Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ২০ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস: সুস্থ থাকতে দুধে-ভাতে না থেকে পালটে ফেলুন অভ্যাস

বাঙালির সুখেই লুকিয়ে অসুখের বীজ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০১৮, ২১:৫৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০১৮, ২১:৫৫

options
link
বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস: সুস্থ থাকতে দুধে-ভাতে না থেকে পালটে ফেলুন অভ্যাস zoom
Advertisement

ধারণা বদলালেই ডায়াবেটিস ঘায়েল। বাঙালির সুখেই লুকিয়ে অসুখের বীজ। দুধে-ভাতে না থেকে আজই পালটে ফেলুন অভ্যাস। সাবধান করলেন নারায়ণা সুপার স্পেশ্যালিটি হসপিটাল, হাওড়ার বিশিষ্ট এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. হৃদীশ নারায়ণ চক্রবর্তী

“আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে।” ঈশ্বরী পাটনী, মা অন্নপূর্ণার কাছ থেকে এই বর চান তাঁর সন্তানের কল্যাণ কামনায়। শুধু ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের ‘অন্নদার ভবানন্দ ভবন যাত্রা’ কবিতায় ঈশ্বরী পাটনীর নয়, বাঙালির ঘরে ঘরে এ প্রার্থনা আজও সর্বকালীন। সুস্থ থাকতে সারাদিনে একবার ভাত খেতে হবেই। দুধে-ভাতে হৃষ্টপুষ্ট থাকতে পারা সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ বলেই ধরে নেওয়া হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে অর্থাৎ ভারতবর্ষ যেখানে মধুমেহ (Diabetes Mellitus) রোগের রাজধানী বলে পরিচিত হতে চলেছে, সেখানে এই ধারণা বদলানো অনিবার্য।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

বদ অভ্যাস:
এদেশে বর্তমানে অনেকেই বর্ডার লাইন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এঁদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে যেকোনও সময়ই ডায়াবেটিস ধরা পড়তে পারে। এক্ষেত্রে তাঁদের জীবনশৈলী ও খাদ্যাভ্যাসই মূল দায়ী। বিশেষ করে পূর্ব ভারত ও দক্ষিণ ভারতের মানুষেরা খুব ভাত ভক্ত। অনেকে এমনও আছেন যাঁরা দিনে দু’বার বা তিনবার ভাত খেয়ে থাকেন। এই অভ্যাসটি ডায়াবেটিস রোগের একটি অন্যতম কারণ হতে পারে।

[মেনোপজের পরও মিলন সম্ভব! উপায় বাতলালেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ]

ভাত কম:
সাধারণত যে চাল ব্যবহার করি তা একপ্রকার পরিশুদ্ধ খাবারের (Refined Food) তালিকায় পড়ে। সেদিক থেকে ব্রাউন রাইস (Brown Rice) অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। কারণ এতে ফাইবারের মাত্রা অনেক বেশি। এছাড়া আমরা সাধারণত যে সাদা চাল বা White Rice খাই সেই চালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (Glycemic Index) অনেক বেশি। যে সব কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবারে (চাল) গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি, সেই খাবার রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায় অনেক দ্রুত। সেদিক থেকে ব্রাউন রাইসের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁদের রোজকার ডায়াটে ভাতের পরিমাণ বেশি তাঁদের ডায়াবেটিসের প্রবণতা অনেক বেশি। বিশেষত এদেশের মানুষদের মধ্যে। এর কারণ হিসাবে গবেষকরা অনুমান করেছেন, হাজার-হাজার বছর আগে ভাত খাওয়ার পরিমাণ ও দৈনিক পরিশ্রমের পরিমাপের মধ্যে সমতা ছিল। আজকের দিনে প্রায় অনেকেরই জীবনযাপনে সেই সমতা নেই। সারাদিনে দেখা যায় আমরা বেশি মাত্রায় Refined Carbohydrate (ভাত, ময়দা) পেস্ট্রি, শর্করাযুক্ত পানীয় (কোল্ড ড্রিংক) খাই। অন্যদিকে পরিশ্রম বা ক্যালোরি-খরচের অংশটা কম। এতে ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে বটেই।

ডায়াবেটিসে সর্বম্‌ অত্যন্তম্‌ গর্হিতম:
সংস্কৃত এই প্রবাদের অর্থ, প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে কোনও জিনিসই ক্ষতিকারক হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগের ক্ষেত্রে এই প্রয়োজন অতিরিক্ত বিষয়টি হল অতিরিক্ত ওজন আর বেশি খাওয়া। আমাদের এক বদ্ধ ধারণা রয়েছে, মোটা চেহারা, যাকে চলতি কথায় আমরা নাদুস নুদুস বলি, তা সুস্থতার লক্ষণ। তা কিন্তু নয়। এই মোটা চেহারার মানুষ অপুষ্টি শ্রেণিতেই অন্তর্ভুক্ত। যা ডায়াবেটিস রোগের আর একটি কারণ। ভিলেন অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস। কাজেই সুস্থ থাকতে স্বাভাবিক পুষ্টি বজায় রেখে খাবার খাওয়া জরুরি। খেতে হবে সুষম আহার। অর্থাৎ কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল যেন সঠিক পরিমাণে থাকে ডায়েটের মেনুতে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। খাওয়ার পাশাপাশি জীবনশৈলীর সঠিক পরিবর্তন প্রয়োজন। অতীতকালের ন্যয়ে এখনও ‘নিয়মিত ব্যায়াম ও পরিমিতি আহার’- এই মন্ত্র মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায় বলা যায়। তাই দুধে-ভাতে বাঙালির শরীর বুঝে ও মেপে ভাত এবং অন্যান্য খাবার খাওয়া জরুরি।

[ওষুধ নয়, ঘরোয়া টোটকায় সারান পেট খারাপ]

শুরুতেই নির্মূল:
কারও যদি ছোট থেকেই তিনবার ভাত খাওয়ার অভ্যাস থাকে তবে পরবর্তীকালে সেই অভ্যাস বদলানো কঠিন। কারণ আমাদের ব্রেনে অভ্যাস সেইভাবেই তৈরি হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে খাওয়ার অভ্যাস বদলের প্রয়োজন হলে শরীর বা মন সেই পরিবর্তন মানতে চায় না। তাই এ ব্যাপারে শিশু বয়স থেকেই সচেতন হওয়া দরকার। বাবা-মায়েরা শিশুকে সেইভাবেই খাওয়ার অভ্যাস করান যাতে বড় বয়সে সেই অভ্যাস কোনও বিপদ ডেকে না আনে। এবং নিজেরাও সেই খাদ্যাভাস মেনে চলুন। ডায়াবেটিস প্রতিরোধের এটাই মূলমন্ত্র হওয়া উচিত।

খাবারের রেখাচিত্র:
সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের কিংবা ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে খাদ্যতালিকায় দ্বিগুণ মাত্রায় সবজি রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে মাটির তলার সবজি ছাড়া বাকি সমস্ত সবজিই নিরাপদ। চিনি, ভাত, ময়দা, পাউরুটি যতটা সম্ভব কম খেতে হবে। এক-তৃতীয়াংশ দুগ্ধজাতীয় খাবার খাওয়া জরুরি। দুধ, পনির খাওয়া যেতে পারে। রোজ টক দই খেতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো অল্প মাত্রায় প্রাণিজ প্রোটিন (মাছ, মাংস) খাওয়া ডায়াবেটিস থাকলেও নিরাপদ। দিনে একবার অল্প ভাত কিংবা আটার রুটি খাওয়া যেতে পারে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.