Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ১১ আগস্ট ২০২৬

শ্বেতী? চিন্তা নেই! রং বদলাবে সঠিক চিকিৎসায়!

কেউ বলেন ছোঁয়াচে, কারও মতে শ্বেতী বংশগত৷ এসব বুজরুকি!

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৬, ১৩:০৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৬, ১৩:০৯

options
link
শ্বেতী? চিন্তা নেই! রং বদলাবে সঠিক চিকিৎসায়! zoom
Advertisement

মৌশাখী বোস: কেউ বলেন ছোঁয়াচে, কারও মতে শ্বেতী বংশগত৷ এসব বুজরুকি! কান দেবেন না৷ প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা করালে সাদা দাগ মিলিয়ে যায়৷
আসলে ভিটিলিগো বা শ্বেতী হল চামড়ার অসুখ৷ এই রোগে ত্বক তার সাধারণ রং হারাতে শুরু করে৷ যার ফলে গায়ের রং অতিরিক্ত সাদা হয়ে যায়৷

কারণ:
আজ পর্যন্ত চিকিৎসাবিদ্যায় শ্বেতীর সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ তাই একে অটোইমিউন ডিজিজও বলা হয়৷ এ ক্ষেত্রে দেহের অ্যান্টিবডি কোনও অজ্ঞাত কারণে দেহের রং উৎপাদক কোষগুলিকে (মেলানোসাইট কোষ) শত্রু ভেবে ধ্বংস করতে থাকে৷

Advertisement

ধরন:
ফোকাল শ্বেতী (Focal Vitiligo): এই প্রকার রোগে দেহের বিশেষ কোনও স্থানে দাগ হতে পারে৷
বুলগেরিক শ্বেতী (Bulgeric Vitiligo): এই ধরনের শ্বেতীতে দেহের অনেক জায়গায় সাদা দাগ হয়৷
অ্যাক্রাল শ্বেতী (Acral Vitiligo): এই প্রকার শ্বেতীতে হাতে, পায়ে ও ঠোঁটে সাদা দাগ আসে৷
মিক্সড শ্বেতী (Mixed Vitiligo): এই ধরনের শ্বেতী হাত-পা ও গায়ে হতে পারে৷

চিকিৎসা:
শ্বেতীর প্রথম ও প্রধান চিকিৎসা হল রোগীর পূর্বের রং ফিরিয়ে আনা৷ এর জন্য কিছু ওষুধ ব্যবহৃত হয়৷
দাগযুক্ত স্থানে স্টেরয়েড মলম লাগানো৷
সোরোলিন জাতীয় ওষুধ মেখে রোদে বসা৷
স্টেরয়েড ওষুধ খাওয়া৷
শ্বেতী বেড়ে গেলে সোরালিন জাতীয় ওষুধ খাওয়া৷
ওষুধে যদি ভাল কাজ না হয় তখন চিকিৎসক আল্ট্রাভায়োলেট লাইট TLOI অথবা Exeimer Laser-এর সাহায্যে রং ফেরানোর চেষ্টা করেন৷
যখন অল্প স্থানে রং ফেরানো সম্ভব হয় না, তখন পিগমেন্ট গ্রাফটিং করা হয়৷

ছুঁৎমার্গ:
বিদেশে শ্বেতী নামক রোগটিকে কেউই আমল দেন না, কারণ এতে চামড়ার রং পরিবর্তন ছাড়া অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা হয় না৷ কিন্তু আমাদের দেশে শ্বেতী নিয়ে মানুষের মনে নানা কুসংস্কার রয়েছে৷ ফলে শ্বেতী হলে অনেককেই প্রায় একঘরে করে দেওয়া হয়৷ মেয়েদের বিয়েতে সমস্যা হয়, রোগীর সংস্পর্শে যেতে মানুষ ভয় পান৷ এ নিয়ে চিকিৎসা মহলে বহু আলোচনার পর এখন মানুষের মধ্যে মানসিকতার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে৷ আশা করা যায় ভবিষ্যতে শ্বেতী নামক রোগটি আর অভিশাপ হয়ে থাকবে না!

জেনে রাখুন:
এটি ছোঁয়াচে অসুখ নয়।
বংশগত অসুখও নয়।
লিভার খারাপ হলে শ্বেতী হয় না।
রক্ত অশুদ্ধ হলে শ্বেতী হয় না।
বিশেষ কিছু কড়া ওষুধ খেলেও শ্বেতী হয় না।
সাদা খাবার, যেমন ডিম, দুধ ও টক জাতীয় খাবার খেলে এই রোগ বাড়ে না৷
মায়ের শ্বেতী থাকলে ভাবী সন্তানেরও শ্বেতী হবে, তার কোনও মানে নেই৷

সতর্কতা:
যাঁদের গায়ের রং ফর্সা, তাঁদের প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়ে না৷ তাই শরীরে কোনও সাদা দাগ দেখলেই দ্রুত ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন৷
ত্বকের সঙ্গে চেপে রেখে বেল্ট বা দড়ি বাঁধবেন না৷
খেয়াল রাখবেন- কোথাও চোট পেয়ে যেন ত্বকের ক্ষতি না হয়৷
কোথাও পুড়ে গেলে দ্রুত তার চিকিৎসা করান৷
রোদে বেরনোর আগে সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন৷
যদি দেহে জ্বালা বা চুলকানি হয়, চিকিৎসককে জানান৷

আরও জানতে ইন্ডিয়ান সোসাইটি ফর পেডিয়াট্রিক ডার্মাটোলজির চেয়ারম্যান ডা. সন্দীপন ধরকে ফোন করুন এই নম্বরে- 9874968139। এছাড়া ক্লিক করে দেখে নিন epaper.sangbadpratidin.in

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.