শ্রাবণ মানেই শিবের মাস। শুধু মহাদেবের জন্মমাস নয়। রয়েছে আরও নানা পুজো। প্রতি সোমবার বাবা ভোলেনাথের উপবাস রেখে পুজো দেন গৃহীরা। রয়েছে নানাবিধ নিয়ম, আচার। এসময় বাঁকে জল নিয়ে শিবের দরবারে হাজির হন হাজার হাজার ভক্ত। আর এই মাসেই আরও এক অদ্ভুত নিয়ম পালন করতে দেখা যায় মহিলাদের। বিবাহিত কিংবা অবিবাহিত, উভয় নারীরাই হাতে সবুজ চুড়ি পরেন। গোটা শ্রাবণ মাস জুড়েই এই সবুজ কাচের চুড়ি মেয়েরা হাতে পরে থাকেন। এ কিন্তু নিছক শ্রাবণের ফ্যাশন নয়, সবুজ চুরির নেপথ্যে রয়েছে ভিন্ন কারণ।
কী সেই পৌরাণিক কাহিনি?
দীর্ঘ কঠিন তপস্যার পর এই শ্রাবণ মাসেই মা পার্বতীর সঙ্গে মহাদেবের মিলন হয়েছিল। শিবকে স্বামী হিসেবে পেতে পার্বতী প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে সবুজ সেজেছিলেন। তাই বিশ্বাস করা হয়, এই মাসে সবুজ কাচের চুড়ি আর সবুজ পোশাক পরলে মা পার্বতী খুশি হন। মেলে অখণ্ড সৌভাগ্যের আশীর্বাদ। বিবাহিত নারীদের স্বামী দীর্ঘায়ু হন, সংসারে ফেরে সুখ। অবিবাহিত মেয়েরাও মনের মতো জীবনসঙ্গী পেতে এই নিয়ম মেনে চলেন।
আরও পড়ুন:

জ্যোতিষশাস্ত্রেও সবুজের মহিমা অপার। এই রঙের সঙ্গে বুধ গ্রহের সরাসরি যোগ রয়েছে। বুধ ভালো থাকলে বুদ্ধি, ব্যবসা ও কেরিয়ারে উন্নতি হয়। শ্রাবণে সবুজ চুড়ি পরলে বুধ শান্ত থাকে। যার শুভ প্রভাবে সংসারে আসে আর্থিক সমৃদ্ধি।
শাস্ত্র মতে, প্লাস্টিক বা মেটালের চেয়ে কাচের চুড়ি পরা অনেক বেশি ভালো। চুড়ির টুংটাং শব্দে চারপাশের নেতিবাচক শক্তি দূর হয়। তৈরি হয় এক পজিটিভ এনার্জি, যা মনকে শান্ত ও চনমনে রাখে।
আসলে শ্রাবণ মানেই তো বাবার আশ্রয়। প্রকৃতি তখন সবুজের চাদর গায়ে জড়ায়। তার সঙ্গে ভক্ত নিজেকে মিলিয়ে দিলে অখণ্ড শক্তির একাত্মতা অনুভূত করে। মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, এই রং চোখের ক্লান্তি দূর করে মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়। সনাতন সংস্কৃতিতে সবুজ হল নতুন জীবন আর আনন্দের প্রতীক। তাই শ্রাবণের এই সাজ আসলে জীবনকে নতুন করে উদযাপন করারই অন্য নাম।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
চালকের অশ্লীল স্পর্শ! চলন্ত অটো থেকে লাফিয়ে সম্ভ্রম বাঁচালেন তরুণী
-
‘কেন এরকম করল?’ বিশ্বকাপ জিতিয়েও বাদ, বোর্ডের সিদ্ধান্তে অবসরের কথাও ভাবেন হতাশ সূর্য
-
নেপালে খোঁজ মিলল বাংলার দু’জনের, বাকিদের কী খবর? টিম পাঠাতে চান শুভেন্দু
-
নিজের ব্যানার-পোস্টার নিজেই খুললেন মন্ত্রী শংকর, শিলিগুড়িকে সাজাতে অভিনব উদ্যোগ
-
‘শুধু অন্তর্বাস পরে একশো পুরুষের সামনে’, শুটিংয়ে বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা দিয়া মির্জার