোচ্ছে, তাতে মানুষের রুচি থেকে আদিম গন্ধ কতটা ফিকে হয়েছে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে৷

প্রত্যাশিতভাবেই এ ছাইদানি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ প্রতিবাদে সরব হয়েছেন৷ নারী শরীরকে পণ্য করার মানসিকতা তো চোখে আঙুল দিয়ে ধরা পড়েছেই, পাশাপাশি যে বার্তা বা রুচির কথা তুলে ধরছে এই ছাইদানি, তা সুস্থ সভ্যতার পক্ষে বিপজ্জনক৷ এমনটাই দাবি তুলেছেন বিভিন্ন মানুষ৷ একদিকে নারী সুরক্ষার মতো বিষয় নিয়ে রাষ্ট্রনেতাদের উদ্বেগের শেষ নেই, নারী নির্যাতন রুখতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে সচেতনতা শিবির, তার পাশেই এই বিকৃত মানসিকতা যেন তুলে ধরছে সভ্যতার ফ্যালাসিকে৷

বহু নারী এর প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন৷ তাঁরা জানাচ্ছেন, যে মানসিকতা ধর্ষণ বা নারীকে যৌন নির্যাতনের জন্য দায়ী, এখানেও ঠিক তাইই কাজ করেছে৷ কাস্টমার ফিডব্যাকের জায়গাতেই তাঁদের প্রতিবাদী স্বর তুলে ধরেছেন তাঁরা৷অনেকেই এই অ্যাপ আনইনস্টল করার কথা প্রকাশ্যেই জানান৷ সরাসরি আমাজনকে মেল করেই প্রতিবাদ করেন এখ মহিলা৷ পরে সংস্থার তরফে জানানো হয়, নজরে আসামাত্র এ জিনিস ক্যাটালগ থেকে সরিয়ে নিয়েছে তাঁরা৷ এ সাফাই এর আগেও বিভিন্ন সময় দিয়েছে তারা৷ একইরকম ঘটনার কেন বারবার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে, সে প্রশ্ন ফের উঠল৷

সর্বশেষ খবর
-
জুলাই গণহত্যা মামলায় ঢাকার প্রাক্তন কমিশনার-সহ ৩ পুলিশকর্মীর মৃত্যুদণ্ড
-
৭ মাস পর খুলছে কাঁকিনাড়া জুটমিল, শিল্পের পুনর্জাগরণে খুশি ৩০০০ শ্রমিক
-
নতুন ফোন কেনার প্ল্যান? জুলাইয়ে ফ্লিপকার্টে চলবে সেল, কবে থেকে শুরু?
-
নার্স মৃত্যুর তদন্তে গড়িমসি! ‘যেন থানায় না যেতে হয়’, পুলিশকে ‘ধমক’ মন্ত্রী অশোকের
-
তিরুমালা মন্দিরে পুজো দিয়ে চুল উৎসর্গ অনন্ত আম্বানির, মন্দিরকে ২৫টি ইলেকট্রিক বাস দানের প্রতিশ্রুতি