জীবন চলমান। থামতে জানে না। প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের ঝড়-ঝাপটা বয়ে নিয়েই সে সদা ছুটে চলেছে রানারের মতো। পেনশনের জগৎটাও ঠিক তেমন। স্থবির নয়, নিত্য বহতা। গত মাত্র দেড় মাসে অনেক নতুন কিছুর সাক্ষী থেকেছে এই দুনিয়া। কী কী যোগ হয়েছে আর কোথায় এসেছে বদল-‘আপডেটেড’ না থাকলেই পড়বেন পিছিয়ে, থাকবেন লোকসানে। চিন্তা নেই! ‘লেটেস্ট’ সমস্ত জরুরি তথ্য, যা নেহাত না জানলেই নয়, রইল এই লেখায়। সংকলনে নীলাঞ্জন দে
শেষ যেবার ‘সঞ্চয়’-এর পাঠকদের ‘রিটায়ারমেন্ট’ তথা অবসর নিয়ে তথ্য দিয়েছিলাম, তখনও পেনশন ক্ষেত্রে এত বহুবিধ ঘটনা ঘটেনি- যা ঘটে গিয়েছে গত দেড় মাসের ব্যবধানে। তাই সর্বশেষ কর্মকাণ্ডগুলির কথা উল্লেখ না করলেই নয়। বলাই বাহুল্য, এগুলির বেশিরভাগই হয়েছে দেশের পেনশন নিয়ন্ত্রক PFRDA-র উদে্যাগে। NPS (নিউ পেনশন সিস্টেম) নিয়ে এদেশে আমরা অনেকটাই এগিয়েছি। ১ অক্টোবরকে ‘NPS দিবস’ হিসাবে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার চেষ্টা থেকে শুরু করে, NPS-এর আওতায় থাকা মোট অ্যাসেটের বৃদ্ধি, অনেক কিছু নিয়েই বিশদে লেখার সময় এসেছে। তবে জায়গার স্বল্পতার কথা ভেবে আজ কেবল প্রধান কয়েকটি তথ্য তুলে ধরছি।
[আরও পড়ুন: শেয়ার বাজারের ওঠানামা দিচ্ছে কোন ইঙ্গিত, বিনিয়োগের আগে জেনে নিন এই কথাগুলি]
ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট-
ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার জন্য সুবিধাজনক পরিষেবা শুরু হল পোস্টাল ডিপার্টমেন্টের আওতায় থাকা ইন্ডিয়া পোস্ট সেভিংস ব্যংকের মাধ্যমে।
পেনশন এবং পেনশনার্স ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্টের গঠিত পদ্ধতি অনুযায়ী নিচে লেখা নিয়মগুলি মেনে চললে এই সুযোগ পাওয়া সম্ভব হবে –
* গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘Post info’ অ্যাপ ডাউনলোড করুন।
* সার্ভিস রিকোয়েস্ট জমা দিন। অথবা http://ccc.cept.gov.in দেখুন।
* নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও অন্য দরকারি তথ্য লিখে জমা দিয়ে, ‘জীবন প্রণাম’ পরিষেবা নির্বাচন করুন।
* একটি OTP যাবে ফোনে, সেটি ‘কনফার্ম’ করতে হবে।
এবার আপনার ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেটের অনুরোধ কাছাকাছি পোস্ট অফিসে যাবে (পিন কোডের ভিত্তিতে এই পোস্ট অফিস বেছে নেওয়া হবে।)
গ্রাহক (পেনশনার) হিসাবে এবার আপনার দায়িত্ব পোস্ট অফিসের কর্মীকে (যিনি আপনার কাছে পৌঁছবেন) নিজের আধার নম্বর-সহ অন্যান্য তথ্য দেওয়া। আপনার পেনশন ডিসবার্সিং ব্যাংকে (Pension Disbursing Bank) লাইফ সার্টিফিকেট চলে যাবে, আপনি SMS-এর মাধ্যমে সেটির গ্রহণের খবর পাবেন।
পেনশনার হিসাবে যে দুটি কথা আপনার এই প্রসঙ্গে মনে রাখা কর্তব্য:
এক, পেনশন অ্যাকাউন্ট এবং আধার নম্বর লিংক করা থাকতে হবে।
দুই, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আপডেটেড থাকতে হবে, KYC-র নিয়ম মেনে।
পেনশন-
পেনশন নিয়ন্ত্রক PFRDA সম্প্রতি কিছু বদল এনেছে, প্রতিটি সাবস্ক্রাইবারেরই তা জানা দরকার। এখানে প্রধান পরিবর্তনগুলি আমরা সংক্ষেপে তুলে ধরছি –
(১) অনলাইন এক্সিট: ইনস্ট্যান্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশনের সঙ্গে সংযোজিত করা হল। উল্লেখ্য, ফিজিক্যাল মোড দ্বারা এক্সিট এমনিতেই সম্ভব।
(২) এন্ট্রি এজ: নতুন গ্রাহক হওয়ার বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ৭০ বছর করা হয়েছে। আগে ৬৫ বছর পর্যন্ত অনুমতি ছিল। ন্যূনতম বয়স ১৮-ই আছে।
(৩) অ্যাসেট অ্যালোকেশন: যদি ৬৫ বছরের পর আসেন, তাহলে ইকুইটিতে ১৫% করতে পারেন ‘অটো চয়েস’ বিকল্পটি বেছে নিলে। যদি ‘অ্যাক্টিভ চয়েস’ নেন, তাহলে ৫০% পর্যন্ত ইকুইটি হতে পারে।
(৪) প্রিম্যাচিওর এক্সিট: যদি মেয়াদের আগে বেরিয়ে আসতে চান, তাহলে জমা সম্পদের ২০% লাম্প-সাম হিসাবে পাবেন। বাকি অংশ দিয়ে অ্যানুইটি কিনতে হবে।
এর সঙ্গে জেনে রাখা ভাল যে পেনশন নিয়ন্ত্রক ইতিমধ্যে অনলাইন এক্সিটের সুবিধা সরকারী কর্মচারীদের জন্য বিশেষভাবে দেওয়ার কথা ভেবেছেন। এই সুবিধা কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যের অটোনোমাস সংস্থার কর্মীদের জন্যও প্রযোজ্য হবে।
অন্যদিকে দুই নতুন বেসরকারি সংস্থা পেনশন ফান্ড ম্যানেজার হওয়ার পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গিয়েছে। টাটা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট এবং ম্যাক্স লাইফ ইনসিওরেন্স সম্প্রতি এই ক্ষেত্রে শীঘ্র ব্যবসা শুরু করবে বলে জানিয়েছে। এই মুহূর্তে এলআইসি-সহ ছয়-সাতটি পেনশন ফান্ড ম্যানেজার কাজ করছে।
পেনশন নিয়ন্ত্রকের অন্তর্ভুক্ত অ্যাসেট এখন ৬.৬৭ লক্ষ কোটি টাকা, সাবস্ক্রাইবারদের সংখ্যা ৪.৬ কোটি। দুটি সংখ্যাই সেপ্টেম্বরের শেষে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হল।
(লেখক লগ্নি পরামর্শদাতা)
[আরও পড়ুন: NPS বনাম PPF, রিটায়ারমেন্টের জন্য কোনটা বাছবেন?]
সর্বশেষ খবর
-
বদলে যাবে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম! রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার