Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
Personal Finance

বিমা করাচ্ছেন? তথ্য লুকবেন না যেন!

ভবিষ্যতে আপনি ঝামেলায় পড়তে পারেন।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৯, ২০২৫, ১৩:৫৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৯, ২০২৫, ১৩:৫৮

options
link
বিমা করাচ্ছেন? তথ্য লুকবেন না যেন! zoom
প্রতীকী ছবি

বিমা পলিসি করার সময় ছোট-বড় তথ‌্য লুকনোর দায়ে পরবর্তীতে বড় সমস‌্যায় পড়তে হতে পারে। এই বিষয়ে তাই আগেভাগেই সতর্ক হওয়া বাঞ্ছনীয়। এই সংক্রান্ত একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনার সূত্র টেনে গ্রাহকদের সচেতন করলেন প্রেমাংশু দাশ। 

সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়: পুরোনো বিমা পলিসি লুকিয়ে রাখলে কি বিমার টাকা পাওয়া যায়?

Advertisement

আমরা অনেকেই যখন জীবন বিমা পলিসি কিনি, তখন পুরোনো কোনও পলিসি ছিল কি না সেটা বলি না–কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে আবার কখনও ভুল করে। বেশিরভাগ সময়ে কোনও এজেন্ট বা মধ্যস্থতাকারী ফর্মটা ভরে দেয়, আমরা সই করে দিই না বুঝেই। পরে বিপদে পড়লে তখন বুঝি ভুলটা কোথায় হয়েছে।

মামলার বিষয়:
মহাবীর শর্মা নামে জনৈক ব্যক্তি আদালতে মামলা করেন। তাঁর বাবা রামকরণ শর্মা গত ৯ জুন ২০১৪ তে এক্সাইড লাইফ ইন্সিওরেন্স থেকে ২৫ লক্ষ টাকার একটি জীবন বিমা নেন। কিন্তু ১৯শে আগস্ট ২০১৫ তে তাঁর এক দুর্ঘটনার কারণে মৃত্যু হয় । মহাবীর শর্মা যখন এক্সাইড লাইফ ইন্সিওরেন্স কোম্পানির কাছে বিমার টাকা দাবি করেন, উক্ত কোম্পানি টাকা দিতে অস্বীকার করে কারণ রামকরণ বাবু নাকি তাঁর আগের কিছু বিমা পলিসির কথা বিমা নেওয়ার সময় বলেননি। একথা সত্য তিনি LIC-র কাছে থাকা ৩টি ছোট পলিসির কথা উল্লেখ করেননি, যার মোট বিমা রাশি ২.৩ লক্ষ টাকা। যদিও তিনি আভিভা লাইফ ইন্সিওরেন্স-এর কাছে থাকা ৪০ লক্ষ টাকা বিমা পলিসির কথা উল্লেখ করেছিলেন। মাত্র ২.৩ লক্ষ টাকা বিমা পলিসির কথা না উল্লেখের জন্যই এক্সাইড লাইফ ইন্সিওরেন্স মৃত্যুজনিত দাবি বাতিল করে। এই ঘটনার পর State Consumer Dispute Redressal Commission এবং National Consumer Dispute Redressal Commission–উভয়েই এক্সাইড লাইফ ইন্সিওরেন্স কোম্পানির সিদ্ধান্তই সঠিক বলে মেনে নেন। ঘটনা পরম্পরায় অবশেষে মহাবীর শর্মা আদালতে যেতে বাধ্য হন!

আদালতের বিচার:
সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য অনুযায়ী বিমা চুক্তি উত্তম বিশ্বাসের (utmost good faith) উপর দাঁড়িয়ে থাকে। মানে আপনার থেকে যা তথ্য জানতে চাওয়া হবে আপনি সঠিক তথ্য দেবেন। কিন্তু যদি কোনও ভুল হয়ে যায়, সেটা সব সময় প্রতারণা নয়। রামকরণ বড় ৪০ লক্ষ টাকার পলিসির ব্যাপারে জানিয়েছিলেন, তার মানে তিনি লুকোতে চাননি। ছোট ছোট পলিসির কথাটা না বলা ভুল হতে পারে, কিন্তু ইচ্ছাকৃত না হলে দাবি বাতিল করা যাবে না এবং এই দাবি বাতিলের সিদ্ধান্ত অন্যায়। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বলা হয় দেরির জন্য বছরে ৯% সুদ-সহ সমস্ত সুবিধা মিটিয়ে দিতে। আদালত এও বলে, বিমা কোম্পানি প্রমাণ করতে পারবে না যে উনি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণা (intentional fraud) করেছেন।

