Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ৩০ জুন ২০২৬

জানেন, বাড়ির বয়স্কদের কীভাবে ভাল রাখবেন?

জেনে নিন কী বলছেন মনোবিদরা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯, ১২:৪০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯, ১২:৪০

options
link
জানেন, বাড়ির বয়স্কদের কীভাবে ভাল রাখবেন? zoom

প্রত্যেকের বাড়িতেই কমবেশি একজন করে বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ থাকেন। তাঁরাও কিন্তু পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই তাঁদেরও অবশ্যই ভাল থাকার অধিকার রয়েছে প্রয়োজন। অবহেলায় থাকতে তাঁরাও কখনও পছন্দ করেন না। তাই বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠদের কীভাবে ভাল রাখবেন? সেই নিয়েই আলোচনা করলেন মনোবিদ ডা. অনিরুদ্ধ দেব। তাঁর সঙ্গে কথা বললেন তিতাস

যে কোনও দু’টো প্রজন্ম কখনও একই জিনিসকে একইভাবে দ্যাখে না। দৃষ্টিভঙ্গির হেরফের থাকবে এটাই স্বাভাবিক। বর্তমানের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, এই দৃষ্টিভঙ্গির ফারাক কিন্তু যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। জীবন নির্বাহ করা, টাকাপয়সা ইনভেস্ট করা, লাইফস্টাইল, কী গান শুনব, কীভাবে সোশালাইজ করব–এ সমস্ত কিছুর গ্রাফ দুই প্রজন্মের মধ্যে এক থাকে না। সমস্যা তখনই দানা বাঁধে, যখন দুই প্রজন্মই ভেবে বসে– সে যা করছে, সেটাই সম্পূর্ণ ঠিক, অন্য প্রজন্মের মানুষটি ভুল, দায় সমস্ত তার এবং তা নিরর্থক। যাঁরা বয়স্ক, তাঁদের মনে হয়, যেহেতু তাঁরা অভিজ্ঞতায় প্রবীণ, সুতরাং তাঁদের কথা নতুন প্রজন্ম শুনে চলবে। অন্যদিকে বর্তমান প্রজন্ম মনে করে, তারা যেহেতু পারিপার্শ্বিক জগৎ সম্পর্কে বয়োজ্যেষ্ঠদের চেয়ে বেশি ওয়াকিবহাল, তাই তারাই ঠিক এবং তাদের কথাতেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[দুর্দান্ত আপডেট নিয়ে হাজির WhatsApp, এবার ভিডিও দেখা আরও সহজ]

সাধারণত দেখা যায়, ভুল বোঝাবুঝির সূত্রপাত বয়স্কদের দিক থেকে বেশি হয়, কারণ আমাদের দেশে ছোট থেকে এটাই শেখানো হয়, বড়রা যা বলেন, তা ছোটদের শুনতে হয়। এটাই নিয়ম। সুতরাং যখনই এই চেনা গণ্ডির বাইরে কোনও ঘটনা ঘটে, বিরোধ আসে। বিরোধের ফলে বয়স্ক মানুষরা মনে করেন যে, তাঁরা প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত। তাঁদের যৌবনে তাঁরা আগের প্রজন্মের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন, কিন্তু এখন বর্তমান প্রজন্মের কাছে তিনি সে ধরনের গুরুত্ব পাচ্ছেন না। প্রবীণ-নবীনের সমস্যা বা বিরোধের কারণে একটা কথা নতুন প্রজন্মকে মনে রাখতে হবে, তা হল, বয়স্কদের পক্ষে নমনীয় হওয়া কঠিন। এটা বয়সের নিয়ম। সুতরাং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সিংহভাগ দায়িত্ব নিতে হবে নতুন প্রজন্মকেই।

[বিয়ে না করলেই নির্ঘাত স্মৃতিভ্রংশ! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা]

যার বয়স কুড়ি-তিরিশের কোঠায়, তার পক্ষে বিচার-বিবেচনা করে মাথা ঠান্ডা রাখা যতটা সহজ, একজন ষাটোর্ধ্ব মানুষের পক্ষে তত সহজ হয় না মানিয়ে চলা বা নতুন কোনও পরিবর্তনকে মেনে নেওয়া। অন্যদিকে বয়স্কদের যেহেতু অভিজ্ঞতা বেশি, তাঁদের এই অভিজ্ঞতায় ভর করে এটাও বুঝতে হবে যে, ছোটরা যা বলছে, তা হয়তো পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিচার করে বলছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা কিন্তু বয়স্কদের অনেকটাই কম। বয়োজ্যেষ্ঠরা যে শিক্ষা নিয়ে বড় হয়েছেন, তা তাঁদের কাছে পরিষ্কার হলেও বর্তমান পরিস্থিতি বোঝা সহজ নয়। নতুন প্রজন্মকে বুঝতে হবে, তারা যে বাড়িতে, যাঁদের সঙ্গে রয়েছে, তাঁদের কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে, কারণ সমস্ত নিয়মের রদবদল করা সম্ভব নয়। সঙ্গে এটাও মাথায় রাখতে হবে, তার পক্ষে তার চেনা নিয়ম মেনে চলা কতটা সহজ, বড়দের জন্য নতুন নিয়মে নিজেকে অভ্যস্ত করে তোলা ততটা সহজ নয়। এর পাশাপাশি বড়দের মনে রাখতে হবে, যদি ছেলে-মেয়ে-বউমা আমার সঙ্গে থাকে এবং তাদের যদি বাড়ি ফিরতে রাত হয়, কাজের সূত্রে অফিস পার্টি অ্যাটেন্ড করতে হয়, বা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে মাঝেসাঝে সে সাক্ষাৎ করে, তাতে কোনও ক্ষতি হয় না। আমি সন্ধে ছ’টায় চিরকাল বাড়ি ফিরেছি বলে আমার ছেলে-মেয়েও একই রুটিন মেনে চলবে, এমন আশা করা ভুল। কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট বড়দেরও করতে হবে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে। যে কোনও একপক্ষ যদি কোনওভাবেই নরম না হয়, তখনই দেখা দেয় সমস্যা, সুতরাং দুই তরফকেই নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলের দায়িত্ব নিতে হবে।

old-woman_web

বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে আরও একটা সমস্যা কাজ করে, তা হল নিজেকে অপ্রয়োজনীয় ভেবে ফেলা। ছেলে-মেয়ে আমার কথা মানছে না, তার মানে, আমার এই পরিবারে কোনও প্রয়োজন নেই। এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে নিজেকে বের করতে হবে এবং বেঁচে আছেন, তাঁর প্রয়োজন রয়েছে, সঙ্গে ছোটদেরও আশ্বাস জোগাতে হবে যে, মনোমালিন্য হলেই বড়দের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় না। এমন অনেক বয়স্ক মানুষ রয়েছেন এই নিরাপত্তাহীনতা থেকে ওষুধপত্র খাওয়া বন্ধ করে দেন। বাঁচার আর কোনও মানে খুঁজে পান না। তাঁদের উদ্দেশ্যে বলা, আপনার অবসর সময়কে কাজে লাগান। সাধারণত অবসরপ্রাপ্ত মানুষের মধ্যে এ ধরনের হীনমন্যতা, নিরাপত্তাহীনতা, অপ্রয়োজনীয় বোধ করার প্রবণতা বাড়ে। তাই হবি গড়ে তুলুন। বয়স্কদের অভিমান বেশি হয়, যার কারণে সমস্যা আরও দৃঢ় হয়। কথা বলা বন্ধ করে দেওয়া, ওষুধপত্র না খাওয়া, খাওয়াদাওয়া ঠিকমতো না করা-এ সমস্ত অভিমানের লক্ষণ। এক্ষেত্রে বয়স্ক মানুষটিকে বুঝতে হবে, তাঁর এই অভিমানে কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় না, পারস্পরিক আলোচনা ও খানিক কম অভিমান ও জেদের থেকেই আসতে পারে সমাধান।

nepal-old-man-1

বয়স্ক মানুষদের মধ্যে আরও একটা সমস্যা হল, কানে কম শোনা এবং তা মেনে নিতে সংকোচ। এর প্রধান কারণ হল, ঘ্রাণ ও শ্রবণের ওপর আমাদের ভরসা না থাকা। দেখা ও স্পর্শের ওপর আমরা বেশি গুরুত্ব দিই। সুতরাং শ্রবণশক্তি যখন কমে, তখন তা আমরা দৃষ্টি কমে যাওয়ার মতো করে গুরুত্ব দিই না। বাসের নম্বর না পড়তে পারা, সুচে সুতো না ভরতে পারাকে আমরা সমস্যারূপে দেখলেও, কানে কম শোনা নিয়ে সেভাবে মাথা ঘামাই না। এক্ষেত্রে উপায় বলতে যিনি কানে কম শুনছেন, তাঁকে বুঝতে হবে শ্রবণযন্ত্র নেওয়াতে কোনও ক্ষতি নেই, বয়সের সঙ্গে কম শোনা, দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হওয়ার মতোই স্বাভাবিক। সবশেষে বড়দের মনে রাখতে হবে, অবসর নেওয়া বা ছেলে-মেয়ে ব্যস্ত হয়ে যাওয়া মানে সব শেষ নয়। বরং চেষ্টা করতে হবে নতুন অধ্যায় শুরু করার, হারিয়ে যাওয়া পুরনো কোনও শখ ডেভেলপ করা। মাঝেমধ্যে বেড়াতে যাওয়া ও মন ভাল রাখা। কিছু না হোক নানারকম বইপত্র পড়ে দেখা, গান শোনা, আর পাঁচজনের সঙ্গে কথা বলা, আড্ডা দেওয়া। ছোটদের দায়িত্ব যতটা সম্ভব মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া, যাতে দু’পক্ষের কেউই আঘাত না পায় এবং ভুল বোঝাবুঝি তৈরি না হয়।

[বিয়ের আয়োজনে গলদঘর্ম? ইভেন্ট সামলাতে হাজির শহরের ওয়েডিং প্ল্যানাররা]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.