১ ভাদ্র  ১৪২৬  সোমবার ১৯ আগস্ট ২০১৯ 

BREAKING NEWS

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

১ ভাদ্র  ১৪২৬  সোমবার ১৯ আগস্ট ২০১৯ 

BREAKING NEWS

মেনোপজের পরও শিথিলতা কাটিয়ে দাম্পত্যের আকর্ষণ অটুট রাখা সম্ভব। কীভাবে? উপায় বললেন সৃষ্টি ক্লিনিকের অধিকর্তা বিশিষ্ট গাইনোকলজিস্ট ডা. সুদীপ বসু। সৌন্দর্য দাস।

পঞ্চাশ ছুঁয়েও থাকবে দাম্পত্যের আকর্ষণ। ষাটেও উপভোগ্য হবে মিলন। বয়স কোনও বালাই নয়। ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর শিথিল হয়ে আসা যৌন জীবনকে উদ্দাম করে নেওয়া যায় দিব্যি।

আমেরিকায় কিন্তু ৭৫ বছরের মহিলাও তাঁর যৌন জীবনে কোনও অসুবিধা হলে ডাক্তারের চেম্বারে এসে জানান। এ দেশেও পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই মহিলারা যে এই সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে একদম হাজির হন না, তা নয়। তবে সংখ্যাটা বেশ কম। সামাজিক প্রেক্ষাপট ও রক্ষণশীল মানসিকতার কারণে ৯০ শতাংশই নিজের ইচ্ছা চেপে রাখেন। স্বাভাবিকভাবেই ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে যায় সঙ্গম শক্তি। শরীর ও মন তরতাজা রাখতে এই সময় বিশেষ কিছু চিকিৎসা ছাড়াও জরুরি কাউন্সেলিং। ডাক্তারের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করলেই তাঁরা সব বাধা কাটানোর পথ দেখিয়ে দেবেন। তবে চিকিৎসার পাশাপাশি মহিলাদেরও শরীরচর্চা করে ফিট থাকতে হবে।

দিনভর স্মার্টফোনে ব্যস্ত! জানেন, ঘাড়-গলার কী মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে? ]

বন্ধ হওয়ার পর শুরু

ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া অর্থাৎ মেনোপজের পর মেয়েদের শরীর ও মনে ব্যাপক পরিবর্তন হয়। গর্ভাশয় থেকে ডিম্বাণু নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়। হরমোনের ভারসাম্যের তারতম্য ঘটে। ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসরণ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সেই কারণে নিম্নাঙ্গের ভিতরের অংশ শুকিয়ে থাকে। যার ফলে শরীরী মিলনের সময় ব্যথা লাগে। খুব অল্প ব্লিডিংও হতে পারে। এই সব পরিবর্তন থেকেই মহিলাদের মনে একটু ভয় হয়। তাঁরা ভাবতে থাকেন, বয়স হয়ে যাচ্ছে তাই যৌনজীবন বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এই ভাবনা ভুল। যাঁদের মেনোপজের আগে অবধি সেক্সুয়াল লাইফ সক্রিয় থাকে তাঁদের এই সময় খুব বেশি অসুবিধা হয় না। তবু অসুবিধা হলে প্রাথমিকভাবে কিছু খাবার খেয়ে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন বাড়ানো যায়। এ ছাড়া ইস্ট্রোজেন যুক্ত ওষুধ খেয়ে, নিম্নাঙ্গে লুব্রিক্র‌্যান্ট লাগিয়ে, পেটে বিশেষ থেরাপি করে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়িয়ে যৌনক্রীড়া উপভোগ করা যায়।

টেস্ট

মেনোপজের সময় নিম্নাঙ্গ বা ভ্যাজাইনার প্রকৃতির পরিবর্তন দেখা দিলে রক্তের ইস্ট্রাডায়ল টেস্ট করিয়ে নেওয়া জরুরি। এই টেস্টের দ্বারা বোঝা যাবে শরীরে ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি হচ্ছে কি না।

love

বাইরে থেকে ইস্ট্রোজেন

  • ইন্ট্রাডার্মাল ইস্ট্রাডায়ল ইমপ্ল্যান্ট করা যায়। বিদেশে খুব জনপ্রিয়। এক্ষেত্রে গমের দানার মতো ইস্ট্রোজেন সমৃদ্ধ চিপ পেটে একটুখানি চিরে বসিয়ে দেওয়া হয়। পেট ছাড়াও থাই, হাতের বাহু বা মেদযুক্ত জায়গায় বসিয়ে দিলে ওই অংশ থেকে ইস্ট্রোজেন নিঃসৃত হয়ে শরীরে মিশে ঘাটতি পূরণ করে। চিপটি ৬ মাস অন্তর পরিবর্তন করতে হয়। তবে যাঁদের ইউটেরাস আছে তাঁদের এটা লাগানো যায় না। কারণ ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য ইস্ট্রোজেনের প্রভাবে ইউটেরাসের ভিতরে এন্ডোমের্টিয়াল লাইনিং পুরু হতে থাকবে। যা থেকে ক্যানসার হতে পারে। তাই হিস্টেরেকটমি করে ইউটেরাস বাদ দেওয়া থাকলে এই চিপের মতো জিনিসটি লাগানো যায়।
  • এছাড়া ইস্ট্রাডায়ল জেলও লাগানো যায়। হাতের বাহুর যে অংশে রোম নেই সেখানে রোজ এই জেল লাগাতে হয়। ইস্ট্রোজেন ধীরে ধীরে ত্বকের মধ্য দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। এক্ষেত্রে মহিলার ইউটেরাস থাকলেও কোনও অসুবিধা হয় না। দু’তিন দিন অন্তর এই জেল লাগালেও অসুবিধা নেই। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কম ডোজের ওষুধ লাগানো উচিত। বেশি লাগালে বিপদ হতে পারে।
  • গাইনোকলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে ইস্ট্রাডায়ল ওষুধ খেয়েও ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়ানো যায়। এক্ষেত্রে মাসিকের চক্রের মতো চক্রাকারে প্রথম ১৪ দিন দেওয়া হচ্ছে ইস্ট্রাডয়াল। পরের ৭-১০ দিন প্রোজেস্টেরন খেতে হয়। তারপরই মেনোপজের মতো প্রতি মাসে কৃত্রিম পিরিয়ড শুরু হয়। এর ফলে শরীরে ইস্ট্রোজেনের ব্যাঘাত ঘটে না। ভ্যাজাইনা শুকিয়ে যায় না।
  • এছাড়া ট্রান্স ভ্যাজাইনাল জেল ভ্যাজাইনায় পুশ করে দেওয়া হয়।
  • দু’সপ্তাহ অন্তর সপ্তাহে দু’-তিনদিন এটা লাগাতে হবে। তারপর আবার দু’সপ্তাহ বিরতি দিতে হবে। এটি লাগিয়ে নিলে শুষ্কভাব কেটে যায়। লুব্রিকেটেড থাকায় মিলনে যন্ত্রণাও হয় না।

পরামর্শ: ৯৮৩১০২১০৮৭

ওষুধ নয়, ঘরোয়া টোটকায় সারান পেট খারাপ ]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং