৫ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  শুক্রবার ২২ নভেম্বর ২০১৯ 

BREAKING NEWS

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

৫ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  শুক্রবার ২২ নভেম্বর ২০১৯ 

BREAKING NEWS

তিতাস: কাশ্মীর যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে একই পথে অবশ্যই ঘুরে আসুন দুধপাথরি, শ্রীনগর থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে৷ ৮,৯৫৭ ফিট উচ্চতার এই স্থান এককথায় অতুলনীয় সুন্দর৷ প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য আদর্শ এই জায়গা৷ ইংলিশ কান্ট্রিসাইড-এর মতো এ জায়গার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য৷ ছবিতে দেখলে বিদেশ বলেও ভুল হতে পারে৷
বাড়গ্রাম জেলার অন্তর্ভুক্ত অঞ্চল দুধপাথরি৷ শ্রীনগর থেকে গাড়ি যখন বাড়গ্রামের দিকে ধেয়ে যায়, রাস্তার দু’পাশ ঘিরে থাকে আখরোট-উইলো-পপলার আর আপেল গাছের সারি৷ ক্রোমসোরার পথ ধরলে দু’পাশে চোখে পড়বে শুধুই আপেলবাগান৷ একই রাস্তায় পড়বে মুজপাথরি নামের ছোট্ট পাহাড়ি এলাকা৷ চারদিকে পাহাড় ঘেরা এ জায়গা একেবারে সবুজে-সবুজ৷ ইতিউতি দাঁড়িয়ে থাকে ছোট ছোট বাড়ি৷ মুজপাথরি ছেড়ে খানিকটা পথ পেরোলেই এসে পড়বে দুধপাথরি৷ এখানে গাড়ি নিয়ে ঢোকার জন্য দিতে হয় প্রবেশমূল্য৷

dudhpathri1_web
সবুজ গালিচার রাজ্যে

দুধপাথরি নামকরণের পিছনে লোকমুখে এক গল্পের প্রচলন রয়েছে৷ দুধপাথরির আক্ষরিক বাংলা অনুবাদ দাঁড়ায় দুধের উপত্যকা, ইংরেজিতে ‘ভ্যালি অফ মিল্ক’৷ বলা হয়, কাশ্মীর উপত্যকার এক বিখ্যাত সন্ত শেখ উল আলম শেখ নুর দিন নুরানি একবার উপত্যকায় বসে জলের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিলেন৷ বহু প্রার্থনার পর যখন তিনি মাটি খোঁড়া শুরু করেন, তখনই জমি থেকে ঠিকরে বেরিয়ে আসে দুধের ধারা৷ এমতাবস্থায় তিনি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানান, এই দুধ যেন পান করার উপযুক্ত হয়ে ওঠে৷ তখনই রং বদলে দুধ হয়ে ওঠে জল এবং সন্ত তাঁর তৃষ্ণা নিবারণ করেন৷ তখন থেকেই এ জায়গার নাম হয় দুধপাথরি৷ এখনও দুধপাথরির গা বেয়ে দুধসাদা জলস্রোত নেমে আসে৷ তীব্র তার গতি৷

dudhpathri2_web
বয়ে চলার গান

দুধপাথরির চারপাশ মখমলের মতো নরম সবুজ ঘাসে ঘেরা৷ দূরে দূরে দাঁড়িয়ে থাকে পাইন বন৷ সবুজ উপত্যকায় ছবির মতো ঘুরে বেড়ায় ভেড়া-ঘোড়ার দল৷ ট্যুরিস্ট রিসেপশন পেরিয়ে পৌঁছতে হয় পরিহাজ নামের জায়গায়, স্থানীয় ভাষায় যাকে বলা হয় ‘পারেজ’৷ দুধপাথরির অন্তর্গত এই জায়গাও অবর্ণনীয় সুন্দর ও সৌম্য৷ ইচ্ছে হলে চেপে পড়ুন ঘোড়ার পিঠে অথবা পায়ে হেঁটে ট্রেকিং করে দেখে নিন আশপাশের জায়গা৷

dudhpathri3_web
নীলে জলে নিসর্গে

দর্শনীয় তালিকায় থাকুক সুখনাগ নালা– ৫০ ফুট উচ্চতায় এই জলধারাবেষ্টিত অঞ্চলকেই বলা হয় দুধপাথরি৷ দুধপাথরির মূল প্রবেশদ্বার থেকে আট কিলোমিটার দূরে রয়েছে শালিগঙ্গা নদী৷ ঘন নীলরঙা এই নদীর চারপাশের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে৷ ৯,০০০ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত এ জায়গা পাহাড়ি গাছের সবুজে মোড়া, তারই বুক চিরে বয়ে চলে শালিগঙ্গা, যার উৎপত্তি আলিটার নামের জায়গা থেকে৷ আলিটার প্রায় সারা বছরই বরফ মোড়া৷ সেখান যেতে হলে ভরসা ঘোড়া৷ শালিগঙ্গা নদীর ওপর রয়েছে ছোট্ট কাঠের সাঁকো৷ সাঁকো ধরে হেঁটে আসতে পারেন ওপারের ঘন জঙ্গল মোড়া পাহাড়ের দিকে৷ শান্ত প্রকৃতিঘেরা এ জায়গা৷ শব্দ বলতে কানে আসবে পাখির ডাক আর জলের শব্দ৷
এছাড়া সময় থাকলে দুধপাথরির পশ্চিমে ঘুরে আসুন তোসাময়দান৷ দুধপাথরি থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে ইয়ুসমার্গও দেখে আসুন৷

dudhpathri4_web
প্রাকৃতিক মার্গে

কীভাবে যাবেন:
জম্মু অবধি ট্রেনে গিয়ে গাড়িতে শ্রীনগর পৌঁছন৷ ফ্লাইটে গেলে দিল্লি হয়ে শ্রীনগর বিমানবন্দর৷ শ্রীনগর থেকে গাড়িতে দুধপাথরি পৌঁছে যান৷ ছোট-বড় দু’ধরনের গাড়ি পাবেন৷
কখন যাবেন:
শীতে বরফ পড়ে দুধপাথরির রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়৷ আগস্ট থেকে অক্টোবর খুব ভাল সময়৷
কোথায় থাকবেন:
দুধপাথরি হাটমেন্ট এরিয়াতে দুধপাথরি ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের দ্বিশয্যার হাট রয়েছে৷ পর্যটক কম হওয়ায় সমস্ত সুযোগ-সুবিধা না-ও মিলতে পারে৷ তাই যাওয়ার আগেই বুকিং করতে হবে৷ শ্রীনগরে থাকার জায়গা প্রচুর৷ সেখানে থেকেও গাড়ি করে ঘুরে নেওয়া যায় দুধপাথরি।
কী খাবেন:
শ্রীনগরে ল্যাম্ব কারি, গোলাপিরঙা চা ‘শির’, কোশের তামোল চালের ভাত, রাজমা-শালগমের তরকারি, জাফরান দেওয়া চা ‘কাহওয়া’ ও রোগনজোশ অবশ্যই খেয়ে দেখুন৷

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং