১১ বৈশাখ  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০১৯ 

Menu Logo নির্বাচন ‘১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও #IPL12 ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

৬০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি৷ মাঝে মধ্যেই পেট ব্যথা৷ পাড়ার ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার দেখেন তাঁর ওজন ক্রমশ কমছে৷ পেট ব্যথার সঙ্গে ওজন কমে যাওয়ায় লক্ষণ ভাল নয়৷ এরপরই একদিন মলের সঙ্গে রক্ত পড়ল৷ এন্ডোস্কোপি করা হলে রিপোর্টে দেখা গেল পাকস্থলিতে ক্যানসার হয়েছে৷ উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে ভারতে পাকস্থলীতে ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা খুব বেশি৷ পশ্চিমবঙ্গেও এই ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে৷ এর পিছনে দায়ী মূলত অভ্যাস৷ ধূমপান, আলসারের ঝাঁজে বাড়ছে পাকস্থলীতে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি৷ বাঁচতে চান? জেনে নিন কীভাবে কাটাবেন দৈনন্দিন জীবন? পরামর্শ দিচ্ছেন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএনটেরোলজিস্ট ডা. কে ডি বিশ্বাস-এর মুখোমুখি জিনিয়া সরকার

[নারদ কাণ্ডে ম্যাথুকে ১৮ মে তলব ইডির]

দায়ী অভ্যাস!
হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি-ব্যাকটেরিয়াই এই ক্যানসারের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী৷ এই ব্যাকটেরিয়া থেকে ইনফেকশন অনেকসময় ক্যানসারের কারণ৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী এটি খুবই শক্তিশালী কারসিনোজেন৷ সাধারণত এই ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন কম-বেশি সবার শরীরেই হয়ে থাকে৷ তবে ইনফেকশন মানেই তা থেকে ক্যানসার হবে এমন নয়৷ ইনফেকশন দীর্ঘদিন থাকলে পাকস্থলীর কোষে এমন কিছু পরিবর্তন আনে যা ক্যানসার হতে সাহায্য করে৷

ধূমপান পাকস্থলীর উপরের অংশের ক্যানসারের সম্ভাবনা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়৷ কারও গ্যাস্ট্রিক সার্জারি হলে অথবা আলসার ওষুধে না সারলে সার্জারি করা হয়৷ পাকস্থলীর এই আলসার সার্জারির দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা হিসাবে অনেক সময় ক্যানসার দেখা যায়৷ পাকস্থলীর মধ্যে পলিপ জাতীয় কিছু থাকলে তা থেকেও ক্যানসারের সম্ভাবনা থাকে৷ এমনকী দীর্ঘদিন ধরে নস্যির নেশা থাকলেও এই ক্যানসার শরীরে থাবা বসাতে পারে৷

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে আবার দেখা যায়, জল থেকে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি-ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হয়৷ মল থেকে মুখের মধ্যে এই ব্যাকটেরিয়া পৌঁছলে শরীরে সংক্রমণ ছড়ায়৷ যাঁরা খুব অপরিষ্কার ভাবে থাকেন, নোংরা থালায় খান তাঁদের এই ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের প্রবণতা বেশি৷

[গর্ভনিরোধক যন্ত্র হাতে জন্মাল শিশু!]

খাওয়াদাওয়া: ভিটামিন সি, এ, ই ও ফাইবার জাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে৷ ডায়েটে বেশি করে রাখা প্রয়োজন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট(টক ফল, ভিটামিন এ) জাতীয় খাবার৷

স্মোকড ফুড, খুব বেশি নুন দেওয়া মাছ, আচার বেশি খাওয়ার অভ্যাস ডেকে পাকস্থলীর ক্যানসার৷ নোংরা খাবার, দীর্ঘক্ষণ খোলা থাকা খাবার, বাসি খাবারে মিশে থাকে নাইট্রেট ও নাইট্রাইট জাতীয় উপাদান৷ এই উপাদান শরীরে গেলে যে রাসায়নিক পরিবর্তন হয় তা কোষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ও ক্যানসারের জন্য দায়ী৷ রেড মিট কম খান৷ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি৷ পাকস্থলীর ভাল রাখতে টাটকা খাবার, সবুজ শাকসবজি, কম তেল-মশলা জাতীয় খাবার, কম নুন যুক্ত স্বাভাবিক খাবার খান৷

[এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতলেন ভারতীয় কুস্তিগির]

চিকিৎসা: এন্ডোস্কোপি করতে হবে৷ ঠিক সময়ে ক্যানসার ধরা পড়লে এবং সার্জারি করলে ক্যানসার অনেকক্ষেত্রেই সম্পূর্ণভাবে সেরে ওঠে৷ তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেরিতে ক্যানসার ধরা পড়ায় রোগ সারার সম্ভাবনা কমে৷ পাকস্থলী ক্যানসারের সবচেয়ে সফল চিকিৎসা অপারেশন৷ সার্জারি ও কেমোথেরাপি করে পাকস্থলী ক্যানসার সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব৷

[আইএস-এর যন্ত্রণা নিবারণে ওষুধ যাচ্ছে ভারত থেকে!]

পুরুষ, না মহিলা?
পাকস্থলী ক্যানসারে পুরুষরা মহিলাদের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হন৷ বিশেষত যাদের বয়স পঞ্চাশের বেশি তাঁদের ক্ষেত্রে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়৷ তবে শুধু বয়স্করাই নন, এখন কম বয়সিদের মধ্যেও এই ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ছে৷ মহিলারা তুলনায় কম হলেও ব্যতিক্রম নন৷ অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস-ই পাকস্থলী ক্যানসারের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী৷ বহু বছর ধরে অ্যাসিডিটি অথবা হঠাত্‍ করেই খুব বাড়াবাড়ি ভাবে অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিলে অবিলম্বে সতর্ক হোন৷

যোগাযোগ-৯৪৩৩১২৮৭২২

আর জানতে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং