ভাবুন তো একবার! কাঞ্চনজঙ্ঘার কোল ঘেঁষে ছুটছে কু ঝিকঝিক রেল। পাহাড়ি বাঁকে বাঁকে ঝুঁকে আছে ধূসর মেঘ। আর সেই মেঘ ছুঁয়ে আপনার ট্রেন এগিয়ে চলেছে গন্তব্যে। সেভক থেকে রংপো। কী স্বপ্ন মনে হচ্ছে? না, স্বপ্ন নয়। এবার পাহাড়ের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ট্রেন পৌঁছবে ভারত-চীন সীমান্তের নাথু লা-য়। সম্প্রতি গ্যাংটক থেকে নাথু লা পর্যন্ত রেললাইনের চূড়ান্ত সমীক্ষা বা ‘ফাইনাল লোকেশন সার্ভে’ শুরু করল ভারতীয় রেল। যারা এবার সিকিমে বেড়াতে যাবেন ভাবছেন, তাদের পোয়া বারো। শুধু যে পর্যটনের খরচ কমবে, তা নয়। হাতে সময় নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারবেন নিজের মর্জিমতো। পর্যটকদের বিশেষ ব্যবস্থা দিতে এবার সিকিমে গড়ে উঠছে রেল নেটওয়ার্ক।

আরও পড়ুন:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। হিমালয়ের কঠিন ভূপ্রকৃতিকে জয় করে রেলের মানচিত্রে জায়গা করে নিতে চলেছে সিকিম (Rail Project in Sikkim)। রেল সূত্রে খবর, রংপো থেকে গ্যাংটক পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের সমীক্ষা ইতিমধ্যেই শেষ। এখন চলছে বিশদ প্রকল্প রিপোর্ট বা ডিপিআর তৈরির কাজ। সেই পরিকল্পনা অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকাকালীনই এক ধাপ এগিয়ে নাথু লা পর্যন্ত লাইন নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই সীমান্ত এলাকাটি কৌশলগত ও পর্যটন— উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমীক্ষার রিপোর্টে সবুজ সংকেত মিললে আগামী দু’বছরের মধ্যেই শুরু হতে পারে নির্মাণকাজ।

সিকিমের পাহাড়ি পথে ট্রেনের হুইসল এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যেই সেভক থেকে রংপো পর্যন্ত ট্রেন ব্যবস্থা চালু হবে। ৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে থাকবে পাঁচটি স্টেশন— সেভক, রিয়াং, তিস্তা বাজার, মেল্লি এবং রংপো। রেলপথে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সিকিমে প্রবেশের এই যাত্রাপথ হবে রোমাঞ্চকর। পাহাড়ের পেট চিরে তৈরি হয়েছে ১৪টি সুড়ঙ্গ এবং ১৩টি বড় সেতু। ইরকন ইন্টারন্যাশনালের ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে এই কাজ রীতিমতো চ্যালেঞ্জের। বর্তমানে সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ প্রায় শেষ। খুব শীঘ্রই শুরু হবে লাইন পাতার তোড়জোড়।

এখনও পর্যন্ত ভারতের একমাত্র রাজ্য হিসেবে সিকিমে কোনও চালু রেল নেটওয়ার্ক নেই। বর্ষায় ধস নামলে বা প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলে শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক যাতায়াত দুরুহ হয়ে পড়ে। ট্রেন চালু হলে সেই ছবিটা আমূল বদলে যাবে। পর্যটকদের সুবিধের পাশাপাশি পণ্য পরিবহণেও আসবে গতি। নাথু লা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা মজবুত হলে সীমান্তে রসদ পৌঁছনো অনেক সহজ হবে। ছাঙ্গু লেক বা বাবা মন্দিরের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলিও সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে চলে আসবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
১৫ ঘণ্টার পাওয়ার ব্লকে ভোগান্তিতে যাত্রীরা, দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিকের চেষ্টায় রেল
-
‘ভারতের যুবসমাজ হাতের পুতুল নয়’, ককরোচ পার্টিকে তোপ নীতীন নবীনের
-
সময় দিতে নারাজ পুলিশ, মেসিকাণ্ডে অরূপ বিশ্বাসকে সোমবারই ফের তলব, বাড়ছে গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা
-
তরুণীকে নিগ্রহ! অভিযোগ করায় ‘মারধর’, কলেজ স্ট্রিটে তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়ি ঘিরল বাহিনী
-
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে স্বস্তির জয় মেসিহীন আর্জেন্টিনার, জিতলেও চোট চিন্তায় ব্রাজিল