BREAKING NEWS

১৫ অগ্রহায়ণ  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ৩ ডিসেম্বর ২০২০ 

Advertisement

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইচ্ছেমতো পোস্ট, অজান্তে নিজের বিপদ ডেকে আনছেন কি?

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: December 12, 2017 12:22 pm|    Updated: September 19, 2019 5:25 pm

An Images

টিটুন মল্লিক: ইচ্ছে হল, একটি পোস্ট করে দিলেন। সে দিন আর নেই। আপনার একটি ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট নাড়িয়ে দিতে পারে গোটা দুনিয়া। হয়ে যায় ভাইরাল। শুধু তাই নয়, আপনিও জড়িয়ে যেতে পারেন সাইবার ক্রাইমে। কারণ আপনার মন্তব্য বা পোস্ট ই-এভিডেন্স আইনকে লঙ্ঘন করলে পেতে পারেন শাস্তি। তাই নিজের সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে সচেতন না হলে আপনিও পড়ে যাবেন আইনের ফাঁদে।

[কেজি প্রতি ভরতুকি, সার কিনতে গিয়ে প্রতারণার ফাঁদে কৃষকরা]

ভাইরাল না ভাইরাস?

ভাইরাল আসলে ভাইরাস। আপনার নিজস্ব মতামত ভাইরাল হতে পারে। নিজের তোলা কোনও ছবিও ছড়িয়ে যেতে পারে। কখন ছড়ায়? কেন ছড়ায়? কারা ছড়ায়? এই তিনটি প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর এখনও মেলেনি। তবে সাধারণভাবে বলা যায়, তা যদি বিতর্কিত হয় তাহলে নিশ্চিত ভাইরালের ভাইরাস আপনাকে আক্রমণ করবে। যেখানেই বিতর্ক, সেখানেই ভাইরাল। ফলে সাবধান। বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়াই মঙ্গল। একটি কলেজের অনুষ্ঠানে এমনই বক্তব্য রাখছিলেন এক অধ্যাপক। উপস্থিত ছাত্ররা বললেন একেবারে ঠিক কথা। প্রত্যেকের হাতেই রয়েছে অত্যাধুনিক স্মার্টফোন। অনবরত হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ররকম পোস্ট চলছে। কিন্তু নজরদারি চলছেই।

[সরকার পাঠাচ্ছে খাদ্যসামগ্রী, কোন চক্র উধাও করছে রেশনের চাল-গম?]

বাড়তি সোশ্যাল থেকে ‘অ্যান্টি’ সোশ্যাল

আপনারও ফেসবুক আছে। হোয়াটসআপে চ্যাট করেন। কিন্তু সে ব্যাপারে কতটা সতর্ক আপনি। চোখ কান খোলা না রাখলে আপনি ‘সোশ্যাল’ থেকে যে কোনও সময় ‘অ্যান্টি সোশ্যাল’ হয়ে যেতে পারেন। কারণ অন্তর্জালের দুনিয়ায় অপরাধ বাড়ছে। যার টিকি খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশও। আপনার সাইটে ঢুকে অপরাধ করে বেরিয়ে গেল অপরাধী। মাঝখান থেকে পুলিশ আপনাকে পাঠাল শ্রীঘরে। ব্যাপারটা ‘মোচওয়ালা খেয়ে গেল আর দাড়িওয়ালা ধরা পড়ার’ মতো অবস্থা হল আপনার। সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও সতর্ক হওয়ার আবেদন নিয়ে প্রচার শুরু করেছে প্রশাসন। পুলিশের পক্ষ থেকে হ্যান্ডবিলে, হোয়াটসআপে, প্রচার চলছে। মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে বিভিন্নভাবে।

[ঘিতে মিশছে রাসায়নিক-চর্বি, কীভাবে ভেজাল ধরবেন?]

চর্তুদিকে ফাঁদ

কোনটা সাইবার ক্রাইম। কী করলে আপনার অপরাধ আইনের আওতায় মধ্যে পড়ে যাবে। সে নিয়ে গবেষণার শেষ নেই প্রশাসনের। কারণ আপনি নিজেও জানেন না কোথায় কীভাবে জড়িয়ে পড়ল আপনার একটুকরো লেখা বা পোষ্ট করা ছবি। ধরুন আপনি আপনার জন্মদিনের ছবি পাঠালেন বা আপনার অসতর্ক মুহূর্তের ছবি তুলে নিল কোনও সতর্ক ক্যামেরা। তারপর আপনিই জড়িয়ে পড়লেন অন্তর্জাল চক্রে। প্রশাসনের মাথাব্যথা বাড়িয়ে প্রতিদিন নানা ভাবে, নানা কায়দায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে অপরাধের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। তৈরি হচ্ছে বাদুড়িয়া, বারাসত, ইলামবাজার কিংবা সিউড়ির মতো ঘটনা। প্রত্যেকের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিতে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানি নানা প্ল্যান আনছে। স্মার্ট হওয়ার দৌড়ে অর্ন্তজালের অপরাধ দুনিয়ায় ভারতের তালিকা ওপরের দিকে। কারণ বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসাবে ভারত দ্বিতীয় স্থানে। সরকারি হিসাবে প্রতি মিনিটে ভারতে একটি করে সাইবার ক্রাইমের ঘটনা ঘটছে। তথ্য বলছে ২০১৬ সালে অপরাধ হয়েছে কুড়ি হাজারের বেশি। একবছর আগেই সাইবার অপরাধের সংখ্যা ছিল ১১৩৩১ টি। অর্থাৎ ১২ মাসে অপরাধের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুন হয়েছে।

ফেসবুক

সতর্কতার ১০ বিধি

সাইবার ক্রাইমের অপরাধীদের নিশানায় থাকে মহিলা ও নাবালকরা। তাদেরকে টার্গেট করা তুলনামূলক সহজ। কীভাবে সতর্ক হবেন। তার কিছু দাওয়াই রইল।

১) ফেসবুকে যে কোনও ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট এলে তা অ্যাকসেপ্ট বা স্বীকার করা যাবে না। যাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন তার সঙ্গেই বন্ধুত্বের হাত বাড়ান।

২) পাসওয়ার্ড মজবুত হওয়া চাই। প্রয়োজনে একাধিকবার পাসওয়ার্ড পালটাতে হবে।

৩) ফেসবুকে বা হোয়াটসঅ্যাপে ছবি বা লেখা পোস্ট করার আগে কয়েকবার দেখে পাঠাতে হবে।

৪) মোবাইল অপরিচিত কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।

৫) মোবাইল মেরামতি করতে দেওয়ার আগে ব্যক্তিগত সব ডেটা সরিয়ে নিতে হবে। কারণ একবার কোনও ব্যক্তিগত ডেটা সাইবার ওয়ার্ল্ডের হাতে চলে গেলে সেটা ভাইরাল হওয়া থেকে রোখা খুব মশকিল।

৬) কোনও গুজব বা আজগুবি পোস্ট থেকে সতর্ক থাকতে হবে।

৭) দাঙ্গা, জাতিগত, ধর্মীয় কোনও উত্তেজনাকর পোস্ট করা যাবে না।

৮) কোনও লোকের অনুমতি ছাড়া তাদের ছবি আপলোড, নৈব নৈব চ।

৯) কোনও বিতর্কিত মন্তব্য শেয়ার বা লাইক বা মন্তব্য করার আগে নিজে একবার বুঝুন।

[দেখতে ছানা টাটকা, দুধ কাটাতে ব্যবহার হচ্ছে ‘বিষ’]

আইনের ৬ দফা

যত দিন যাচ্ছে সাইবার ক্রাইম নিয়ে নতুন নতুন আইনের ধারা যোগ হচ্ছে। জেলায়  জেলায় পুলিশ আধিকারিকদের সে ব্যাপারে সচেতন করা হচ্ছে। তৈরি হয়েছে সাইবার অ্যান্ড ই এভিডেন্স ল’। যাতে জামিনঅযোগ্য ছটি ধারা যোগ হয়েছে।

১) জাতি, ধর্ম, গোষ্ঠী নিয়ে ঐক্য নষ্ট করলে তিন বছরের কারাদণ্ড।

২) ধর্মস্থানের উপর অবমাননাকর লেখা বা তার পবিত্রতা নষ্ট করলে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৫ ধারায় মামলা।

৩) কোনও ধর্মীয় বিশ্বাসকে অমর্যাদা করলে বা বিদ্বেষ ছড়ালে  তিন বছরের কারাবাস।

৪) শত্রুতা, ঘৃণা, গুজব ছড়ালে ৫০৫ ধারায় তিন বছরের জেল।

৫) বেআইনি জমায়েতে অংশগ্রহণকারী সকলেই অজামিনযোগ্য ধারায় অভিযুক্ত হবেন।

৬) জাতীয় সড়কের ওপর কোনও বেআইনি কার্যকলাপে ৮ বি ধারায় ৫ বছরের জেল হবে।

এইসব কারণে প্রশাসনের সতর্কবার্তা চোখ-কান খোলা রেখে ইন্টারনেট ব্যবহার করুন। জ্ঞানের জন্য অন্তর্জালে হাত বাড়াক নতুন প্রজন্ম। তাই যা ইচ্ছে তাই পোস্ট করে দিলাম, সে দিন আজ আর নেই। আপনার একটি পোস্ট উপরের কোনও আইনকে অগ্রাহ্য করছে কি না তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা না করলে বিপদ নিশ্চিত। অতএব নিজের ভাল না জানলে কিন্তু পস্তাতে হবে।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement