ছানি কাটাতে ঢিলেমি করবেন না। বয়সকালে চোখের বেশিরভাগ ক্ষতি ছানি পেকে গিয়ে। জানুন অপথালমোলজিস্ট ডা. অসৃক মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য।
যে অপারেশনের নাম শুনলে মানুষ সবচেয়ে কম ভয় পান, সেটা হল চোখের ছানি অপারেশন। ভয় নেই ভেবে অপারেশনে গাফিলতিও করেন অনেকেই। এখানেই ভুল করেন। সাধারণ সমস্যাটা জটিল হয় যদি অপারেশন না করে দীর্ঘদিন ছানি ফেলে রাখা হয়।
চোখে ছানি, আসলে কী?
আমরা কীভাবে দেখি? একটু বুঝিয়ে বলি, আমাদের চোখে ক্যামেরার ফিল্ম বা সেন্সরের অনুরূপ রেটিনা নামক একটি নিউরোনাল স্তর রয়েছে। এবং এর সামনে রয়েছে লেন্স (ক্যামেরার লেন্সের মতো) যা আলোক রশ্মিকে রেটিনার উপর ফোকাস করতে কাজ করে। সাধারণত এই লেন্স স্বচ্ছ হয়। কিছু পরিস্থিতিতে লেন্সের স্বচ্ছতা হারিয়ে যায় (সাধারণত বয়সের কারণে), যার ফলে রেটিনায় রশ্মির সংক্রমণ হ্রাস পায়। এই অবস্থাটি ছানি হিসাবে পরিচিত।

আগের মতো এখন নয়, তাই ফেলে রাখবেন না
লেন্সের এই অস্বচ্ছতা (ছানি) সহজেই একটি সাধারণ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সংশোধন করা যেতে পারে যেখানে চক্ষু সার্জন অস্বচ্ছ লেন্স বের করে একটি পরিষ্কার কৃত্রিম লেন্স দিয়ে প্রতিস্থাপন করবেন। অতীতে, যখন অস্ত্রোপচারের কৌশলগুলি জটিল ছিল এবং তখন তেমনভাবে সফলও হত না অপারেশন, সেই সময় আমরা এটি প্রতিস্থাপনের আগে লেন্সটি সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতাম। তবে বর্তমানে নতুন ফেকো মেশিনের আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে আরও ভালো ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য অস্ত্রোপচারের সময়ও এগিয়ে আনা হয়েছে। অনেক লোক তাঁদের চোখে অস্ত্রোপচার করতে দেরি করেন, তাই এখন অধিকাংশ রোগী আমরা পাই, যাঁরা খুব পরিপক্ব ছানি নিয়ে আসেন।
[আরও পড়ুন: ফ্রিজ পরিষ্কার করার সহজ উপায়, গরমের সময় এই ট্রিক দারুণ কাজে লাগবে]
দেরি করলে জটিল হয়
পরিপক্ব ছানি থেকে রোগীর দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা শুরু হয়। কাজ করতে নানা অসুবিধার সঙ্গে আরও জটিলতাও প্রকাশ পায়। ছানির পরিপক্বতা লেন্সের ব্যাগ বা ক্যাপসুলকে খুব পাতলা করে তোলে, অস্ত্রোপচারের প্রক্রিয়াটিকে অহেতুক জটিল করে। কিছু ক্ষেত্রে, আদর্শ ব্যাগে লেন্স স্থাপন করাও অসম্ভব হতে পারে। এর ফলে অস্ত্রোপচার পরবর্তী রোগীদের মোটা চশমা পরতে হয় বা একই চোখে একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হয় যা একজন বৃদ্ধ রোগীর পক্ষে কঠিন।
একটি পরিপক্ব ছানির জন্য অস্ত্রোপচারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হয়, কারণ আরও ম্যানিপুলেশন বা ফেকো-শক্তি প্রয়োজন হয়। এতে কর্নিয়ার ক্ষতি হতে পারে, বা ছানি রেটিনার ওপর পড়তে পারে। এই সমস্তগুলি পরবর্তীকালে দৃষ্টি ফিরে পেতে অসুবিধা সৃষ্টি করে এবং সংশোধন করার জন্য একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন।

কখনও কখনও পরিপক্ব লেন্সটি এত ফুলে যায় যে এটি ফেটে যায়। যার ফলে চোখের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং তীব্র ব্যথা হয়। এমনকী, এটি অন্ধত্বের কারণও হতে পারে।
পরিপক্ব ছানি আমাদের পিছনে লুকিয়ে থাকা রেটিনার অবস্থা জানতে বাধা দেয়। অনেক রোগীর অতিরিক্ত রেটিনাল প্যাথলজি থাকতে পারে যা ছানির কারণে দীর্ঘকাল ধরে শনাক্ত করা যায় না। রেটিনার এই ব্যাধিগুলি প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা গেলে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিকিৎসা করা যেতে পারে।
এই সমস্ত তথ্য মাথায় রেখে, ছানি অস্ত্রোপচারের সাম্প্রতিক নির্দেশিকাগুলি এমনভাবে সংশোধন করা হয়েছে যাতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছানি অপারেশন করা হয়। বর্তমানে আমাদের কাছে নতুন আধুনিক আর্টিফিকাল লেন্স রয়েছে যা রোগীর নিজস্ব লেন্স দ্বারা প্রদত্ত দৃষ্টি অনুকরণ করে। সুতরাং দেখতে অসুবিধা হলে, প্রাথমিক লক্ষণেই ছানি অস্ত্রোপচার করা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদে আরও ভালো জীবন নিশ্চিত করে। দেরি করলে আপনিই পাঁকে পড়বেন। মনে রাখবেন, চোখই হল মনের আয়না।