রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, ‘মেঘের পরে মেঘ জমেছে, আঁধার করে আসে।’ বর্ষার এই মেঘ-আঁধারের রূপ দেখতেই বাঙালির মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। পাহাড়ের খাঁজে মেঘেদের লুকোচুরি আর পাইন বনের পাতা চুইয়ে পড়া বৃষ্টিফোঁটা। এই মরশুমে শৈলশহরের মাদকতাই আলাদা। পাহাড়ের ডাকে সাড়া দিয়ে মেঘছায়ার খোঁজে হারিয়ে যাওয়ার এই অমোঘ টান বর্ষায় যেন খানিক বেড়ে যায়। কিন্তু মনে রাখবেন, প্রকৃতির এই রূপ যেমন মোহময়ী, তেমনই মারাত্মক। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ে ধস আর হড়পা বান দেখা দিলে প্রাণ হাতে করে ফিরে আসাটাও কঠিন হয়ে পড়ে বইকি! তাই এই মুহূর্তে যদি কোনও ট্যুর প্ল্যান বা রোড ট্রিপ থাকে, তবে তা স্থগিত রাখুন। বর্ষা না থামা পর্যন্ত দেশের এই ৬টি জায়গায় ভুলেও যাবেন না।

আরও পড়ুন:
লোনাভালা এবং খাণ্ডালা (মহারাষ্ট্র)
সহ্যাদ্রি পর্বতের রূপ দেখতে এই সময়ে অনেকেই লোনাভালা বা খাণ্ডালায় ছুটে যান। কিন্তু পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় অবিরাম বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি এখন বেশ জটিল। মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ে এবং করজাত-লোনাভালা রুটে বারবার ধস নামছে। রাস্তা জলমগ্ন, ট্রাফিক স্তব্ধ। আবহাওয়া দফতরও মুম্বই ও রায়গড়ে লাল সতর্কতা জারি করেছে। পাহাড়ি রাস্তায় এই মুহূর্তে গাড়ি চালানো চরম বিপজ্জনক।
হিমাচল প্রদেশ
হিমাচলের রূপ বর্ষায় খোলতাই হলেও, এখন সেখানকার পরিস্থিতি ভালো নয়। ভারী বৃষ্টিতে হড়পা বান এবং ধসের কবলে পড়েছে তির্থান ভ্যালি ও চম্বা অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। লাবজি-সাঁইজ রোড এবং চম্বা-তিসা রোডে পাথর ও কাদা ধসে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। ট্রেকিং বা পাহাড় ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে এখনই মনস্থির করবেন না।

গঙ্গোত্রী (উত্তরাখণ্ড)
চারধাম যাত্রার অন্যতম পুণ্যভূমি গঙ্গোত্রী। কিন্তু গঙ্গোত্রী হাইওয়ের একাধিক জায়গায় ধস নামায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। পাহাড়ি ঢালগুলি এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ধসপ্রবণ। নদীগুলির জলস্তরও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। প্রশাসনের সবুজ সংকেত না মেলা পর্যন্ত গঙ্গোত্রী যাত্রা স্থগিত রাখাই শ্রেয়।
ডোডা ও কিশ্তওয়ার (জম্মু ও কাশ্মীর)
হিমালয়ের কোলে এই দুটি অফবিট ডেস্টিনেশন এখন পর্যটকদের জন্য নিরাপদ নয়। অনবরত বৃষ্টি আর হড়পা বানে দুই জেলার সংযোগকারী হাইওয়েটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া দফতর আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। তাই এখনই কাশ্মীরের এই দুর্গম প্রান্তে পা বাড়াবেন না।
ধেমাজি ও উত্তর-পূর্ব ভারত (অসম ও অরুণাচল প্রদেশ)
অসমের ধেমাজি জেলা বন্যায় ভাসছে। রেললাইনের পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে, বহু গ্রাম বিচ্ছিন্ন। অন্যদিকে, লাগাতার বৃষ্টিতে অরুণাচলের পাহাড়ি এলাকাতেও ধস নেমেছে। রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উত্তর-পূর্ব ভারতের এই অংশে পর্যটন এখন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা উচিত।

ওয়ানাড় (কেরল)
কেরলের এই সুন্দর পাহাড়ি জেলাটি আবারও প্রকৃতির রোষের মুখে। ওয়ানাড়ের চুরালমালার কাছে মীনাক্ষী এলাকায় নতুন করে ধস নেমেছে। উদ্ধারকাজ চলছে জোরকদমে। ওয়ানাড়ের কিছু অংশ খোলা থাকলেও, ধসপ্রবণ এলাকাগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এই সময়ে কেরল ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই ভালো।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ব্রাজিল ম্যাচের আগেই পানামার বিরুদ্ধে নামবে ভারত, দিনক্ষণ জানিয়ে দিল ফেডারেশন
-
ঠিকভাবে উল্লেখ নেই রাস্তার নাম! কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড বিন্যাস নিয়ে ৭ দফা আপত্তি সিপিএমের
-
হাসপাতালে থাকতে নারাজ বিমান বসু, ফিরতে চাইছেন কলকাতায়! কবে ছুটি?
-
দার্জিলিঙে রোপওয়ে, সুন্দরবনে প্রমোদতরী! পর্যটনকে ঢেলে সাজাতে মাস্টার প্ল্যান রাজ্যের
-
আচমকা মস্কোয় অবতরণ করল মার্কিন সেনার বিমান! ঘনাচ্ছে রহস্য, কী বলল ক্রেমলিন?