অটোইমিউন রোগে আক্রান্তদের প্রায় ৭৫–৮০ শতাংশই মহিলা। কেন মহিলাদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বেশি, ব্যাখ্যা করলেন এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ইমিউনোলজি অ্যান্ড রিউম্যাটোলজির ডিরেক্টর এবং কনসালট্যান্ট রিউম্যাটোলজিস্ট ডা. অর্ঘ্য চট্টোপাধ্যায়
অটোইমিউন অসুখে (Autoimmune Diseases) আক্রান্তদের অধিকাংশই মহিলা। গবেষণায় দেখা গেছে, মোট অটোইমিউন রোগীর প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশই মহিলা। যেমন রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস, লুপাস, সজোগ্রেন সিনড্রোম এবং অটোইমিউন থাইরয়েড—এই রোগগুলো মহিলাদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি দেখা যায়। এর পেছনে মূলত জেনেটিক, হরমোনজনিত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য কাজ করে।
আরও পড়ুন:

১. হরমোনের প্রভাব
নারীদের শরীরে থাকা যৌন হরমোন, বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইস্ট্রোজেন অ্যান্টিবডি উৎপাদন এবং ইমিউন কোষের কার্যকলাপ বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়ে। তবে কখনও কখনও এই শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে শরীরের নিজের টিস্যু বা কোষকেই আক্রমণ করে বসে, যার ফলে অটোইমিউন রোগের সূত্রপাত হয়।
২. জেনেটিক কারণ
মহিলাদের শরীরে দুটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে, যেখানে পুরুষদের থাকে একটি এক্স ও একটি ওয়াই ক্রোমোজোম। এক্স ক্রোমোজোমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিন থাকে। দুটি এক্স ক্রোমোজোম থাকার কারণে কিছু ক্ষেত্রে এই জিনগুলোর নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। লুপাসের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
৩. গর্ভাবস্থা ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় পরিবর্তন
গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরকে ভ্রূণকে ধারণ করার জন্য রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় নানা পরিবর্তন ঘটাতে হয়। এই জটিল পরিবর্তনের ফলে কখনও কখনও অটোইমিউন রোগ শুরু হতে পারে বা আগে থেকে থাকা রোগের উপসর্গ বাড়তে পারে। বিশেষ করে সন্তান জন্মের পর অনেক মহিলার ক্ষেত্রেই এমনটা হতে দেখা যায়।

৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রতিক্রিয়া
সাধারণভাবে মহিলাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা পুরুষদের তুলনায় বেশি সক্রিয়। এর ফলে যে কোনও ভ্য়াকসিনের প্রতিক্রিয়া তাঁদের ভালো হয়। সংক্রমণ থেকে দ্রুত সেরে ওঠার ক্ষমতাও থাকে বেশি। তবে এই অতিরিক্ত সক্রিয়তাই কখনও কখনও শরীরের নিজের কোষকে আক্রমণ করার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।
৫. পরিবেশগত ও এপিজেনেটিক কারণ
সংক্রমণ, ধূমপান, মানসিক চাপ, অতিরিক্ত সূর্যালোক বা শরীরের মাইক্রোবায়োমের পরিবর্তন—এসব বাহ্যিক কারণও জেনেটিক প্রবণতার সঙ্গে মিলে নারীদের মধ্যে অটোইমিউন রোগের ঝুঁকিকে আরও বাড়ায়।
মনে রাখুন
মহিলাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই বেশি শক্তিশালী ও সংবেদনশীল। এই বৈশিষ্ট্য অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়, কিন্তু কখনও কখনও একই কারণেই অটোইমিউন রোগের ঝুঁকিকেও বাড়িয়ে তোলে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বঙ্গে সাংগঠনিক রদবদলের পথে বিজেপি, দিল্লিতে শমীক-বনসল দীর্ঘ বৈঠক
-
মমতার জন্যই ধ্বংস ইন্ডিয়া জোট, নীতীশের এনডিএ যোগের নেপথ্যেও কালীঘাট! প্রকাশ্যে রিপোর্ট
-
জমি দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ! পুলিশের জালে তৃণমূলের আরও এক প্রাক্তন বিধায়ক
-
যুদ্ধের ধাক্কায় বেসামাল, ফুরিয়ে এসেছে অস্ত্র! এবার হার মানবে ইরান?
-
নবদ্বীপের ‘ত্রিপলচোর’ তৃণমূল চেয়ারম্যানের মামলাই লড়লেন না আইনজীবীরা! এজলাসের বাইরে ‘চোর’ স্লোগান, পড়ল ডিম