সাধারণ মানুষের জন্য শিক্ষা:
এই রায় থেকে সাধারণ মানুষ হিসেবে বা বিমাকারী হিসাবে কিছু শিক্ষা অবশ্যই আমাদের নেওয়া দরকার।

(১) ছোট/ বড় যা পলিসি আছে সবই জানান। এড়িয়ে গেলে ভবিষ্যতে আপনি ঝামেলায় পড়তে পারেন।
(২) দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু আর অসুস্থতায় মৃত্যু আলাদা। যদি কোনও মৃত্যুর কারণ দুর্ঘটনা হয়, তখন পুরনো পলিসিতে স্বাস্থ্য জনিত তথ্য লুকোনোর অভিযোগ বিমা কোম্পানির হাতে থাকে না। এই ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনও কথা লুকানো হয়নি। উল্টো দিকে অসুস্থতায় মৃত্যুতে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য এবং পারিবারিক তথ্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
(৩) নিজের ফর্ম নিজে পূরণ করুন। না হলে সই করার আগে অবশ্যই একবার চোখ বুলিয়ে নিন। যদি এজেন্ট নিজের মতো করে ফর্ম ভরে দেন, তাহলে পলিসি দ্রুত পাশ হয়ে যায় বটে কিন্তু পরে ভুল ধরা পড়লে বিপদ আপনার। অতএব ভাবুন!
(৪) কখনও কখনও কার মাধ্যমে আপনি পলিসি নিচ্ছেন সেটা পলিসির প্রাপ্য সুযোগ সুবিধার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সঠিক ও আনুসঙ্গিক বিচার বিবেচনা করেই বিমা এজেন্ট নির্বাচন করুন।
(৫) দাবি বাতিল হলেও হাল ছাড়বেন না। বিমা কোম্পানি যদি টেকনিক্যাল কোনও ভুল দেখিয়ে দাবি বাতিল (repudiate) করে তাহলে আদালতে যাওয়ার রাস্তা অবশ্যই খোলা, তবে তার আগে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো দরকার। প্রয়োজনে Consumer Forum এবং Ombudsman-এও অভিযোগ জানাতে পারেন। ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণা প্রমাণ না হলে বিমা কোম্পানি টাকা দিতে সবসময় বাধ্য।

শেষ কথা:
সুপ্রিম কোর্টের এই রায় অবশ্যই বিমা গ্রাহকদের জন্য বড় জয়। সুপ্রিম কোর্ট সাধারণ মানুষের পাশে আছে, তবে তার মানে এই নয়, আপনি যা ইচ্ছা তাই করবেন। প্রতিটি তথ্য সেটা আয়, স্বাস্থ্য বা ফ্যামিলি হিস্ট্রি, আগের থাকা পলিসি যাই হোক না কেন খোলাখুলি সত্যিটাই বলুন। হয়তো তাতে পলিসি পাস হতে একটু সময় লাগতে পারে বা না-ও হতে পারে। জেনে বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে অসত্য তথ্য না দিলেই ভাল। উদ্দেশ‌্য হল, আপনাকে বা আপনার পরিবারকে কখনোই যেন এই রকম ঘটনার মোকাবিলা করতে না হয়, সেটা নিশ্চিত করবেন। সতর্ক থাকুন। এই বার্তা আপনার প্রিয়জনদের মধ্যে ছড়িয়ে দিন, যাতে সবাই সচেতন হতে পারে।

যোগাযোগ : ৯৮৩১৪১৯৪৪০
ডিসক্লেইমার: লেখক একজন পার্সোনাল ফিনান্স প্র্যাকটিশনার ও AMFI রেজিস্টার্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড ডিস্ট্রিবিউটর। LIC র সাথে এজেন্ট হিসেবে যুক্ত। এই তথ্য শুধুমাত্র আর্থিক জ্ঞান ও বিমা সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্য়ে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.