সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এখন তো আর বয়স বাড়ে না, বছর বাড়ে। যাঁরা নিয়মিত শরীর চর্চা করেন। তাঁরা বছর বাড়িয়ে ফেললেও বয়সকে কিন্তু বেশ ভালমতোই মুঠোবন্দি করে রাখেন। যেমন ধরুন ৪০ ছুঁলেই একটা সময় ধরে নেওয়া হত যৌবন গেল। কোনও জিনিস দেখতে না পেলেই বলা হত, চালসে হয়েছে চোখে। এখন কিন্তু সেই যাটেও চোখ বন্ধ করে ছক্কা খেয়ে যেতে পারেন। সেখানে চল্লিশ তো শিশুই। যুতসই প্রবাদও রয়েছে হাতের কাছেই। ‘জীবন তো শুরু হয় চল্লিশেই।’ কিন্তু আবেগে গা না ভাসিয়ে চল্লিশে যদি চাঙ্গা থাকতে চান, তাহলে তো নিজেকে ফিট রাখতে হবে। মানতে হবে বেশ কিছু বিধিনিষেধ। তাহলেই বয়সকে বাই বাই করে যৌবনকে স্বাগত জানাতে পারবেন। ৪০ পেরিয়েও নিজেকে ঝকঝকে রাখতে চাইলে এই টিপসগুলি কিন্ত হেলাফেলা করলে চলবে না।
প্রথমেই বয়স বেড়েছে ভেবে গালে হাত দিয়ে চিন্তার কিছু নেই। মনের বয়সকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নেওয়া ভাল। বংশগতভাবে হৃদরোগের প্রবণতা থাকলে অবশ্যই ৪০ পেরিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বছরে দু-একবার চেকআপে যান। তাহলে হৃদরোগ যেমন এড়াতে পারবেন। তেমনই হৃদরোগ থেকে পরবর্তিতে জটিল রোগ হওয়াকেও আটকাতে পারবেন। সাধারণত বংশগত কোনও দূরারোগ্য ব্যাধির প্রবণতা থাকলে আগেভাগে চেকআপ করিয়ে নিন, নিজেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সুস্থ রাখতে এটুকু করতেই হবে। মেনটেনান্সে ফাঁকি পড়লে যেমন সাধের বাড়িও ভগ্ন দশায় আসে। তেমনই শরীরও বুড়িয়ে যায় নিয়মিত যত্নের অভাবে। তাই যত্নে কোনওরকম ত্রুটি না রাখতে মেনে চলুন এই নিয়মগুলি।
[গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে মাথায় রাখুন এই টিপসগুলি]
চল্লিশের কোঠায় পা দিতেই ছেলেবেলায় পড়ে যাওয়া ব্যথাটা কিন্তু বাড়তে পারে। কর্পোরেট সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া পিঠ যে কোনও দিন স্পন্ডেলাইটিসের ব্যথা নিয়ে তার উপস্থিতি জানান দিতে পারে। এসব ভেবে মন খারাপ না করে এইবেলা শরীরচর্চা শুরু করুন। নিয়মিত যোগ ব্যায়াম, ফ্রি হ্যান্ড ও হাঁটাহাঁটি করলেই দেখবেন বেশ ভাল লাগছে। সঙ্গে একটা স্বাস্থ্যকর ডায়েট চার্ট মেনটেন করুন। শরীর তখন কথা বলবে। বয়স তো কোন ছাড়।
চিন্তা থেকে আজকের দিনে কেউই দূরে নেই। এই রোগের সুনির্দিষ্ট কোনও ওষুধ না থাকলেও দৈনন্দিন জীবনে বেশকিছু নিয়ম মানলেই চিন্তাকে বাগে আনা যায়। বেতন বাড়েনি খরচ বেড়েছে। সংসার চলবে কীভাবে? বাড়িতে ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্ক বাবা মা। তাঁদের চিকিৎসা খরচ আসবে কোথা থেকে? এই ধরনের চিন্তা এখন ঘরে ঘরে। যার থেকে মানসিক যন্ত্রণার জন্ম। কোথা দিয়ে কীভাবে টাকা ম্যানেজ করে পরিস্থিতি সামাল দেব। সবাই তাই ভাবছে। দিনের পর দিন এই চিন্তার মধ্যে থাকতে শুরু করলে একদিন অবসাদগ্রস্ত হয়ে যাবেন। সুযোগ বুঝে রোগও আপনাকে চেপে ধরবে। তাই সময় থাকতে নিজের জন্য ভাবুন। শুধু শারীরিক সুস্থতার জন্য নয়, মনের সুস্থতার প্রতিও নজর দিন। সুযোগ পেলে একটু সাইকেল চালিয়ে নিন। হাঁটাচলা, সাঁতার কাটাও তালিকায় থাকতে পারে। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মনের খোরাকও তো দরকার। তাই নিজের সুবিধামতো একটা সময় নির্দিষ্ট করে নিন, যখন শুধুই ঘুমোবেন। পাশাপাশি যোগা করে মনকেও শান্ত অবসর দিন। বয়সজনিত অবসাদ এমনিতেই দূর হবে।
৪০ ছুঁলে নিঃশব্দে আসে হাইপারটেনশন ও কোলেস্টেরল। প্রায় ঘাপটি মেরে থাকা এই দুই রোগকে শুরুতেই কাবু করতে না পারলে হৃদরোগ জনিত সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়। বয়স যত বাড়ে ততই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। নিয়মিত চেকআপ শুরু হলে রোগের প্রবণতাকে চিহ্নিত করা যাবে। পারিবারিক ক্ষেত্রে যদি কোলেস্টেরলের সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই পাঁচ বছর অন্তর অন্তর একবার চেকআপে যান।
চল্লিশের পর শরীরের হাড়ের গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে। মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট হয় মনোপজের পরে। একটুতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এইসময় ক্যালসিয়ামের পরিমাণ আপনা থেকেই কমে যায়। যাঁরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বদ্ধ ঘরে কাজ করেন, তাঁদের অস্টিওপরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভনা সব থেকে বেশি। তাই ট্যানের কথা ভুলে গিয়ে অন্তত আধঘণ্টা নিয়ম করে প্রতিদিন রোদ্দুরে ঘোরাঘুরি করতে পারেন।
[এই জিনিসগুলি ফ্রিজে রাখেন! বিপদ ডেকে আনছেন না তো?]
মানসিক চাপ, মোটা হয়ে যাওয়া ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এখন প্রায় সবার মধ্যেই রয়েছে। যা ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। ৪৫ থেকে ৬৫ বছরের সময়কালের মধ্যেই টাইপ-টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে অবশ্যই সুস্থ জীবনযাপন করতে হবে। খাওয়াদাওয়াতেও রাশ টানতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে স্বাস্থ্যকর ডায়েট চার্ট বানিয়ে নিন। সেইমতোই খাওয়াদাওয়া করুন। বয়স ৪৫ পেরোলেই তিন বছরে একবার সুগার চেকআপ করান। যদি কোনও বিপদের সম্ভাবনা তৈরি হয়, তাহলে গোড়াতেই তা নির্মূল হবে।
অনেকেই এই শারীরিক সমস্যাগুলিকে পাত্তা দিতে চান না। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আজ পাত্তা না দিলে বয়স বাড়লেই এই সমস্যাই বিপদের আকার নেবে। তখন অসহায়ের মতো দেখা ছাড়া উপায় থাকবে না। তাই সময় থাকতে নিজেকে নিয়মে রাখুন। রোগব্যাধিকে ডোন্টকেয়ার করুন।
সর্বশেষ খবর
-
হিরের ব্রেসলেট চুরি! বিশ্বকাপ শুরুর আগে গ্রেপ্তার ববি মুর, তারপর…
-
স্কটিশ চার্চে অভিনব উদ্যোগ, চালু হল বিনামূল্যে ডেটা সায়েন্স ও সংবাদ পাঠের কোর্স
-
ভারতের রাষ্ট্রপতি কে? সাধারণ জ্ঞান নিয়ে আলিয়াকে খোঁচা! ‘আলফা’ জবাব কাপুরবধূর
-
দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপ নকআউটে জয়, বাঁধনভাঙা উচ্ছ্বাসে দমবন্ধ হয়ে মৃত ৩ সমর্থক
-
‘মেসি আরও গোল করুক, বিশ্বকাপটা আমার চাই’, ফ্রান্সকে শেষ ষোলোয় তুলে হুঙ্কার এমবাপের