বিমার দুনিয়ায় পণ্যের ছড়াছড়ি। এ বলে আমায় দেখো, আর ও বলে আমায়। কিন্তু এ সবের মধ্যে আপনার জন্য আদর্শ কোনটা, তা বুঝবেন কী করে? খুঁজুন, খুঁজুন, খুঁজলেই মিলবে পথ। রোডম্যাপ এঁকে দিলেন রাজীবলোচন ঘোষ
এতদিন ইনসিওরেন্স মার্কেটে অ্যাডভাইসরি রোল পালন করার সুবাদে বুঝেছি প্রত্যেকেরই জীবন বিমা নিয়ে কিছু একান্ত ব্যক্তিগত ধ্যানধারণা বা চিন্তাভাবনা থাকে। প্রাথমিক কয়েকটি সিদ্ধান্ত সেই চিন্তার ভিত্তিতে অনেকেই নেন, পরে আবার কোনও কোনও সময় পেশাদারের পরামর্শে ‘কারেকটিভ অ্যাকশন’ও নিতে হয়। বিভিন্ন প্রোডাক্টের সমারোহ আজ এ দেশের বিমা সেক্টরে, মানছি ঠিক প্ল্যানটি বেছে নেওয়া খুব একটা সোজা কাজ নয়। যাঁরা কিছুটা (প্ল্যানের প্রাচুর্য দেখে) অনিশ্চিত, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছেন, তাঁদের বলব- একাধিক সমগোত্রীয় প্রোডাক্টের তুলনামূলক বিচার করে দেখুন। আপনার জন্য একেবারে যথার্থ প্ল্যানটি হয়তো ভিড়ের মাঝে দেখতে পাচ্ছেন না। তবে একটু ভাল করে খুঁজলেই পাবেন। বলাই বাহুল্য, প্রোডাক্ট বাছাই পদ্ধতি একেবারে ঠিকঠাক হওয়াই প্রয়োজন।
[আরও পড়ুন: রিয়েল এস্টেটকে করুন নিজের পোর্টফোলিওর অংশ]
যেমন ধরুন, ইনকাম অ্যাকসেলরেটর প্ল্যান জাতীয় প্রকল্প, যেটি কোটাক লাইফ ইনসিওরেন্স পরিচালনা করে। নাম শুনেই কী বিশেষ কিছু বোঝা যাচ্ছে না? যাচ্ছে, অন্তত যেখানে পেনশন নিয়ে মানুষের মনের নতুন ধরনের চিন্তা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। পেনশন, আমরা সবাই মানি, সাধারণ মানুষের জন্য ‘সেকেন্ড ইনকাম’ বলা হয়ে থাকে, এবং তা বিনা কারণে নয়। প্রধানত দুই ধরনের পেনশন নিয়ে আমরা চিন্তা করি – ডেফার্ড এবং ইমিডিয়েট। আমাদের বেছে নেওয়া প্রকল্পটি প্রথম শ্রেণীতে পড়ে। এখানে টার্ম ছাড়াও রেগুলার ইনকামও থাকবে। এবং যেহেতু মূল প্রসঙ্গটি লাইফ ইনসিওরেন্স, তাই সঙ্গে থাকবে দশগুণ কভারেজ। রিটার্ন যা পাবেন, এর পুরোটাই ট্যাক্স-ফ্রি হবে।
একটু বিশদে বললে বুঝতে সুবিধা হবে। এই প্ল্যান তিনটি টার্মে পাবেন- ১৫, ২০ ও ৩০ বছরের। মিনিমাম পেনশন বছরে ১৫,০০০ টাকা। ইনকাম যা আসবে তা বছরে ৫-৭% বাড়বে, আর টার্মের শেষে লাম্পসামও পাবেন। একটা ইলাস্ট্রেশন দিয়ে বোঝাই।
কোন ৪৫ বছর বয়সী লগ্নিকারী যদি ৩০ বছরের টার্ম কেনেন, তাহলে তাঁর পক্ষে নিচের শর্তগুলি প্রযোজ্য :–
-পলিসি টার্ম : ৩০ বছর
-পেমেন্ট টার্ম : ১৫ বছর
-প্রিমিয়াম : ২,০০,০০০ টাকা বছর
-লাইফ কভার : ২২ লক্ষ টাকা, প্রথম দিন থেকে
-১৫ বছর হলে, অর্থাৎ ১৬-তম বছর থেকে রিটার্ন পাবেন।
-১৬-তম বছর : ২,৯৩,০০০ টাকা
-২৫-তম বছর : ৪,৭৭,৫৯০ টাকা
-৩০-তম বছর : ৫,৮০,১৪০ টাকা
এছাড়াও তিরিশ বছর বাদে, টার্ম শেষ হলে, অ্যাডিশনাল ৫,২৮,০০০ টাকা পাওয়া যাবে। মনে রাখুন লাইফ কভারেজ প্রায় তিরিশ লক্ষের মতো, সেটাও ফেলনা নয়।
যে কোনও মানুষের পক্ষে ট্যাক্স-ফ্রি ইনকাম আজকের দিনে খুব প্রয়োজন। তাই এই জাতীয় প্ল্যান নিজের বা পরিবারের স্বার্থে দেখা উচিত বলে আমি মনে করি। মুদ্রাস্ফীতির বাড়বাড়ন্ত চোখে পড়ছে নিশ্চয়ই – একটু বয়স বাড়ার পর যাঁরা দায়িত্ব মাথা পেতে নিয়েছেন, তাঁদের জন্য এই শ্রেণির প্রকল্প দরকার হতেই পারে। তুলনায় যাