BREAKING NEWS

১৮ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  রবিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

জঙ্গি হামলায় বাঙালি শ্রমিকদের মৃত্যু, কাশ্মীরে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল পর্যটকদের

Published by: Sayani Sen |    Posted: November 7, 2019 9:33 pm|    Updated: November 7, 2019 9:33 pm

Common people cancels the plan to visits Kashmir in this winter

তরুণকান্তি দাস: একটাও না? প্রশ্নের মুখে হাঁ করে তাকিয়ে থাকেন অফিসার। যেন বড় কোনও অন্যায় করে ফেলেছি। তারপর ঢোক গিলে ঘাড় নাড়েন। যার মানে হয়, না, একটাও না। কলকাতায় জম্মু-কাশ্মীর পর্যটনের দপ্তর। সেখানে পুজোর পর সপ্তাহ না ঘুরতেই ফোন বাজতে থাকে অহরহ। ডিসেম্বরে ভূস্বর্গে বেড়াতে যাওয়ার তথ্য চান। হাজির হন অনেকেই। হাড়হিম করা ঠান্ডাকে থোড়াই কেয়ার করে বরফের দেশে ক’টা দিন কাটিয়ে আসার নেশা যাঁদের, তাঁরা ডিসেম্বরকেই টার্গেট করেন। কিন্তু এবার এখনও পর্যন্ত একজনও কাশ্মীর পর্যটনের দপ্তরে গিয়ে খোঁজ নেননি। শুধু কি তাই, হাল হকিকত জানতে একটাও উৎসাহী ফোন আসেনি দপ্তরে। মাছি তাড়ানো বোধহয় একেই বলে!

এমনিতে বেসরকারি সংস্থাগুলো পুজোর সময় থেকেই মাছি তাড়াচ্ছে। ৩৭০ ধারা বিলোপের জেরে কাশ্মীরে তৈরি হওয়া অস্থিরতার সময় কে আর প্রাণ হাতে করে সেখানে ভ্রমণের স্বর্গসুখের সন্ধানে পা রাখতে যায়? যায়নি কেউ। একের পর এক বুকিং বাতিল হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা, যারা হোটেল-সহ বিভিন্ন পরিকাঠামোগত সুবিধা নিতে বুকিং করেছিল তাদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বিপুল। তার ধাক্কা নিতে হয়েছে পর্যটকদেরও, যাঁরা আগাম বুকিং করেছিলেন। আশা করা গিয়েছিল, শীতের মরশুমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ফের সেখানে পা পড়বে বাঙালির। এখন লে লাদাখ বন্ধ। সেখানে প্রায় তিনমাস পর্যটক যেতেই পারেন না প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে। তাপমাত্রা অধিকাংশ সময়ে শূন্য ডিগ্রির নিচে থাকে যে। কিন্তু কাশ্মীর সেদিক থেকে কিছুটা ভাল। মাঝে মধ্যে বরফ পড়ে। পহেলগাঁও, গুলমার্গেও বরফ নিয়ে খেলা যায়। স্কি করার আদর্শ সময়। ডিসেম্বরের ছুটিতে তাই বড় সংখ্যক বাঙালি যান কাশ্মীরে। আগেকার মতো না হলেও, কিছু পর্যটক যেতেন বলেই আশায় বুক বেঁধেছিল পর্যটন শিল্পমহল।

[আরও পড়ুন: পাহাড়ের বাঁকে মন হারাতে চান? কম খরচে এই জায়গাই হোক আপনার গন্তব্য]

সেই আশার গুড়ে বালি ঠেলেছে কুলগামে পাঁচ বাঙালি শ্রমিকের মৃত্যু। সেধে কে আর জান বাজি রেখে এখন যাবে ‘মৃত্যু’ উপত্যকায়! ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের সেক্রেটারি নীলাঞ্জন বসুর গলাতেও ঝরে পড়ছে বিস্ময়, “পর্যটন! কে যাবে? একজনও অনুসন্ধান করেননি। যতটুকু জানি, কোনও বেসরকারি পর্যটন সংস্থা এখন কোনও গ্রুপ নিয়ে কাশ্মীর বিমানবন্দরে নামা বা জম্মুগামী ট্রেনে চাপার সাহস দেখাবেন না। তা ছাড়া পর্যটকরা সেখানে যাবেনই বা কোথায়? আশা ছিল, ডিসেম্বরে কিছু ব্যবসা দেবে কাশ্মীর। এখন সেই আশা দুঃস্বপ্ন মাত্র।” সংগঠনের প্রাক্তন কর্তা, পর্যটন ব্যবসায়ী প্রবীর সিনহা রায়ের মন্তব্য, “আগে তো প্রাণ, তারপর তো ভ্রমণ।” কাশ্মীর পর্যটন দফতরের কলকাতা অফিসের কর্তা খুরশিদ সাহেব চলে গিয়েছেন বাড়ি। “কাজ নেই মশাই” বলছেন কর্মীরা। সত্যিই, কাশ্মীর পর্যটন দফতরের কলকাতা কার্যালয় শুনশান। যেন ডাল লেকের পাশের সেই রাস্তা যেখানে কার্ফু জারি হয়ে রয়েছে। যা ওঠার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না অদূর ভবিষ্যতে।

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে