রমণী বিশ্বাস, তেহট্ট: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় পদবি বদল। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘দাস’ থেকে ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’ হলেন এক স্কুলশিক্ষক। তিনি হোগলবেড়িয়া আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক গিরীন্দ্রনাথ দাস। স্বাভাবিকভাবেই তিনিই এখন ‘টক অফ দ্য টাউন’।
এর আগেও তিনি একাধিক অবাক করা কাণ্ডকারখানা করেন। গত বছর আগস্টে ছাত্রছাত্রীদের স্কুল ব্যাগ বিতরণ করার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেখিয়ে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। অফিস রুমেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিতে স্যালুট করেন। এই ছবি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে চরম বিতর্কের মুখে পড়েন। এরপর চলতি জানুয়ারিতে স্কুলের পাঠ্যপুস্তকের তালিকা প্রকাশ করার পর দেখা যায় প্রথম পাতাতেই রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। স্বাভাবিকভাবেই বিতর্কের মুখে পড়েন প্রধান শিক্ষক। আগের এই ঘটনায় প্রসঙ্গে হোগলবেড়িয়া আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক গিরীন্দ্রনাথ দাস জানিয়েছিলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘শিক্ষাশ্রী’, ‘কন্যাশ্রী’, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প থেকে শুরু করে যাবতীয় সুযোগসুবিধা দিয়েছেন। এমনকী স্কুলের খাতায় মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া হচ্ছে। তাই তাঁকে স্যালুট করা কিংবা তার ছবি বুক লিস্টে ছাপানোয় কোনও ভুল নেই।”
[আরও পড়ুন: বাড়ি থেকে দিলীপের দলিল উদ্ধার নিয়ে বিস্ফোরক ধৃত প্রসন্ন, কী বললেন পার্থ ‘ঘনিষ্ঠ’ মিডলম্যান?]
কিন্তু এরই মধ্যে জানা যায় প্রধান শিক্ষক গিরীন্দ্রনাথ দাস আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের পদবি বদলে ফেলেন। তাই ‘দাস’ থেকে তিনি এখন ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’। পদবি পরিবর্তন করার বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক গিরীন্দ্রনাথ দাস পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন, “আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মনে প্রাণে ভালবাসি। শ্রদ্ধা করি। তিনি আমার অনুপ্রেরণা। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং ওনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে আমি ‘দাস’ থেকে ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’ হয়েছি।” নদিয়া উত্তর বিজেপির সম্পাদক সুরজিৎ জোয়ারদার জানান, “কাক কখনও ময়ূর পুচ্ছ লাগিয়ে ময়ূর হতে পারে না। উনি যতই পদবি পরিবর্তন করে ব্রাহ্মণ হওয়ার চেষ্টা করুন না কেন, ব্রাহ্মণ সমাজ কিন্তু তাঁকে মেনে নেবে না। উনি প্রধানশিক্ষক হয়েও তৃণমূলের দলদাস হয়ে কাজ করছেন। তবে পদবি পরিবর্তন করাটা তাঁর একান্ত নিজস্ব ব্যাপার।”
সিপিএমের করিমপুর ১ এরিয়া কমিটির সম্পাদক সন্দীপক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একজন প্রধান শিক্ষক যে দায়িত্বে থাকেন সেটা চরম সম্মানের। তবে হোগলবেড়িয়া আদর্শ শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক গিরীন্দ্রনাথ দাস মাঝে মাঝে বই বিতরণ থেকে শুরু করে স্কুলের বুকলিস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছাপিয়ে যেভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনৈতিক রং দেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। আসলে পদবি পরিবর্তন করে দলের কাছে উনি একান্ত সৈনিক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চাইছেন।” তবে সমস্ত বিতর্ক উড়িয়ে শিক্ষক গিরীন্দ্রনাথ দাসের দাবি, “এত বিতর্কের কি আছে আমি বুঝতে পারছি না। বড় বড় খেলোয়াড়, মুনি, ঋষি, বিজ্ঞানী, গুণী ব্যক্তিদের নামই তো মানুষ গ্রহণ করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোন অংশে কম। তাঁকে দেখে ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’ পদবি গ্রহণ করাতে আমি কোনও বিতর্ক দেখতে পাচ্ছি না। আমি যা করেছি ঠিক করেছি।”
[আরও পড়ুন: প্রাথমিকে ৩৬ হাজার চাকরি বাতিল: বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে পর্ষদ]
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বকাপে হেরেও অলিম্পিকের টিকিট স্মৃতিদের, এখনও অনিশ্চিত শ্রেয়সরা, কী মাপকাঠি জানাল আইসিসি?
-
‘ইটালীয় মানসিকতার কোনও…’, সোনিয়াকে খোঁচা বিজেপির, পালটা জবাব কংগ্রেসের
-
এবার সব্যসাচীর বিরুদ্ধে তদন্তে ইডি! ‘বান্ধবী’র বাড়ি থেকে সোনা উদ্ধারের পর মামলার নথি সংগ্রহ
-
দ্রাবিড়ভূমই পাখির চোখ, তেলেঙ্গানায় পদ্ম ফোটাতে হারদরাবাদ পুরভোটে ঘুঁটি সাজাচ্ছে বিজেপি
-
ব্রাজিলের ক্লিনিকে বডি কাউন্ট ‘শূন্য’ করার দাম ১১ লক্ষ টাকা! কেন চিন্তাজনক এমন ট্রেন্ড?