BREAKING NEWS

১২ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

ফিরে দেখা ২০১৭: স্মৃতির সরণিতে রয়ে গেলেন যাঁরা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: December 28, 2017 10:58 am|    Updated: September 18, 2019 1:48 pm

An Images

জীবন আর মৃত্যুর চাকাটি পরস্পরের সঙ্গে বড় বেশি সম্পৃক্ত। এই সত্য কারওরই অজানা নয়। কিন্তু প্রয়াণ শোকের ছাপ রেখেই যায় অনুরাগীমহলে। ২০১৭-তেও সেই শোকের আঁধার আমাদের গ্রাস করেছে একাধিকবার। যে মানুষরা ছিলেন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী, তাঁদের ছেড়েই নতুন বছরের দিকে পা বাড়িয়েছি আমরা। বছর শেষের মুখে সেই প্রিয় মুখগুলিকে এবার স্মরণ করল সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল।

ওম পুরি

আগের দিনও শুটিং করেছিলেন। তখন টের পাওয়া তো দূরে থাক কেউ ভাবতেও পারেননি মানুষটা এভাবে চলে যাবে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ওম পুরি। পাঞ্জাবি পরিবারের ছেলেটি ছোট থেকেই বড় হয়ে উঠেছিলেন কঠিন অনুশাসনের মধ্যে৷ তবে অভিনয় ছিল তাঁর শরীরের প্রতিটি কনায়৷ আর বলিউড ছিল তাঁর ভবিতব্য৷ ‘আক্রোশ’, ‘আরোহণ’, ‘অর্ধ সত্য’, ‘জানে ভি দো ইয়ারোঁ’-এমন হাজারও স্মৃতি রেখে গেলেন ৬৬ বছরের অভিনেতা৷ তাই চিরকালীন সম্পদ হয়ে থাকল সিনেপ্রেমীদের জন্য৷

Om-Puri_web-Sangbad-Pratidin

আলতামাস কবীর

দীর্ঘ রোগভোগের পর প্রয়াত হলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি আলতামাস কবীর। ফেব্রুয়ারি মাসের ১৯ তারিখ শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ৬৮ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ১৯৪৮ সালে অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুরে বাঙালি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের এই ৩৯তম প্রধান বিচারপতি। তাঁর বাবা জাহাঙ্গীর কবীর ছিলেন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ। কাকা হুমায়ুন কবীর জওহরলাল নেহেরু এবং লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।

Altamas-Kabir_web

বনশ্রী সেনগুপ্ত

একই দিনে প্রয়াত হন বাংলা সংগীত জগতের কিংবদন্তি শিল্পী বনশ্রী সেনগুপ্ত। বহুদিন ধরেই কিডনি ও ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন স্বর্ণযুগের স্বনামধন্য শিল্পী। একাধিকবার হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। ছাড়াও পেয়ে গিয়েছিলেন প্রতিবার। তবে ১৯ ফেব্রুয়ারির সকালে এল ‘এক মন খারাপের চিঠি’। ‘দূর আকাশে’ চিরকালের জন্য চলে গেলেন সংগীতশিল্পী। কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পীরা।

banashree-2-web

কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য

লোকগানের সুর তিনি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন নাগরিক সীমানায়৷ টেলিভিশনের রিয়্যালিটি শো তাঁর জন্যই পেয়েছিল মাটির সুর, মাটির গানের ছোঁয়া৷ পথ দুর্ঘটনা থামিয়ে দিল সেই সুরের সফর৷ মার্চ মাসের প্রথমে প্রাণ হারান সংগীতশিল্পী কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য৷ হুগলির গুড়াপে এক পথ দুর্ঘটনায় পড়েন শিল্পী ও তাঁর সঙ্গীরা৷ কলকাতা ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারায় তাঁর গাড়ি৷ পড়ে যা নয়ানজুলিতে৷ এমন জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটে যেখানে উদ্ধারকাজ চালানো সহজ ছিল না৷ ফলত বেশ খানিকটা পরেই উদ্ধার করা হয় তাঁদের৷ নিয়ে যাওয়া বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে৷ সেখানে মৃত ঘোষণা করা হয় শিল্পীকে৷ ঘটনার আকস্মিকতায় শোকাহত হয়েছিল শিল্পীমহল৷

kalikaprasad_web-1

বিনোদ খান্না

চলতি বছরেই জাগতিক জগৎ ছেড়ে চলে গেলেন অভিনেতা-সাংসদ বিনোদ খান্না। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। মুম্বইয়ের গিরগাম এলাকার এইচএন রিলায়েন্স ফাউনডেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে ভর্তি ছিলেন। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অভিনয় জীবনের শুরুটা নেগেটিভ চরিত্র দিয়ে করলেও খুব শিগগিরিই নায়কের চরিত্রে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন বিনোদ খান্না। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত ছিল সেই পালা। ‘হেরাফেরি’, ‘মুকাদ্দর কা সিকন্দর’, ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’-র মতো ছবিতে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে গিয়েছেন অমিতাভ বচ্চনের পাশাপাশি। বেশ কয়েকবার ফিল্মফেয়ারের সহ-অভিনেতার পুরস্কার পুরে নিয়েছেন নিজের ঝুলিতে। শেষে দিনগুলোতে রাজনৈতিক জীবন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা।

vinod-khanna_sangbad-pratidin

রীমা লাগু

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মুম্বইয়ের কোকিলাবেন আম্বানি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী রীমা লাগু৷ মারাঠি মঞ্চেই হয়েছিল তাঁর হাতেখড়ি৷ কেবলমাত্র নায়িকা হওয়ার তাগিদে নয় অভিনয় তিনি করতেন ভালবেসে৷ তাই নায়িকা হওয়ার ইঁদুর দৌড়ে শামিল না হয়ে বেছে নিতেন ভাল চরিত্র৷ এমন চরিত্র যা তাঁকে অভিনেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে৷ সেটাই বলিউডে করে দেখিয়েছিলেন ‘ক্যায়ামত সে ক্যায়ামত তক’ ছবিতে৷ জুহি চাওলার মায়ের চরিত্রে তাঁর বলিষ্ঠ পারফরম্যান্স আজও দর্শকদের মনের মণিকোঠায় সযত্নে রাখা৷ এরপর আর বলিউডে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি রীমাকে৷ পার্শ্বচরিত্রে তাঁর খ্যাতি দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে৷ বহু বলিউড তারকার মা হিসেবে দেখা গিয়েছে তাঁকে৷ টেলিভিশনের জগতেও ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন রীমা৷ এখনও বোকাবাক্সের দর্শকদের সেরার তালিকায় রয়েছে তাঁর অভিনীত ‘শ্রীমান শ্রীমতি’ ও ‘তু তু ম্যায় ম্যায়’র মতো সিরিয়াল৷

Reema-Lagoo

স্বামী আত্মস্থানন্দ

চলতি বছরেই রামকৃষ্ণলোকে পাড়ি দিলেন স্বামী আত্মস্থানন্দ।আর্তের সেবায় আত্মস্থানন্দজির অবদান অনস্বীকার্য। সামাজিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে তিনি ব্যতিক্রমী এক জীবন।গুজরাটের রাজকোট মিশনে আত্মস্থানন্দজির সংস্পর্শে এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। অধ্যক্ষকে মোদি গভীরভাবে শ্রদ্ধা করতেন এবং গুরুজি বলে সম্বোধন করতেন। এমনকী আত্মস্থানন্দজি অসুস্থ হওয়ার পর তিনি কলকাতায় এসে দেখে গিয়েছিলেন। অধ্যক্ষর প্রয়াণের ঘটনা ছুঁয়ে গিয়েছে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে। টুইটারে তিনি জানান, স্বামী আত্মস্থানন্দজির প্রয়াণ খুব কাছের কাউকে হারানোর সমান। মানবতার অপূরণীয় ক্ষতি হল। বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ATMASTHANDAND

