×

৪ চৈত্র  ১৪২৫  বুধবার ২০ মার্চ ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও #IPL12 বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দস্যু রত্নাকর থেকে বাল্মীকি হয়ে ওঠার কাহিনি তো সর্বজনবিদিত। মহাকাব্যের পাতায় তা অক্ষয় হয়ে রয়েছে। বাস্তবেও এমন বাল্মীকিদের উদাহরণ আছে। তার জলজ্যান্ত প্রমাণ দিল খোদ শীর্ষ আদালত। শাস্তির দিনগুলোয় জেলের কুঠুরিতে থাকতে থাকতে কাব্যবোধ জেগে উঠেছিল মাত্র ২২ বছরের এক অপরাধীর। শীর্ষ আদালতে চূড়ান্ত শুনানির দিন নিজের লেখা কবিতা বিচারপতিদের হাতে তুলে দিয়ে সেই ব্যক্তি জানিয়েছেন, সে নিজের অপরাধের জন্য ১৮ বছর ধরে অনুশোচনা করেছে। এবার আলোয় ফিরতে চায়। সেই আলো তাকে দেখিয়েছে কবিতা। অপরাধীর এই আবেদনের পর আর নিছকই পুঁথির পাতায় লেখা কঠোর আইনের উপরেই বিচারব্যবস্থা ছেড়ে দেননি বিচারকরা। মানবিক দিক বিচার করে তাঁরা অপরাধীর মৃত্যদণ্ড রদ করে দিয়েছেন। অপরাধীর সংশোধনের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন এই দৃষ্টান্ত।

[ঋণের ভার, পোষ্য বিক্রি করে চটজলদি সমাধানের আড়ালে করুণ কাহিনী]

তখন মাত্র বাইশ বছর বয়স। এক শিশুকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছিল এই প্রতিবেদনের নায়ক, দয়ানেশ্বর সুরেশ বোরকর। সেই টাকা না পেয়ে শিশুটিকে হত্যা করে। পরে তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধী সাব্যস্ত হয় দয়ানেশ্বর। ১৮ বছর ধরে সংশোধনাগারে থাকতে থাকতে মন বদলে যায় তার। বুঝতে পারে, যা করেছে, তা অন্যায়। এক নিষ্পাপ শিশুকে খুনের মতো কাজ করার অনুশোচনায় দগ্ধ হতে থাকে সে। সেই অনুশোচনার প্রকাশ ঘটে শব্দ, ছন্দ, মাত্রার মধ্যে দিয়ে। অপরাধী দয়ানেশ্বর লিখতে থাকে একের পর এক কবিতা। যার ছত্রে ছত্রে আত্মপীড়নের অনুভূতি, সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসার আকুতি। কারাবাসে থাকাকালীন পড়াশোনা করে স্নাতকও হয়। গান্ধী রিসার্চ ফাউন্ডেশনে গিয়ে গান্ধীর ভাবধারা সংক্রান্ত একটি কোর্স করে। বারবার বলে ওঠে – ভুল সংশোধন করে ফিরতে চায়। ভালভাবে বাঁচতে চায়। এভাবেই কেটে যায় ১৮টা বছর। এখন দয়ানেশ্বর বছর চল্লিশের এক ব্যক্তি। নানা অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। কিন্তু শিশুহত্যার মতো এক পাপ। চূড়ান্ত শাস্তি তো পেতেই হবে। মামলা ওঠে শীর্ষ আদালতে।  

[ক্যানসার আক্রান্তের ব্রাইডাল ফটোশুটে মশগুল নেটদুনিয়া]

দয়ানেশ্বরের বিচার করতে বসেন বিচারপতি একে সিকরি, বিচারপতি আবদুল নাজির এবং বিচারপতি এমআর শাহ। আইনি লড়াইয়ে দয়ানেশ্বর পাশে পায় বিখ্যাত আইনজীবী আনন্দ গ্রোভার। তিনি অপরাধীর বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করে মৃত্যুদণ্ড রদের সওয়াল করেন। প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন দয়ানেশ্বরের বিএ সার্টিফিকেট, গান্ধী রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সার্টিফিকেট এবং সবশেষে তার কবিতার খাতা। এসব দেখিয়ে গ্রোভার বলেন, ‘দয়ানেশ্বর একজন পেশাদার খুনি নয়। কোনও এক পরিস্থিতিতে পড়ে তার এমন কাজ। এতদিন ধরে সংশোধনাগারে থেকে সে তার মনের ভাব অনেক বদল হয়ে গিয়েছে। ভবিষ্যতে আর কখনও এধরনের কাজ করবে না বলেই মনে হয়। কিছুটা সংবেদনশীলতার সঙ্গে তাকে অন্তিম সাজা শোনানো হোক।’ বিচারপতিরা সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে জানান, ‘বিস্তারিত সাক্ষ্যপ্রমাণ দেখে আমরা বুঝতে পারছি, অপরাধী ভবিষ্যতে আর এধরনের কাজ করবে না। সমাজের কাছে আতঙ্ক হিসেবে প্রতিপন্ন হবে না। সব দিক বিচার, বিবেচনা করে আমরা ওকে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকছি।’

বিচারের বাণী শোনার পর দয়ানেশ্বরের মুখ ঝলমলে হয়ে ওঠে। এতদিন পর গরাদের বাইরে আসতে বেরিয়ে নতুন চোখে দেখছে আলো। ১৮ বছর পর। হাতে কবিতার খাতা। তাকে সামনে রেখেই নতুনভাবে জীবনে বাঁচার শপথ নেয়। আর বুঝিয়ে দেয়, ভারতীয় বিচারব্যবস্থার সংশোধনাগার তাকে সত্যিই সংশোধন করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং