৪ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অতীত সময়ের প্রতি যদি মনে অদ্ভুত টান অনুভব করেন, মৌন-মুখর ইতিহাসের উপাদানে যদি মগ্ন হতে মন চায়, তবে আপনার ঠিকানা হওয়া উচিত বাদামী৷

আজ যা বাদামী নামে পরিচিত, এককালে তাকে ডাকা হত বাতাপী নামে৷ চালুক্য বংশের রাজা প্রথম পুলকেশী তাঁর রাজ্যের জন্য এক নয়া রাজধানী গড়ে তুলেছিলেন৷ সেটিই বাতাপী, বর্তমানে যা বাদামী৷ এ জায়গা বিখ্যাত পাথর খোদাইয়ের শিল্পের জন্য৷

পাথর খোদাই শিল্পে ভারতীয় শিল্পীরা যে কী মাত্রায় দক্ষ ছিলেন এই বাদামী তার প্রমাণ৷ অগ্যস্ত্য লেকের তীরে একাধিক মন্দির আছে৷ এগুলি মূলত গুহামন্দির৷ প্রথম পুলকেশীর পুত্র কীর্তিবর্মনের আমলে তৈরি হয় চারটি গুহামন্দির৷ একটি শিবমন্দির, দুটি বিষ্ণুমন্দির৷ চতুর্থটি ছিল জৈনদের মন্দির৷ অপর একটি গুহামন্দিরের খোঁজ মেলে, তবে সেটি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বলেই জানা যায়৷ এটি বৌদ্ধদের মন্দির বলেই পরিচিত৷

মন্দিরগুলির শিল্পে ছিল অদ্ভুত এক সম্মিলন৷ দক্ষিণ ভারতীয় দ্রাবিড়িয়ান শিল্পের সঙ্গে, উত্তর ভারতের ইন্দো-আর্য মিলিত নাগারা শিল্পের মিশ্রণে গড়ে উঠেছিল এই বিশেষ বাদামী শিল্প৷ পরবর্তীকালে যা পর্যটকদের পাশাপাশি ইতিহাসবিদদেরও অন্যতম আকর্ষণের৷ কেননা শিল্পের এই মিশ্রণেই আছে ইতিহাসের উপাদান৷ জনপদের উত্থান, তার বিবর্তন ধরা থাকে শিল্পে৷ আর একাধিক শিল্পে মিশে যে সংহতির কথা বলে, তাই আসলে খোঁজ দেয় ভারতবর্ষের গূঢ় চেতনার৷ গুহামন্দিরের অন্দরসজ্জার মুক্ত মণ্ডপ থেকে মহা মণ্ডপের গঠন, পাথর খোদাইয়ের বৈশিষ্ট আজও টেনে রেখেছে দর্শকের৷

এই গুহামন্দিরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল অতীত লিপি৷ পাথরের গায়ে কখনও বা দেবতাদের মূর্তির নীচে খোদাই করা আছে লিপি৷ ষষ্ঠ শতকের এই লিপিগুলি থেকে উদ্ধার হয়েছে চালুক্যদের বিজয়কাহিনী থেকে সমসময়ের বহু তথ্য৷ ইতিহাসবিদদের কাছে যা ইতিহাস পুনরুদ্ধারের বিশ্বস্ত দলিল৷ সুতরাং কিছুটা সময় যদি অতীত ভারতে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে হয়, তবে এই গুহামন্দিরগুলোই হোক ঠিকানা৷

 

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং