বউয়ের বকুনি খাননি, এমন বিবাহিত পুরুষ বোধহয় দুনিয়ায় বিরল। আর সেই বকুনির সিংহভাগ জুড়ে থাকে ‘ভুলে যাওয়া’র খতিয়ান। বিয়ের তারিখ, শাশুড়ির জন্মদিন কিংবা কোন বছর পুজোয় কী শাড়ি দেওয়া হয়েছিল— পুরুষদের স্মৃতি যেখানে আবছা, মহিলারা সেখানে একেবারে নিখুঁত। অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে, তবে কি স্ত্রীদের স্মৃতিশক্তি কম্পিউটারের চেয়েও ফাস্ট? অ্যানিভার্সারি ভুলে যাওয়া পুরুষদের স্বস্তি দিয়ে এই রহস্যের পর্দা তুললেন স্নায়ুবিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন:
স্নায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, নারী ও পুরুষের মস্তিষ্ক গঠনে বিশাল কোনও ফারাক নেই। অথচ মূল খেলটা খেলে ‘সোশালাইজেশন’। ছোটবেলা থেকেই মেয়েদেরকে সম্পর্কের সুতো ধরে রাখার কৌশল শেখানো হয়। ধীরে ধীরে তারা হয়ে ওঠে পরিবারের ‘মেমরি কিপার’ বা স্মৃতিরক্ষক। অন্যদিকে, পুরুষদের মস্তিস্ক অন্য বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকে। একইভাবে যদি পুরুষদেরও কোনও বিশেষ বিষয়ে উৎসাহিত করা যায়, তবে তারাও সমান পারদর্শী হতে পারত।
মুম্বইয়ের এক হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট ড. শীতল গোয়েলও এই বিষয়ে একমত। তাঁর মতে, শব্দের ব্যবহার, কথোপকথন মনে রাখা বা আবেগের সঙ্গে জড়িত কোনও ঘটনা স্মরণে রাখার ক্ষেত্রে মহিলারা কিছুটা এগিয়ে থাকেন। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ভার্বাল মেমরি’। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, নারীদের সামগ্রিক স্মৃতিশক্তি পুরুষদের চেয়ে বেশি।

আসল বিষয়টি হল মনোযোগ। মানুষ সেটাই মনে রাখে, যেটাতে সে বেশি গুরুত্ব দেয়। মহিলারা সম্পর্কের দেখভাল বা পারিবারিক বন্ধনের দিকে বেশি নজর দেন। তাই তাঁদের মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্ক এই বিষয়গুলি মনে রাখতে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।
তবে পুরুষদেরও একটা প্লাস পয়েন্ট আছে বইকি! গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রাস্তাঘাট চেনা, দিক নির্ণয় বা জ্যামিতিক নকশার মতো স্থানিক স্মৃতি বা ‘স্পেশিয়াল মেমরি’র ক্ষেত্রে আবার পুরুষদের পারদর্শিতা বেশি।
তাই বলা যায়, স্মৃতিশক্তির এই লড়াইয়ে কেউ কম বা বেশি নয়। পুরোটাই অভ্যাস ও অভিরুচির খেলা। কাজেই আগামী দিনে অ্যানিভার্সারির তারিখ ভুলে গিয়ে নিজেকে হীনমন্য মনে করার কোনও প্রয়োজন নেই।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ট্রাম্প এবার দয়ালু, কেপ ভার্দে তারকা ভোজিনহার ইচ্ছা পূরণে কঠোর আইন ভাঙছে আমেরিকা
-
কবে রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফলপ্রকাশ? দিনক্ষণ ঘোষণা বোর্ডের
-
‘নিট’ প্রশ্ন ফাঁস রুখতে টেলিগ্রামই কেন নিষিদ্ধ? চরম বিতর্কে অবস্থান স্পষ্ট করল কেন্দ্র
-
অনলাইনে দিতেই হবে হাজিরা, বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক পেতে গাছে চড়ে বসলেন প্রধান শিক্ষক
-
পদ ছেড়েছিলেন পবিত্র ও স্ত্রী! নন্দীগ্রামের সেই পঞ্চায়েতের প্রধান হলেন বিজেপি সদস্য