৪ কার্তিক  ১৪২৬  মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

খেলেই অ্যালার্জির ভয়! অন্যথায় উপায় লোভনীয় খাবার জীবন থেকে ডিলিট। নির্দিষ্ট কিছু খাবার থেকেই কেন এমন হয়? ফুড অ্যালার্জিতে ভিলেন খাবারগুলির ভূমিকা ও সঠিক চিহ্নিতকরণের উপায় জানালেন বিশিষ্ট ডার্মাটোলজিস্ট ডা. সন্দীপন ধর। লিখছেন জিনিয়া সরকার৷

অ্যালার্জি আতঙ্ক! চিংড়ি মানেই চুলকানি শুরু। ডিম খেলেই গায়ে আমবাত আর বেগুনে মুখ কুটকুট! বিশেষ বিশেষ খাবারে অ্যালার্জির কষ্ট কম বেশি সকলের মুখেই শোনা যায়। সেই ভয়ে খাদ্যতালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ যায় বেশ কিছু খাবার। তবে সত্যিই সেই খাবার থেকে অ্যালার্জি কি না তা সঠিকভাবে না চিনে খাবারটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া এককথায় বোকামো। তাই খাবারে অ্যালার্জি হচ্ছে এই অনুমানের সঠিক প্রমাণ মিললে তবেই অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। জানা জরুরি, কেন এই বিশেষ কিছু খাবারই অ্যালার্জি ডেকে আনে।

ক্রনিক অ্যালার্জি

মূলত খাবার থেকে ক্রনিক অ্যালার্জির সমস্যায় অধিকাংশই ভোগেন। তাই লক্ষণ বুঝে কোন কোন খাবার থেকে অ্যালার্জি হচ্ছে তা বিজ্ঞানসম্মতভাবে টেস্ট করে দেখা উচিত। রোগীর বিশেষ কিছু লক্ষণ ক্রনিক অ্যালার্জি নির্দিষ্ট করে, বিশেষ করে যদি এমন হয় যে-
১. ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা যদি হঠাৎ করে বেড়ে গিয়ে খুব চুলকাতে থাকে।
২. হঠাৎ শ্বাসকষ্ট ও ক্রমাগত হাঁচি, কাশি, সর্দি হতে পারে।
৩. রোগীর পেটে ব্যথা বা বারবার মলের সমস্যা হতে থাকে।

কেন খাবারই দায়ী?
চিংড়ি, ডিম, কাঁকড়া অথবা দুধ ইত্যাদি খাবার থেকেই অ্যালার্জি হচ্ছে। শরীরে এই খাবারগুলি থেকে অ্যালার্জির দু’টি কারণে হতে পারে। এইধরনের খাবারে যে ধরনের প্রোটিন থাকে তা অ্যালার্জেন্স বা শরীরে অ্যালার্জির জন্ম দেয় সহজে। প্রোটিন জাতীয় খাবারের মাধ্যমেই শরীরে অ্যান্টিজেন প্রবেশ করে। যা শরীরে অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি রিঅ্যাকশন তৈরি করে। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ফলে অ্যান্টিজেন শরীরে গেলেও তা থেকে কোনও ক্ষতি হয় না। কিন্তু যাঁদের শরীরে ইমিউনিটি খুব দুর্বল তাঁদের এই অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি রিঅ্যাকশন ঠিকমতো হয় না। ফলে এই ধরনের অ্যান্টিজেন শরীরে প্রবেশ করলে ইমিউনোলজিক্যাল ফাইট শুরু হয়। ফলস্বরূপ দেখা দেয় অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন। কারও শ্বাসকষ্ট, গায়ের র‌্যাশ, চুলকানি, গায়ে আমবাতের মতো সমস্যা, কারও ক্ষেত্রে প্রচণ্ড হাঁচি-কাশি ইত্যাদি দেখা দেয়। তবে, শুধু প্রোটিন জাতীয় খাবার থেকেই যে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয় তা নয়। অনেকেরই বেগুনে কিংবা কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট জাতীয় খাবার থেকেও অ্যালার্জির সমস্যা হয়। এই খাবারগুলিতে কোনও প্রোটিন নেই তাও কেন অ্যালর্জি ডেকে আনে? এই খাবারগুলি সরাসরি রক্তে মিশে শরীরে অ্যালার্জি সেলকে উদ্দীপিত করে ‘হিস্টামিন’ নামক এক কেমিক্যাল উৎপন্ন করে। যা থেকে অ্যালার্জির সমস্যা শুরু হয়।

[রেড মিট খাচ্ছেন? কী মারাত্মক বিপদের মুখে পড়বেন জানেন?]

ওরাল ফুড চ্যালেঞ্জেই সমাধান
স্কিন প্রিক টেস্ট, অ্যালার্জিক প্যাচ টেস্ট করে কোন খাবারে অ্যালার্জি তা অনুমান করা যায় মাত্র। কিন্তু সঠিকভাবে জানতে গেলে ‘ওরাল ফুড চ্যালেঞ্জ’ টেস্ট সবচেয়ে উপকারী। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই এই টেস্ট করতে হবে। এই টেস্ট করতে কোনও ল্যাবরেটরিতে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। বাড়িতে নিজে নিজেই করা সম্ভব।
১. প্রথমে একটা লিস্ট করুন। যে যে খাবার থেকে অ্যালার্জি হচ্ছে মনে হচ্ছে সেই খাবারগুলিকে চিহ্নিত করতে হবে।
২. তারপর প্রত্যেকটি খাবারই একদিনে রোগীকে খাইয়ে দেখতে হবে তিনদিনের মধ্যে কোনও অ্যালার্জি বের হচ্ছে কি না। সেক্ষেত্রে যদি এমন হয় যে, খাদ্যতালিকায় থাকা ডিম, বেগুন, চিংড়ি মাছ ইত্যাদি খেয়ে অ্যালার্জির সমস্যা হচ্ছে তবে এই খাবারগুলি একসপ্তাহ খাদ্যতালিকা থেকে পুরো বাদ রাখতে হবে।
৩. বাদ রাখলে তাতে অ্যালার্জির সমস্যা একেবারে চলে যাওয়াই স্বাভাবিক।

[খুঁচিয়ে কান পরিষ্কার করছেন? ভবিষ্যতে এই সমস্যাগুলোর জন্য তৈরি থাকুন]

৪. এরপর সেই লিস্ট থেকে যে কোনও একটি খাবার, ধরা যাক চিংড়ি, তা রোগীকে খাওয়াতে হবে। লিস্টের বাকি খাবারগুলি তখন একদম খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে। এবং লক্ষ রাখতে হবে যে তখন রোগীর কোনওরকম অ্যালার্জি হচ্ছে কি না।
৫. যদি অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয় তবে চিংড়ি খাওয়া আবার বন্ধ করতে হবে। তারপর পুনরায় ১-২ সপ্তাহ বাদে আবার চিংড়ি খেয়ে দেখতে হবে আবার অ্যালার্জি হচ্ছে কি না। তখনও যদি অ্যালার্জি দেখা যায় তবে আবার ১-২ সপ্তাহ পর তৃতীয়বার চিংড়ি খেয়ে টেস্ট করে হবে।
৬. যদি তিনবারই অ্যালার্জির লক্ষণ থাকে তবে নিশ্চিত হতে হবে যে সেই নির্দিষ্ট খাবারে অর্থাৎ চিংড়িতে অ্যালার্জি আছে। আর তিনবারই অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন না হলে সেই খাবার নিরাপদ তা বলাই যায়।
৭. এই ভাবে অ্যালার্জিক খাবারের লিস্টে থাকা সব খাবারগুলিকেই টেস্ট করে দেখতে হবে নির্দিষ্ট কোন খাবারটি থেকে অ্যালার্জি হচ্ছে। সাধারণত এই পদ্ধতিতে পুরোপুরি টেস্ট করতে মাস তিনেক সময় লাগে। ধৈর্য ধরে করতে পারলে নিশ্চিত রেজাল্ট পাওয়া যায়। পাশাপাশি অ্যালার্জির ভয়ে সব খাবার বাদ দেওয়ারও প্রয়োজন পড়ে না।
পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন এই নম্বরে: ৯৮৭৪৯৬৮১৩৯

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং