১৬ ফাল্গুন  ১৪২৬  শনিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 

বন্দিরা তৈরি করছে মধুবনী শাড়ি, চরম ব্যস্ততা বর্ধমান কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে

Published by: Tiyasha Sarkar |    Posted: January 25, 2020 2:14 pm|    Updated: January 25, 2020 2:14 pm

An Images

সৌরভ মাজি, বর্ধমান: রং-তুলির টানে ফুটে উঠছে চোখ জোরানো নকশা। একের পর এক শাড়ি প্রাণ পাচ্ছে তাঁদের হাতে। নাহ, তাঁরা কোনও পেশাদার তন্তুবায় নয়। নিজেদের ভিতরও যে শিল্পীসত্ত্বা রয়েছে সেটাও জানতেন না তাঁরা। চার দেওয়ালের মধ্য থাকতে থাকতে জীবনের মোড় যে এভাবে ঘুরতে পারে কোনওদিন তা কল্পনাও করেননি। কিন্তু কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের থাকাকালীন বন্দিদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়েছে কারা দপ্তর। এখন তাঁদের হাতে তৈরি মধুবনী শাড়িই বাজার মাতাচ্ছে।

বর্ধমান কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের বন্দিদের হাতে তৈরি মধুবনী শাড়ি একটা সময় পর্যন্ত শুধুমাত্র কলকাতায় কারা দপ্তরের নিজস্ব বিপণীতে বিক্রি করা হত। এবার বর্ধমানবাসীকেও সেই মধুবনী শাড়ি দেখার ও কেনার সুযোগ করে দিচ্ছে কারা দপ্তর। আগামী শনি ও রবিবার বর্ধমান কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার প্রাঙ্গণে শুরু হচ্ছে বন্দিদের নিয়ে উইন্টার কার্নিভাল বা শীতকালীন উৎসব। সেখানে এই মধুবনী শাড়ির জন্য আলাদা স্টল করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

[আরও পড়ুন: বিবাহবিচ্ছেদের পর খোরপোশ এড়াতে স্ত্রীকে খুন, মহিলার জোড়া দেহ উদ্ধারে নয়া মোড়]

সেই কারণেই বর্ধমান কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দিরা বর্তমানে চূড়ান্ত ব্যস্ততায় একের পর এক তৈরি করে চলছে মধুবনী শাড়ি। কার্নিভালের জন্য নতুন ডিজাইনের শাড়ি তৈরির পরিকল্পনাও করছে তাঁরা। ডিআইজি নবীনবাবু জানান, বন্দিদের সমাজের মূলস্রোতে ফেরাতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়। তার মধ্যে রয়েছে বস্ত্র তৈরি। বন্দিদের মধ্যে লুকিয়া থাকা প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানকার বন্দিরা কুর্তি, পাঞ্জাবি, শার্ট, কামিজ, গামছা, বিছানার চাদর প্রভৃতি জিনিস তৈরি করছেন। তবে তাঁদের তৈরি মধুবনী শাড়ি গুণমানে যেমন খুবই ভাল তেমনই দেখতেও আকর্ষণীয়। তাই বাজারের যে কোনও এই ধরণের শাড়ির সঙ্গে অনায়াসেই পাল্লা দিচ্ছে এই শাড়ি। এখন এটাই দেখার যে শহরবাসীর মন জয় করতে পারে কি না বন্দিদের হাতে বোনা এই মধুবনী শাড়ি।

An Images
An Images
An Images An Images