মারণ রোগের কালচে থাবা কেড়ে নিতে চেয়েছিল সবটুকু। কেউ হারিয়েছিলেন চুল, কেউ বা গলার স্বর। শরীরের প্রতিটি কোষে যখন যন্ত্রণার বিষ ছড়াচ্ছিল, তখনও মনের কোণে টিমটিম করে জ্বলছিল এক চিলতে বাঁচার আশা। সেই আশার প্রদীপগুলোই শনিবার একজোট হয়েছিল কলকাতার মহাজাতি সদনে। উপলক্ষ ছিল ‘উজ্জীবন’। চিকিৎসক ডা. সৌম্য ভট্টাচার্য এবং পিকনিক গার্ডেন লীলা সেবা সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ক্যানসারজয়ীরা শোনালেন তাঁদের যমে-মানুষে টানাটানির সেই রুদ্ধশ্বাস আখ্যান।

আরও পড়ুন:
শনিবারের মহাজাতি সদন সাক্ষী থাকল এক অদ্ভুত আবেগের। অনুষ্ঠানকক্ষে তখন পিনপতন নিস্তব্ধতা। মঞ্চে দাঁড়িয়ে এক ক্যানসারজয়ী যখন বলছিলেন কীভাবে যন্ত্রণার রাতে একা কেঁদেছেন, তখন সামনের সারিতে বসা দর্শকদের চোখও ভিজে উঠছিল। লড়াইটা শুধু শরীরের ছিল না, লড়াইটা ছিল সমাজের বাঁকা চাহনি আর অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধেও। কিন্তু তাঁরা দমে যাননি। যন্ত্রণাকে সঙ্গী করেই তাঁরা আজ সুস্থ জীবনে ফিরে এসেছেন। তাঁদের সেই ফিরে আসার গল্পগুলোই হয়ে উঠল উপস্থিত অন্য রোগীদের বেঁচে থাকার অক্সিজেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে ডা. সৌম্য ভট্টাচার্যের লেখা ‘স্বপ্ন হলেও সত্যি’ বইটির আবরণ উন্মোচন করা হয়। বইটির ছত্রে ছত্রে ধরা আছে লড়াইয়ের বাস্তব ছবি। ডা. ভট্টাচার্য বলেন, উজ্জীবন কেবল একটা অনুষ্ঠান নয়। এটা জীবনের প্রতি হার না মানা জেদ। আমরা শুধু চিকিৎসায় সুস্থ করি না, তাঁদের মনের জোরটাকেও ফেরাতে চাই।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও ছিল চমক। ক্যানসারকে জয় করে আসা যোদ্ধারাই এদিন গান গাইলেন, নাচলেন, আবৃত্তি করলেন। কেউ হয়তো কেমোথেরাপির ধকল কাটিয়ে ওঠার পর প্রথমবার মঞ্চে উঠলেন। তাঁদের প্রতিটি পারফরম্যান্সের পেছনে লুকিয়ে ছিল এক একটি যুদ্ধ জয়ের ইতিহাস। উপস্থিত সুধীজন ও অতিথিরা তাঁদের এই সাহসকে কুর্নিশ জানান। জীবন যে হেরে গিয়েও ফিরে আসতে পারে, ‘উজ্জীবন’ যেন আরও একবার সেই ধ্রুব সত্যটা বুঝিয়ে দিয়ে গেল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
EXCLUSIVE: বিয়ের পিঁড়িতে মিমি চক্রবর্তী! কাকে জীবনসঙ্গী বাছছেন টলি নায়িকা?
-
মোবাইলে নেটওয়ার্কের সমস্যা, টেলিকম কর্মীকে ধরে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী!
-
মমতার জোটের ডাক উপেক্ষা! উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের
-
আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বারাকপুরে বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে রেইকি ৩ যুবকের! পুলিশের জালে ১
-
রাজ্যজুড়ে সক্রিয় ভুয়ো চিকিৎসক চক্র! ২ চিকিৎসককে কাঠগড়ায় তুলে স্বাস্থ্যদপ্তরে চিঠি