Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
LPG Crisis

গ্যাস সংকটে এবার অমিল হতে পারে প্যারাসিটামল! সিরিঞ্জ, গ্লাভসের জোগানেও আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধ উৎপাদন বন্ধ হলে বাজারে তার প্রভাব পড়তে বেশি সময় লাগবে না। বেশিরভাগ কোম্পানির কাছে ১৫ থেকে ৩০ দিনের মতো ওষুধ মজুত থাকে। বড় সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে তা তিন থেকে ছ'মাস পর্যন্ত থাকতে পারে। কিন্তু উৎপাদন থমকে গেলে কয়েক মাসের মধ্যেই বাজারে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৫, ২০২৬, ১৫:৫৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৫, ২০২৬, ১৫:৫৬

options
link
গ্যাস সংকটে এবার অমিল হতে পারে প্যারাসিটামল! সিরিঞ্জ, গ্লাভসের জোগানেও আশঙ্কা zoom
যুদ্ধের আঁচ এবার ওষুধেও! ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যালের (LPG Crisis) সরবরাহে টান পড়েছে। তার প্রভাব এবার ভারতের ওষুধ শিল্পেও পড়তে শুরু করেছে। ফলে খুব সাধারণ ও জরুরি ওষুধ যেমন প্যারাসিটামল, এমনকি সিরিঞ্জ ও গ্লাভসের মতো চিকিৎসা সামগ্রীর উৎপাদনেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ওষুধ শিল্পের বিভিন্ন সংগঠন কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়েছে, কোভিডের সময়ের মতো ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে ‘অত্যাবশ্যক পরিষেবা’ হিসেবে বিবেচনা করে গ্যাস সরবরাহ যেন বাধাহীন রাখা হয়।

ওষুধ তৈরিতে গ্যাস অত্যন্ত জরুরি
ওষুধ তৈরির নানা ধাপে এলপিজি বা পিএনজি গ্যাসের প্রয়োজন হয়। বয়লার চালানো, গ্রানুলেশন, স্টেরিলাইজেশন- সব ক্ষেত্রেই গ্যাসের প্রয়োজন। ভারতের ওষুধ শিল্পের বড় অংশই ছোট ও মাঝারি সংস্থার হাতে, আর তারা প্রায় পুরোপুরি গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। বড় কোম্পানিরা কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারে, কিন্তু ছোট সংস্থাগুলোর সেই সুযোগ নেই।

Advertisement
paracetamol syringe gloves shortage pharma lpg crisis
ছবি: সংগৃহীত

উৎপাদন বন্ধ হলে দ্রুত প্রভাব পড়বে
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধ উৎপাদন বন্ধ হলে বাজারে তার প্রভাব পড়তে বেশি সময় লাগবে না। বেশিরভাগ কোম্পানির কাছে ১৫ থেকে ৩০ দিনের মতো ওষুধ মজুত থাকে। বড় সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে তা তিন থেকে ছ’মাস পর্যন্ত থাকতে পারে। কিন্তু উৎপাদন থমকে গেলে কয়েক মাসের মধ্যেই বাজারে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

পেট্রোকেমিক্যাল ঘাটতিও বাড়াচ্ছে সমস্যা
বাড়ির গ্যাসের সরবরাহ ঠিক রাখতে সরকার কিছু ক্ষেত্রে পেট্রোকেমিক্যালের সরবরাহ কমিয়েছে। এর ফলে ওষুধ শিল্পে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রোপিলিনের সরবরাহ কমেছে। এই প্রোপিলিন থেকে তৈরি হয় ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রেড আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল (আইপিএ), যা অনেক ওষুধের আবরণ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। কাঁচামাল না পেলে আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে প্রায় ২০০টি উৎপাদনকারী সংস্থাকে কারখানা বন্ধ করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

paracetamol syringe gloves shortage pharma lpg crisis
ছবি: সংগৃহীত

আমদানিও সহজ নয়
ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রেড আইপিএ সহজে বিদেশ থেকে আমদানি করা যায় না, কারণ পরিবহণের সময় দূষণের ঝুঁকি থাকে। তাই দেশীয় উৎপাদন বন্ধ হলে সমস্যার দ্রুত সমাধান পাওয়া কঠিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোপিলিন পুরোটা আইপিএ তৈরিতে ব্যবহার করলেও দেশের মোট এলপিজি চাহিদা মাত্র ০.৩৬ শতাংশ বাড়বে। কিন্তু সরবরাহ বন্ধ থাকলে অন্তত ১৪ ধরনের জরুরি ওষুধের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।

সিরিঞ্জ, গ্লাভস ও পিপিই তৈরিতেও প্রভাব
শুধু ওষুধ নয়, প্রোপিলিন ও বেনজিন ব্যবহার হয় গ্লাভস, পিপিই কিট এবং সিরিঞ্জ তৈরিতেও। তাই কাঁচামালের ঘাটতি দীর্ঘদিন চললে এইসব চিকিৎসা সরঞ্জামগুলির উৎপাদনেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ওষুধ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলি দেশের সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে, যাতে গ্যাস ও কাঁচামালের সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে ওষুধ উৎপাদনকে সচল রাখা যায়।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.