সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গর্ভাবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া বা ‘জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস’ কি নিছকই সাময়িক সমস্যা? দীর্ঘ ৩০ বছরের এক গবেষণা বলছে, ‘না’। পুণের ম্যাটারনাল নিউট্রিশন স্টাডি বা পিএমএনএস (PMNS)-এর তথ্য অনুযায়ী, গর্ভবতী মায়ের হাই-ব্লাড সুগার আসলে তাঁর শৈশবের খাদ্যাভ্যাস ও বিপাকীয় সমস্যারই প্রতিফলন। এটি নিঃশব্দে সঞ্চারিত হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মেও।
গবেষণার তথ্য বলছে, অনেক নারীই শৈশবে সঠিক পুষ্টির অভাবে ভোগেন। শরীরে মেদ না থাকলেও, অপুষ্টির কারণে প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে ইনসুলিনের ঘাটতি তৈরি হয়। দেখা গিয়েছে, গর্ভাবস্থায় মায়ের এই পুষ্টির ভারসাম্যহীনতাই সন্তানের শরীরে ডায়াবেটিসের বীজ বুনে দেয়।

চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলা হচ্ছে ডেভেলপমেন্টাল অরিজিনস অফ হেলথ অ্যান্ড ডিজিজ। KEM হাসপাতালের ডায়াবেটিস ইউনিটের অধিকর্তা ডা. চিত্তরঞ্জন যাজ্ঞিক জানান, গর্ভে থাকাকালীন ভ্রূণ যদি সঠিক পুষ্টি না পায়, তবে তার শরীর ইনসুলিন প্রতিরোধী (Insulin Resistance) হয়ে ওঠে। পরবর্তী জীবনে আধুনিক জীবনযাত্রা ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস সেই ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ, মায়ের শৈশবের রক্তে শর্করা বেশি থাকলে, গর্ভাবস্থায় তাঁর সুগারের ঝুঁকি দ্বিগুণ এবং প্রসবের পর পাঁচ গুণ বেড়ে যায়।
গবেষকদের দাবি, গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহে সুগার পরীক্ষা করা অনেক ক্ষেত্রেই দেরি হয়ে যায়। আসল কাজ শুরু হওয়া উচিত মেয়েদের শৈশব থেকে। পশ্চিমী গাইডলাইনের বদলে ভারতীয়দের শারীরিক গঠন ও সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী চিকিৎসার নতুন দিশা প্রয়োজন। শিশুকন্যাদের স্বাস্থ্য ও সুষম খাবারের দিকে নজর দিলে তবেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।
সর্বশেষ খবর
-
জন্ম থেকে দলের ‘মালিকানা’ বদল, মমতার তৃণমূলের ২৮ বছরের ইতিবৃত্ত
-
জিনিয়াস স্পোর্টস নয়, আইএসএল আয়োজনের অধিকার খুব সম্ভবত পেতে চলেছে ক্লাবগুলি
-
ফেডারেশনের বৈঠকে রণক্ষেত্র টলিপাড়া, ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে ‘চোর চোর’ স্লোগানে ছোঁড়া হল ডিম
-
সমর্থকদের উপস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা, হোটেল আর ট্রেনিংয়ে ‘কারফিউ’ ব্রাজিলের
-
বন্ধুত্বের উপহার, প্রথমবার সংসদে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েও রাজ্যসভা আসন কংগ্রেসকে ছাড়লেন বিজয়