প্রথম দিকে তেমন কোনও উপসর্গ থাকে না বলে, অনেক সময় দেরিতে ধরা পড়ে কিডনির অসুখ। নিয়মিত পরীক্ষা ও জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তনই পারে কিডনিকে সুস্থ রাখতে। কীভাবে কিডনিকে সুস্থ রাখবেন? কোন কোন উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হবেন? বিশ্ব কিডনি দিবসে সে সব বিষয়েই আলোকপাত করলেন ডিসান হসপিটালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট নেফ্রোলজিস্ট
কিডনি দিবস কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
কিডনির অসুখ এখন আর কোনও বিরল রোগ নয়, এটি ক্রমশ কমন অসুখ হয়ে উঠছে। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বে প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন কোনও না কোনও ধরনের কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। অথচ রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনও উপসর্গই থাকে না। এই কারণেই কিডনি রোগ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে আলাদা করে বিশ্ব কিডনি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত। অনেক রোগীই চিকিৎসকের কাছে পৌঁছন তখন, যখন কিডনির অসুখ অ্য়াডভান্স স্টেজে। সেই সময় ডায়ালিসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। যা বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় অনেকের পক্ষেই ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। তাই কিডনিকে কীভাবে সুস্থ রাখা যায়, সেই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই দিনটির মূল উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন:

কখন সতর্ক হবেন?
কিডনিতে সমস্যা দেখা দিলে কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন-
- খিদে কমে যাওয়া
- রুচি না থাকা
- বমি বমিভাব
- অস্বাভাবিক দুর্বলতা
- সামান্য কাজ করলেই শ্বাসকষ্ট
- সারা শরীরে চুলকানি
এই লক্ষণগুলোর কোনওটি দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কোন কোন পরীক্ষায় ধরা পড়ে কিডনির সমস্যা?
কিডনির সমস্যা বোঝার জন্য খুব সাধারণ কিছু পরীক্ষাই যথেষ্ট। যেমন-
- রক্তের ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা
- রুটিন ইউরিন টেস্ট
- এসিআর (অ্যালবুমিন ক্রিয়েটিনিন রেশিও)
- কিডনির আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (ইউএসজি)
এই পরীক্ষাগুলির মাধ্যমে অনেক সময় উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই কিডনির গঠন ও কার্যকারিতার সমস্যা ধরা সম্ভব।

কিডনিকে ভালো রাখতে কী করবেন?
কিডনির অসুখের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করে দুটি রোগ- ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ। এগুলো অনিয়ন্ত্রিত মানেই কিডনির ক্ষতির আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়া।
তাই কয়েকটি অভ্যেস মেনে চলা জরুরি-
- নিয়মিত হাঁটা ও শরীরচর্চা
- সক্রিয় জীবনযাপন
- ধূমপান ও মদ্যপান পুরোপুরি এড়ানো
- দিনে ৫ গ্রামের বেশি নুন না খাওয়া
- মিষ্টি, কেক, পায়েস ইত্যাদি কম খাওয়া
নিজের ইচ্ছায় ওষুধ নয়
ওভার দ্যা কাউন্টার ওষুধ, বিশেষ করে পেইন কিলার দীর্ঘদিন খাওয়া কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এনএসএআইডি গ্রুপের ব্যথার ওষুধ দীর্ঘদিন খেলে কিডনির উপর চাপ পড়ে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ধরনের ওষুধ এড়িয়ে চলাই ভালো।
সুগার ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন
কিডনিকে সুস্থ রাখতে সবচেয়ে জরুরি—
- নিয়মিত সুগার পরীক্ষা
- নিয়মিত রক্তচাপ মাপা
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া
এই অভ্যাসগুলো বজায় রাখলে কিডনির স্বাস্থ্য অনেকটাই ভালো রাখা সম্ভব।

জল কতটা পান করা উচিত?
প্রতিদিন ঠিক কতটা জলপান করতে হবে, তার কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। এটি নির্ভর করে-
- কতটা ঘাম হচ্ছে
- খাবারে কতটা নুন থাকছে
- শরীরের দৈহিক কার্যকলাপের উপর
তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, শরীর যেন কখনওই ডিহাইড্রেট বা জলশূন্য় না হয়। যাঁদের কিডনির অসুখ নেই, তাঁরা তেষ্টা পেলে প্রয়োজনমতো জল পান করবেন। অন্যদিকে, যাঁদের কিডনি খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে বা প্রায় কাজই করছে না, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জল কম পান করতে হবে।
পা ফুললেই কি কিডনির অসুখ?
পা ফোলা অনেক কারণেই হতে পারে, তবে অনেক সময় এটি কিডনির সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে যা করতে হবে-
- রক্ত ও মূত্র পরীক্ষা
- সোডিয়াম, অর্থাৎ, নুন কম খাওয়া
- চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খাওয়া
এছাড়া নিয়মিত ওজন মাপা গুরুত্বপূর্ণ। যদি হঠাৎ করে দ্রুত ওজন বাড়তে থাকে, তবে বুঝতে হবে শরীরে জল জমছে এবং সে কারণেই পা ফুলছে।
মনে রাখুন
কিডনির অসুখ অনেক সময় নীরবে শরীরে বাড়তে থাকে। তাই উপসর্গের জন্য অপেক্ষা না করে নিয়মিত পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই পারে কিডনিকে সুস্থ রাখতে।
(অনুলিখন- প্রীতিময় রায় বর্মন)
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ফরেস্ট রেঞ্জার-গার্ডদের বেতনবৃদ্ধি, ‘গাছ লাগিয়ে ছবি দিলেই হবে না’, সবুজায়নে কড়া শুভেন্দু
-
বাংলাদেশেই সম্ভব! খাসির মাংস না পেয়ে বিয়ে না করেই চলে গেলেন প্রবাসী পাত্র
-
দেশের ১৪ মুখ্যমন্ত্রী, ৩২৬ সাংসদ ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত! সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট পেশ
-
অন্নপূর্ণার টাকা পাননি? নাম বাদ যাওয়ার কারণ জানুন এই পদ্ধতিতে, রইল ফের আবেদনের পদ্ধতিও
-
এসিএল ২-তে ‘শক্ত’ গ্রুপে ইস্টবেঙ্গল! প্রতিপক্ষ কেমন? কোন কোন দেশে যেতে হবে?