BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

ঘন জঙ্গলে শৌচ! প্রৌঢ়কে ‘শিক্ষা’ দিল বুনো দাঁতাল

Published by: Subhamay Mandal |    Posted: April 25, 2019 12:56 pm|    Updated: April 25, 2019 12:56 pm

An Images

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: ‘তুমি যে এখানে কে তা জানত?’
‘জঙ্গলে এই কাজ কর কেন দিন রাত/ বানাও শৌচালয়, দূর কর সংঘাত’।

বনদপ্তরের বন্যপ্রাণ শাখার মিশন নির্মল বাংলার এমন প্রচার যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল পুরুলিয়ার বলরামপুর বনাঞ্চলে। বুধবার ভোর রাতে অযোধ্যা পাহাড় ঘেরা বলরামপুর বনাঞ্চলের ঘাটবেড়া বিটের খুনটাঁড় যাওয়ার রাস্তায় একটি ঘন জঙ্গলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে শৌচকর্ম করতে বসেছিলেন এক প্রৌঢ়। পাশেই একটি পাত্রেই রাখা ছিল জল। ঠিক তখনই এই জঙ্গলে থাকা এক বুনো দাঁতাল তার মুখোমুখি এসে তাকে শুঁড়ে তুলে প্রায় তিরিশ মিটার দূরে মাটিতে বসিয়ে যেন শিক্ষা দিয়ে যায় ‘মাঠে-ঘাটে শৌচকর্ম, মৃত্যুরই পরোয়ানা।’ বনদপ্তরের বন্যপ্রাণ শাখা জঙ্গলের বুনো হাতিকে নিয়ে যেমন ভাবে প্রচার করছে বলরামপুরের বনাঞ্চলে এদিনের ঘটনা সেরকমই। বলছে বনদপ্তরই।

[আরও পড়ুন: এটিএম মেশিন থেকে উদ্ধার ৪ ফুটের গোখরো সাপ! দেখুন ভিডিও]

ঘন জঙ্গলে শৌচকর্ম করতে যাওয়া ওই প্রৌঢ়ের নাম নিরঞ্জন সহিস। তাঁর বাড়ি ঘাটবেড়ায়। জঙ্গল অপরিষ্কার করায় বুনো হাতির ‘প্রতিবাদ’-এ ওই প্রৌঢ়ের দুই পা ও কোমরে চোট লেগেছে। এ যাত্রায় কোনওভাবে বুনো হাতি থেকে রক্ষা পেয়ে ওই প্রৌঢ় এখন বলরামপুরে বাঁশগড় ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র হয়ে দেবেন মাহাতো পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সকলেই বলছেন, বুনো হাতির মুখোমুখি পড়েও বরাতজোরে বেঁচে গিয়েছেন ওই প্রৌঢ়। বলরামপুর বনাঞ্চলের আধিকারিক সুবিনয় পাণ্ডা বলেন, “বুনো হাতিটা যেন ওই প্রৌঢ়কে চরম শিক্ষা দিয়ে গেল। আমাদের বিজ্ঞাপনের ভাষা যে আক্ষরিক অর্থেই সত্যি তা যেন প্রমাণ করল অযোধ্যা পাহাড়ের জঙ্গল থেকে আসা ওই বুনো দাঁতালটি। আর নিশ্চই কেউ এই এলাকায় জঙ্গলে গিয়ে শৌচ কর্ম করবেন না। আমরা এবার ভাবছি এই ঘটনার উদাহরণ টেনে এবার প্রচার করব। প্রয়োজনে মাইকিং করারও ইচ্ছে আছে।”

আসলে এই কাজে যেমন মিশন নির্মল বাংলার কাজ এগোবে তেমনই জঙ্গল পরিষ্কার থাকবে। বুনো হাতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংঘাত হবে না। এদিন এই সমগ্র ঘটনাটি ওই প্রৌঢ়ের কাছ থেকেই শোনে বনদপ্তর। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এখনও যেন সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারছেন না নিরঞ্জন। তাঁর শুধু একটাই কথা, “কপালজোরে বেঁচে গিয়েছি। আর কখনওই জঙ্গলে শৌচকর্ম করতে যাব না। খুব শীঘ্রই ঘরেই শৌচাগার তৈরি করব।”

[আরও পড়ুন: এক দশক ধরে নিখোঁজ, হ্যাম রেডিওর সৌজন্যে ঘরে ফিরলেন ভিনরাজ্যের প্রৌঢ়া]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement