সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা। অন্যরকম এক শখ। জানলার কার্নিশে আসা পায়রাদের রোজ খাওয়ান তিনি। একটি বা দুটি নয়, একদল পায়রার ঝাঁক। আর তাঁর এই রোজকার মহৎ অভ্যাসই এবার বিপদে ফেলল তাঁকে। ঠিক কী ঘটেছে? জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি আদালত তাঁকে ৩,২০০ সিঙ্গাপুরি ডলার জরিমানা করা হয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমান ২ লাখ টাকার উপরে। আপাতদৃষ্টিতে এই ঘটনাটিকে অদ্ভুত ও অমানবিক মনে হলেও, এর নেপথ্যে রয়েছে গভীর এক জনস্বাস্থ্য সংকট। কেন আদালত এমন সিদ্ধান্ত নিলেন ৭১ বছর বয়সি ওই বৃদ্ধার বিরুদ্ধে? চিকিৎসকরা কারণ খুঁজে বলছেন, পায়রাকে খাওয়ানো আসলে শহরবাসীর ফুসফুসে মারণ রোগের বীজ বপন করার সামিল।

আরও পড়ুন:
সিঙ্গাপুর ছাড়াও চিন, হংকং, জার্মানি এবং ইতালির ভেনিসের মতো একাধিক শহরে বন্য পাখিদের খাওয়ানো আইনত দণ্ডনীয়। এর মূল কারণ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পায়রার অত্যধিক বংশবৃদ্ধি। এদের বিষ্ঠা থেকে যে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়, তা বাতাসের মাধ্যমে মানুষের শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে। এই জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণেই আন্তর্জাতিক স্তরে কড়া আইনের পথে হাঁটছে বহু দেশ। এমনকী ভারতও। দিল্লিতে এই সমস্যা অত্যন্ত বেশি। ভুগছেন বহু রোগী।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় পায়রার বিষ্ঠা এক মারাত্মক সংক্রমণবাহী মাধ্যম। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক রোগটি হল ‘হাইপারসেনসিটিভিটি নিউমোনাইটিস’। একে অনেক সময় ‘বার্ড ফ্যান্সিয়ার্স লাং’ বলা হয়। পায়রার শুকনো বিষ্ঠা ও পালকের ধুলো ফুসফুসে প্রবেশ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়, যা ফুসফুসের কোষকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
কী কী রোগ ছড়ায়?
হিস্টোপ্লাজমোসিস: এক ধরনের ছত্রাকঘটিত রোগ।
ক্রিপ্টোকোকোসিস: যা সরাসরি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বা ফুসফুসে আঘাত হানে।
ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন: সিটাকোসিসের মতো সংক্রমণ যা শ্বাসকষ্ট তৈরি করে।

লক্ষণ কী?
রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলি অনেকটা সাধারণ সর্দি-কাশির মতো। শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, জ্বর এবং বুকে টান অনুভব করা এর প্রধান উপসর্গ। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর ওজন কমে যায়। সবসময় ক্লান্তি অনুভব করে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো ধরা না পড়লে ফুসফুসে স্থায়ী ক্ষত বা ‘ফাইব্রোসিস’ তৈরি হতে পারে।
জানুন চিকিৎসাপদ্ধতি
চিকিৎসার প্রথম ধাপ হল পাখি বা বিষ্ঠার সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকা। গুরুতর ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের সাহায্য নেন। তবে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই এখানে শ্রেষ্ঠ উপায়। খোলা জায়গায় পায়রাকে খাবার দেওয়ার অর্থ হল তাদের লোকালয়ে আমন্ত্রণ জানানো, যা প্রকারান্তরে রোগ ডেকে আনা। নিজেদের শ্বাসযন্ত্রকেই বিপন্ন করা।
সিঙ্গাপুরের ওই বৃদ্ধা এর আগে ওই একই অপরাধে ১,২০০ ডলার জরিমানা গুনেছিলেন। বারবার আইনের তোয়াক্কা না করায় আদালত এবার কড়া অবস্থান নিয়েছে। চিকিৎসকদের সাবধানবাণী— শখের বশে পায়রাকে খাওয়াতে গিয়ে তা যেন শহরবাসীর জন্য বিষ হয়ে না দাঁড়ায়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এবার মাদ্রাসাতেও জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা, নির্দেশিকা জারি স্বাস্থ্যদপ্তরের
-
বিশ্বকাপের ‘দ্বিতীয়’ উদ্বোধনী মঞ্চে আগুন ধরালেন নোরা, কানাডা কাঁপালেন ‘বাংলাদেশি’ ডিজে
-
জুটত না থালাভর্তি ভাতও! অভাবকে পরাস্ত করে আকাদেমি পুরস্কার পাচ্ছেন ২ ছৌ শিল্পী
-
‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যেতেই পদ খোয়ালেন মালা রায়, মহিলা তৃণমূলের নতুন সভানেত্রী কে?
-
সড়কপথে ৩৫০ কিমি পাড়ি, বাংলাদেশ পৌঁছলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী