শ্রুতি হাসানের কাছে পোষ্য বিড়ালকে অন্যত্র রেখে আসার সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত কষ্টের। সম্প্রতি অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তাঁর পার্সিয়ান বিড়ালছানা ‘আসলান’-এর কারণে তীব্র অ্যালার্জির সমস্যা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে অন্যত্র রাখতে হয়েছে।
বিড়ালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে থাকার পর হাঁচি, চোখ চুলকানো বা ত্বকে র্যাশ হওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু কখন এই অ্যালার্জি সাধারণ অস্বস্তির গণ্ডি পেরিয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে?
আরও পড়ুন:
পার্সিয়ান বিড়ালেই কি অ্যালার্জি বেশি?
বিষয়টি শুধু বিড়ালের লোমের সঙ্গে জড়িত নয়। আসলে অ্যালার্জির মূল কারণ বিড়ালের শরীরে তৈরি হওয়া কিছু বিশেষ প্রোটিন। তার মধ্যে অন্যতম Fel d 1। এটি মূলত বিড়ালের লালা ও ত্বকের নিঃসরণে থাকে। বিড়াল নিজের শরীর চাটার সময় সেই প্রোটিন লোমে ছড়িয়ে দেয়। পরে লোম, খুশকি বা ত্বকের ক্ষুদ্র কণার সঙ্গে তা ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন:
তাই পার্সিয়ান বিড়ালের লোম লম্বা বা ঘন বলেই যে তারা অন্য বিড়ালের তুলনায় বেশি অ্যালার্জি তৈরি করবে, তা নয়। কোনও বিড়ালের জাতকেই পুরোপুরি ‘অ্যালার্জিমুক্ত’ বলা যায় না।
তবে পার্সিয়ান বিড়ালের ঘন লোমে খুশকি ও অন্যান্য কণা আটকে থাকতে পারে। ফলে বাড়ির পরিবেশে অ্যালার্জেন ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। আমেরিকান কলেজ অফ অ্যালার্জি, অ্যাজমা অ্যান্ড ইমিউনোলজির মতে, বিড়ালের লোমের দৈর্ঘ্যের সঙ্গে শরীরে তৈরি হওয়া অ্যালার্জেনের মাত্রার সরাসরি সম্পর্ক নেই।

বিড়ালের কারণে অ্যালার্জি হলে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
বিড়ালের সংস্পর্শে এসে কারও সামান্য অস্বস্তি হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে কয়েক মিনিটের মধ্যেই উপসর্গ শুরু হয়ে যেতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে-
- বারবার হাঁচি
- নাক দিয়ে জল পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া
- চোখ লাল হওয়া, চুলকানো বা জল পড়া
- কাশি
- ত্বকে চুলকানি বা র্যাশ
অ্যালার্জি বেশি হলে শুধু বিড়ালকে স্পর্শ করলেই নয়, বিড়াল থাকে এমন বাড়িতে প্রবেশ করলেও উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
হাঁচি-কাশি থেকে কখন বিপদের আশঙ্কা?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হল শ্বাসকষ্ট। বিড়ালের অ্যালার্জির কারণে কারও শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দ হতে পারে, বুকে চাপ লাগতে পারে বা শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে। অ্যালার্জিজনিত হাঁপানি থাকলে এই সমস্যা আরও গুরুতর হতে পারে।
গুরুতর অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সাধারণ হাঁচি বা চোখ চুলকানোর মতো নয়। বুকে তীব্র চাপ, শ্বাস নিতে অসুবিধা, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া বা সারা শরীরে দ্রুত র্যাশ ছড়িয়ে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
শ্বাসকষ্ট, গলা বা মুখ ফুলে যাওয়া, শরীরে র্যাশ, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

বাড়িতে বিড়াল থাকলে অ্যালার্জির সম্ভাবনা কমাবেন কীভাবে?
পোষ্যকে বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়াই সবসময় একমাত্র সমাধান নয়। অ্যালার্জেনের সংস্পর্শ কমানোর জন্য কিছু অভ্যাস কাজে আসতে পারে।
বাড়ি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, উচ্চক্ষমতার ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করা এবং বিড়ালকে শোওয়ার ঘরে ঢুকতে না দেওয়া। বিড়ালের লোম ও খুশকি যাতে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় বেশি ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখা দরকার।
পোষ্যকে সপ্তাহে দু’বার ব্রাশ করতে পারেন। আর সেটা করুন বাড়ির বাইরে। তাহলে ঝরে যাওয়া লোম ও খুশকি কার্পেট, সোফা বা বিছানায় জমে থাকার সম্ভাবনাও কমে। তবে নিয়মিত টিকা দেওয়া, কৃমিনাশক দেওয়া বা ভালো খাবার খাওয়ালেই বিড়ালের অ্যালার্জি প্রতিরোধ করা যায়, এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
তাই বিড়াল পোষার আগে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি সমস্যা শুধু লোমে নয়, অ্যালার্জেন রয়েছে বিড়ালের শরীরেই। কারও ক্ষেত্রে সামান্য হাঁচি-কাশিতেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে তা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর সমস্যাও তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিড়ালের সংস্পর্শে এসে শ্বাসকষ্ট বা শরীরের একাধিক জায়গায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
টুলুর কারবারের সঙ্গে যোগ? বীরভূমের ভূমি দপ্তরের হেড ক্লার্কের বাড়িতে পুলিশি হানা
-
রাজসাক্ষী হতে চান! জমি দুর্নীতি মামলায় ইডি আদালতে আবেদন জয় কামদারের
-
বাড়ির প্রত্যেক সদস্যদের আলাদা আয়ুষ্মান কার্ড, আধার নম্বরেই মিলবে উপভোক্তার তথ্য
-
দেবরাজের ‘দাদাগিরি’র নয়া হদিশ! দাবিমতো কোটি টাকা না দেওয়ায় কাজ বন্ধ মামলায় চার্জশিট
-
ধনঞ্জয় ফাঁসির ২২ বছর! ‘বিচার মেলেনি’, মামলার পুনঃতদন্তের দাবিতে ফের মিছিল বাঁকুড়ার গ্রামে