Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
Voyager Golden Record

৫০ বছর ধরে মহাকাশে বাজছে এক ভারতীয়র কণ্ঠ, নেপথ্যে নাসা, কীভাবে?

পৃথিবী থেকে কোটি কোটি কিলোমিটার দূরে ছুটে চলা এক মহাকাশযানের ভিতর এখনও বেজে চলেছে কেসরবাই কেরকরের কণ্ঠ। বেজে চলেছে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৮, ২০২৬, ১৬:৩৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৮, ২০২৬, ১৬:৩৯

options
link
৫০ বছর ধরে মহাকাশে বাজছে এক ভারতীয়র কণ্ঠ, নেপথ্যে নাসা, কীভাবে? zoom
মহাশুন্যে ভেসে থাকা ভয়েজারের সঙ্গে কি সম্পর্ক সঙ্গীতশিল্পী কেসরবাই কেরকরের?

আজ থেকে প্রায় বছর পঞ্চাশেক আগে পৃথিবী থেকে মহাকাশে যাত্রা করেছিল ভয়েজার ১ ও ভয়েজার ২ নামক মহাকাশযান। ইতিহাস বলে, এই যাত্রায় নাকি সঙ্গী হয়েছিল ভারতের এক অতিক্ষুদ্র গ্রামের এক কোকিলকণ্ঠী! অথচ সময়ের সঙ্গে তাঁর নাম প্রায় ভুলতেই বসেছে ভারতবাসী।

১৯৭৭ সাল, নাসার উদ্যোগে ভয়েজার ১ ও ২ মহাকাশযাত্রা করে। এই যানে কোনও অভিযাত্রী ছিলেন না। অচেনা গ্রহগুলির সম্পর্কে আরও জানার উদ্দেশ্য নিয়ে মহাকাশে লঞ্চ করা হয়েছিল সেটি। এ সময় পৃথিবীর সভ্যতা ও সংস্কৃতির বাহক হিসেবে এই দুই মহাকাশযানের সঙ্গে পাঠান হয় এক তামার ডিস্ক, যা ‘ভয়েজার গোল্ডেন রেকর্ড’ (Voyager Golden Record) নামে পরিচিত। এ যানটির উৎসস্থল যে পৃথিবী, ডিস্কটি তারই বার্তাবাহক। ডিস্কটিতে ভরা ছিল ১১৫টি ছবি, পৃথিবীর নানান প্রাকৃতিক শব্দ, ৫৫টি ভিন্ন ভাষায় জানান শুভেচ্ছাবার্তা এবং মোট ২৭টি গান। জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সেগানের নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি গানগুলি নির্বাচন করেছিল। কিন্তু মহাকাশে এমন গান-ছবি পাঠানোর প্রয়োজন কী?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
How Kesarbai Kerkar's Voice Became Part of NASA's Voyager Golden Record
ভয়েজার গোল্ডেন রেকর্ড

আসলে, বিজ্ঞানীরা মনে করেছিলেন— কোনও একদিন যদি কোনও বুদ্ধিমান ভিনগ্রহী সভ্যতার বাসিন্দারা এই মহাকাশযান খুঁজে পায়, তবে তারা যেন মানবসভ্যতার পরিচয়, বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতার এক ঝলক দেখতে পারে। নির্বাচিত ২৭টি গানের মধ্যে ছিল এক ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পীর গানও। পৃথিবীর অসংখ্য সঙ্গীতধারা ও শিল্পীর মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হয়েছিল সেরার সেরাদের।

ভারতের গানটি ছিল একখানা তিন মিনিটব্যাপী ক্লাসিক্যাল মিউজিক ট্র্যাক। গেয়েছিলেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী কেসরবাই কেরকর। পরিবেশিত রাগ ভৈরবীর বন্দিশ ‘যাত কাহা হো’। ১৮৯২ সালে গোয়ার এক ক্ষুদ্র গ্রামে কেসরবাইয়ের জন্ম। গান গাওয়ার অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনা সমৃদ্ধ কোনও স্টুডিও জোটেনি তাঁর ভাগে। ব্যক্তিগত প্রচারদল থাকার তো প্রশ্নই উঠছে না। তবু তাঁর স্পষ্ট উচ্চারণ, অসাধারণ কণ্ঠস্বর শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। আর নির্দ্বিধায় বেছে নিয়েছিলেন সুরশ্রী কেসরবাই কেরকরকে।

How Kesarbai Kerkar's Voice Became Part of NASA's Voyager Golden Record
সুরশ্রী কেসরবাই কেরকর এবং ভয়েজার গোল্ডেন রেকর্ড

আজ, প্রায় পাঁচ দশক পরে, ভয়েজার ১ মানবজাতির তৈরি সবচেয়ে দূরে পৌঁছে যাওয়া বস্তু হিসেবে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে যাত্রা করছে। আর পৃথিবী থেকে কোটি কোটি কিলোমিটার দূরে ছুটে চলা সেই মহাকাশযানের ভিতর এখনও বেজে চলেছে কেসরবাই কেরকরের কণ্ঠ। বেজে চলেছে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত। অন্য কোনও গ্রহের বাসিন্দারা কি খোঁজ পেয়েছে তাঁর সুমধুর কন্ঠের? কিংবা আরও কয়েক লক্ষ বছর পর কি পাবে? সে প্রশ্নের উত্তর মিশে রয়েছে কেসরবাইয়ের অসামান্য বন্দিশেই।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.