[ফিরে দেখা ২০১৭: ভাইরাল হয়েছিল যে সব ঘটনা]

সবিতা চৌধুরি

জুনের শেষের দিকে প্রয়াত হন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী সবিতা চৌধুরি। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসার জন্য বেশ কিছুদিন মুম্বইতে ছিলেন। পরে কলকাতায় ফিরে আসেন। শহরেরই এক হাসপাতালেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর। সেখানেই শেষ হয় জীবন-মরণের লড়াই। বাঙালির জন্য অজস্র সুরেলা স্মৃতি রেখে ৭২ বছর বয়সে বিদায় নিলেন কিংবদন্তি সুরকার সলিল চৌধুরির স্ত্রী। ঘরোয়া এই জুটির সৌজন্যেই বাঙালি পেয়েছে সুরের এমন ঝরনা যা চিরকালের সম্পদ হয়ে রয়ে যাবে মনের মণিকোঠায়। ‘মরি হায় গো হায়’, ‘ঘুম আয় ঘুম হায়’, ‘যা রে যা যা মন পাখি’, ‘হলুদ গাঁদার ফুল’- এমন কতই না মণিমুক্ত ছড়ানো রয়েছে সে ভাণ্ডারে।

Sabita-Death

সুমিতা সান্যাল

তিন দশক ধরে টলিউডে ও বলিউডে চুটিয়ে অভিনয় করেছিলেন৷ অভিনয়ের দক্ষতা প্রমাণ করতে যে একটি দৃশ্যই যথেষ্ট তা ‘নায়ক’ ছবিতে প্রমাণ করে দিয়েছিলেন সুমিতা সান্যাল। আসল নাম ছিল মঞ্জুলা। তবে তাঁর নামটা পছন্দ হয়নি পরিচালক বিভূতি লাহার। তাই তাঁর নাম পরিবর্তন করে নাম রাখেন সুচরিতা। পরবর্তীকালে সেই নামকে আবারও পরিবর্তন করেন পরিচালক কণক মুখোপাধ্যায়। তাঁর নামকরণ করা হয় সুমিতা। আর এই নামেই বলিউড থেকে টলিউডে জনপ্রিয়তা পান সুমিতা সান্যাল। এরপর ১৯৬০ থেকে প্রায় ৩৪টি বাংলা ছবি ও ৫টি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন সুমিতা দেবী। তারই মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘কুহেলি’, ‘সাগিনা মাহাতো’, ‘নায়ক’, ‘আনন্দ’। জুলাই মাসের প্রথম দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হয় বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর।

sumita-sanyal_web

শোভা সেন

আগস্ট মাসে প্রয়াত হন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব শোভা সেন। ৯৬ বছর বয়সে দক্ষিণ কলকাতার ম্যুর অ্যাভিনিউর বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। উৎপল দত্তের স্ত্রীর পরিচয়ের পাশাপাশি নাটক এবং সেলুলয়েডে তাঁর অভিনয় চিরস্মরণীয়। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল শোভা সেনের। গণনাট্য সংঘকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শোভাদেবীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘নবান্ন’, ‘টিনের তলোয়ার’, ‘তিতুমীর’- এইসব নাটক ঝড় তুলে দিয়েছিল বাঙালির মননে। যেখানে নিজের অভিনয় ক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন শোভা সেন।

shova-sen-died

সুলতান আহমেদ

সেপ্টেম্বরের প্রথমেই আসে খবরটা। রিপন স্ট্রিটের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন উলুবেড়িয়ার তৃণমূল সাংসদ ও মহামেডান ক্লাবের সভাপতি সুলতান আহমেদ। দ্রুত বেলভিউ নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ডাক্তাররা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। দলীয় সাংসদের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  শোকের ছায়া নেমে এসেছে ময়দান ও ক্রীড়াজগতেও। কারণ রাজনীতির পাশাপাশি প্রায় চার দশক ধরে ক্রীড়াজগতের সঙ্গে তাঁর ছিল নিবিড় সম্পর্ক। আমৃত্যু দলের সংসদীয় কমিটির ডেপুটি লিডার ছিলেন সুলতান। ইসলামিয়া হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক, আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহ সভাপতি এবং মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য ছিলেন।

Sultan-CBI

বায়ুসেনার প্রথম মার্শাল অর্জন সিং

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন দেশের প্রথম বায়ুসেনা মার্শাল, অর্জন সিং। নিজের দীর্ঘ কেরিয়ারে ৬০-এর বেশি বায়ুসেনা বিমান উড়িয়েছেন তিনি। ১৯৬৯ সালে তিনি অবসর নেন। ভারত-পাক যুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল ৪৪। এই যুদ্ধে তাঁর কৃতিত্ব ভোলার নয়। ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের পানাগড়ের এয়ারবেসটি অর্জন সিংয়ের নামে করা হয়। জীবিত অবস্থায় কারও নামে ঘাঁটির নজির বিরল। বায়ুসেনা থেকে অবসরের পরও তাঁকে বিভিন্ন দায়িত্বে দেখা গিয়েছে। সুইজারল্যান্ড ও ভ্যাটিকান সিটিতে তিনি ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসাবে কাজ করেছেন। হাই কমিশনার ছিলেন কেনিয়ায়। তাঁর কর্মদক্ষতাকে কুর্নিশ করে ২০০২ সালে মার্শাল অব দ্য এয়ার ফোর্স সম্মানে তাঁকে সম্মানিত করা হয়।

Arjan-Singh

দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়

শারদীয়া উৎসবের মাঝেই আসে দুঃসংবাদ। সপ্তমীর ভোরে প্রয়াত হন প্রবীণ অভিনেতা দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘সমাবর্তন’, ‘অভিমুখ’,‘মল্লভূমি’-র মতো বহু নাটকে অভিনয় করেছেন। কয়েক দশক ধরে মঞ্চে তাঁর অভিনয় মুগ্ধ করেছিল দর্শকদের। নব্বই দশকের গোড়ায় সিরিয়ালের প্রথম যুগে অভিনয় করেছেন টেলিভিশনেও। টেলিভিশনের তাঁর অভিনীত ‘যখের ধন’, ‘চুনি-পান্না’-র মতো সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি অধ্যাপনা করেছেন রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্ষীয়ান এই অভিনেতা অ্যালঝাইমার্সে ভুগছিলেন বছর দু’য়েক ধরে। বন্ধ করে দিয়েছিলেন কাজকর্ম, বাড়িতেই থাকতেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

actor_web

[ফিরে দেখা ২০১৭: বছর জুড়ে যে সব ঘটনার ঘনঘটা]

টম অলটার

দূরারোগ্য ক্যানসারের কাছে এ বছরই হার মানলেন টম অলটার৷ শুক্রবার নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ৬৭ বছরের অভিনেতা৷ জন্মসূত্রে মার্কিন হলেও ভারতবর্ষই টমের নিজের দেশ ছিল। বড় হয়ে উঠেছিলেন উত্তরাখণ্ডের এক অখ্যাত গ্রামে। হিন্দি ভাষায় বিশেষ দক্ষতা ছিল তাঁর। দখল ছিল উর্দুতেও। বলিউডে তাঁর প্রবেশ ঘটেছিল ১৯৭৬ সালে। পরিচালক রামানন্দ সাগরের ‘চরস’ ছবিতে কাস্টমস অফিসার হিসেবে দেখা গিয়েছিল টমকে। এরপরই সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জ কে খিলাড়ি’-তে সুযোগ পেয়ে যান অভিনেতা। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক বলিউড ছবিতে অভিনয় করে চলেন তিনি। চরিত্র ছোট হলেও টমের বলিষ্ঠ অভিনয় তাঁকে এনে দিয়েছিল পরিচিতি।

Tom-Death

কুন্দন শাহ

ক্যামেরার কারসাজিতে জীবনের ‘নুক্কর’কে সাজিয়ে তুলেছিলেন। মানুষকে হাসতে শিখিয়েছিলেন ‘জানে ভি দো ইয়ারোঁ’ বলে। কালজয়ী ছবির সেই স্রষ্টা ঘুমের মধ্যে চিরনিদ্রায় চলে গেলেন। অক্টোবর মাসের ৭ তারিখ প্রয়াত হন প্রখ্যাত পরিচালক কুন্দন শাহ। ১৯৮৩ সালে ‘জানে ভি দো ইয়ারোঁ’ তৈরির পর দেশ তাঁকে চিনতে শিখে। পরিচালক হিসাবে প্রথম বাজিমাত করার পর সে বছর সেরা পরিচালকের পুরস্কার নিয়েছিলেন কুন্দন। এরপর অবশ্য তিনি ছোটপর্দায় মন দেন। দূরদর্শনে তাঁর কমেডি সিরিজ ‘ইয়ে জো হ্যায় জিন্দেগি’ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। প্রথম ছবির ৯ বছর পর ফের বড়পর্দায় হাত দেন। এবারও চমক। ১৯৯৩ সালে তাঁর ‘কভি হাঁ কভি না’ বক্স অফিসে সাড়া ফেলেছিল।

KUNDAN-SHAH

গিরিজা দেবী

শাস্ত্রীয় সংগীতের এক অধ্যায়ের অবসান হয় এ বছর। প্রয়াত হন গিরিজা দেবী। অদ্ভুত একটা বেনারসি তালিম ছিল গিরিজা দেবীর। কণ্ঠশিল্পী এবং সারেঙ্গিবাদক সরজুপ্রসাদ মিশ্রর কাছে তিনি প্রথমে খেয়াল এবং পরে টপ্পায় প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে চাঁদ মিশ্রর কাছেও শিক্ষা গ্রহণ করেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য গিরিজা দেবী পেয়েছেন বঙ্গবিভূষণ ‘পদ্মশ্রী’, ‘পদ্মভূষণ’, ‘পদ্মবিভূষণ’-এর মতো অজস্র সম্মান। ঠুংরি, কাজরি ও দাদরাকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। শুধু সংগীতশিল্পী হিসেবেই নয় মানুষ হিসাবে, শিক্ষিকা হিসাবে মানুষের মন জয় করে নিয়েছিলেন তিনি।

Girija-Devi

মান্নান হোসেন

দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। কিডনি বদল করেও শেষরক্ষা হল না। নভেম্বরে প্রয়াত হন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মান্নান হোসেন। মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নাম মান্নান হোসেন। ১৯৮৭ সালে মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার হন বিধায়ক। মান্নানের হাত ধরেই অধীর চৌধুরী কংগ্রেসে আসেন। গত লোকসভা ভোটে অবশ্য অল্প মার্জিনে হেরে যান। এরপর থেকেই অধীর চৌধুরির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়ে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। প্রাক্তন সহযোদ্ধা তথা রাজনৈতিক গুরুর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেন অধীর।

MANNAN-DIED

রীতা কয়রাল

দীর্ঘদিন ধরে অসুখে ভুগে অবশেষে ১৯ নভেম্বর প্রয়াত হলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রীতা কয়রাল। বহুদিন ধরেই মারণরোগ ক্যানসারে ভুগছিলেন। আর সেটাই কেড়ে নিল বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রীর প্রাণ। দীর্ঘদিন ধরেই টেলিভিশন ও সিনেমা জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তবে অভিনয় জীবনের বেশিরভাগ চরিত্রই ছিল নেগেটিভ। তবুও বাঙালীর ড্রয়িংরুমে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত। বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগে ‘বেয়াদপ’ হোক কিংবা হালফিলের অঞ্জন দত্ত পরিচালিত ‘দত্ত ভার্সেস দত্ত’ বা ‘পারমিতার একদিন’, নিজস্ব অভিনয়ে জয় করেছেন দর্শকদের মন। ঋতুপর্ণ ঘোষের সিনেমাতেও অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি।

rita-3

প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি

দীর্ঘদিন ধরে কোমায় থাকার পর প্রয়াত হন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২০০৮ থেকেই তিনি কোমায়। হারিয়েছিলেন বাকশক্তিও। দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। রাজনীতিবিদদের মতে প্রিয়রঞ্জনের প্রয়াণে বাংলা রাজনীতিতে একটা বর্ণময় অধ্যায়ের শেষ হল। তাঁর হাত ধরেই বাংলার ছাত্র পরিষদ ও যুব কংগ্রেস শাক্তিশালী হয়েছিল। এক সময়ে প্রিয়-সুব্রত জুটি ছিল বাংলার রাজনীতির মাইলস্টোন। সুব্রত মুখোপাধ্যায় অনেক আগেই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তবে বন্ধুর মৃত্যুতে শোকাহত হন তিনি।

PriyaRanjan-Web

[ফিরে দেখা ২০১৭: বছরভর নজর কেড়েছিল যা কিছু]

শ্রীরূপা বসু

নভেম্বরের ৩০ তারিখ প্রয়াত হন ক্রিকেট জগতের খ্যাতনামা নক্ষত্র শ্রীরূপা বসু। শুধুমাত্র জাতীয় ক্রিকেট দলে মহিলাদের অধিনায়কত্ব করাই নয় ১৯৯৩, ১৯৯৭ ও ২০০০ সালে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের কোচ হিসাবে গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরে মহিলা নির্বাচক কমিটির চেয়ারপার্সন হিসাবে দায়িত্ব সামলেছেন বহু বছর। তিরিশে নভেম্বর নিজ বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রাক্তন এই অলরাউন্ডার।

Untitled-1

শশী কাপুর

ম্যানারিজমে পারিবারিক আভিজাত্যকে ছাপিয়ে জাত অভিনেতা হয়েছিলেন। তার চেয়েও বেশি রক্তমাংসের হয়ে উঠেছিলেন সেই মানুষ, যিনি আজীবন ‘সিদ্ধার্থ’-এর মতো তপস্যা করে গিয়েছে অভিনয়ের খাতিরে। ডিসেম্বরের প্রথমেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শশী কাপুর। কেবল পারিবারিক ঐতিহ্য নয় নিজের অভিনয়ের জোরেই চলচ্চিত্র মহলে নিজের সম্মান আদায় করেছেন শশী। অমিতাভ বচ্চনের মতো অভিনেতার পাশে দাঁড়িয়েই নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। তৈরি করেছেন নিজস্ব ম্যানারিজম যা আজও অনেক অভিনেতার কাছে আদর্শ। সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশিই চালিয়ে গিয়েছেন থিয়েটার। পারিবারিক পৃথ্বী থিয়েটারকে জীবন্ত রাখতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

Unknown-Shashi

নীরজ ভোরা

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লড়াইটা চলছিল। ছিলেন কোমাচ্ছন্ন। বৃহস্পতিবার আর শরীরের সঙ্গ দিল না প্রাণ। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার নীরজ ভোরা। সিনেমায় আসার আগেও গুজরাটি মঞ্চের পরিচিত মুখ ছিলেন। ৮৪ সালে কেতন মেহতার ‘হোলি’র মাধ্যমে বলিউড যাত্রা শুরু হয়। ঝুলিতে রয়েছে ‘বিরাসত’, ‘রঙ্গীলা’, ‘সত্যা’, ‘কোম্পানি’, ‘বাদশা’, ‘বোল বচ্চন’-এর মতো সিনেমা। শুধু অভিনয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি তাঁর প্রতিভা। ২০০০ সালে সুপারহিট ‘হেরা ফেরি’র চিত্রনাট্য ইনিই লিখেছিলেন। ছয় বছর বাদে ‘ফির হেরা ফেরি’ পরিচালনাও করেছিলেন। সেই ছবিরই তৃতীয় সংস্করণ ‘হেরা ফেরি ৩’-এর কাজও শুরু করেছিলেন। কিন্তু আচমকাই হৃদরোগে আক্রান্ত হন। কোমাচ্ছন্ন হয়েই শেষ সময়টা কাটান।

Neeraj-Vora-Death

জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়

ডিসেম্বর মাসের ২১ তারিখ সংগীতজগতে যেন আচমকাই নেমে এল ঘন অন্ধকার। চলে গেলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়। আর এন টেগোর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আর গানের দুনিয়া হারালো তার অভিভাবককে। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৩ বছর। বাংলা গানের সুর ও ভাষা নিয়ে যে নিরীক্ষা, তার অন্যতম কান্ডারি ছিলেন। বাংলা সংগীত জগতকে দিয়ে গিয়েছেন অমূল্য সম্পদ। যে ঋণ নতজানু হয়ে স্বীকার করেন সব প্রজন্মের শিল্পীরা। তবু সকলকেই চলে যেতে হয়। গানের দুনিয়ায় গভীর শূন্যতা তৈরি করে তাই সুরলোকে পাড়ি দিলেন এই সুরশিল্পী।

JATILESHWAR-MUKHERJEE

পার্থ মুখোপাধ্যায়

বছরশেষে জাগতিক জগতের মায়া কাটিয়ে মৃত্যুলোকে পাড়ি দিল বাঙালির প্রিয় ‘বগলা’। ১৯৫৬ সালে ‘মা’ ছবির মাধ্যমে শুরু হয় ছোট্ট পার্থর অভিনয় যাত্রা। তবে পরিচিতি তাঁকে এনে দিয়েছিল তপন সিনহার ‘অতিথি’। ‘ধন্যি মেয়ে’কে সামলানো একমাত্র তাঁর পক্ষেই সম্ভব ছিল। উত্তম কুমারের ভাই বগলার সেই ড্রিবল সব খেলার সেরা ফুটবলকে বাঙালির জীবনে অন্যতম অঙ্গ করে তুলেছিল। এরপর একের পর এক সিনেমা করেছেন। ‘অগ্নিশ্বর’, ‘অমর পৃথিবী’, ‘বাঘবন্দি খেলা’ ‘গল্প হলেও সত্যি’র মতো সিনেমা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। শুধু অভিনয় নয় ভাল গানও গাইতেন পার্থ। মৃত্যুকালে অভিনেতার বয়স হয়েছিল ৭০। তবে বাঙালির তাঁকে মনে রাখবে বয়ঃসন্ধির সেই মিষ্টি ছেলেটা হিসেবেই, যে সাদাকালো পর্দাকেও করে তুলেছিল জীবন্ত, রঙিন। হাসি ফুটিয়েছিল আট থেকে আশি সকলের মুখে।

Partha-Death-Web-Final

হিউ হেফনার

বিশেষজ্ঞরা বলেন, তাঁর নাকি আইকিউ লেভেল ছিল ১৫২। শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য আলাদা একটি পত্রিকা প্রকাশ করা যেতে পারে এমন ভাবনা তাঁর মাথাতেই এসেছিল। হিউ হেফনার। ৯১ বছর বয়সে প্রয়াত হন ‘প্লেবয়’ পত্রিকায় এই প্রতিষ্ঠাতা। পঞ্চাশের দশকে মার্কিন মুলুকে শুধুমাত্র পুরুষদের পত্রিকা ‘প্লেবয়’-এ যখন আত্মপ্রকাশ ঘটে, তখন শোরগোল পড়ে যায় গোটা বিশ্বে। পত্রিকার পাতায় মহিলাদের নগ্ন ছবি, ইন্টারভিউ নিয়ে ছাপা নিয়ে বিতর্কও অবশ্য কিছু কম হয়নি। তবে সব কিছুকে ছপিয়ে অচিরে মার্কিন মুলুকের সবচেয়ে বড় ব্যান্ড হয়ে ওঠে ‘প্লেবয়’।

play_web

[ফিরে দেখা ২০১৭: সাড়া ফেলল যে সব নজিরবিহীন ঘটনা]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement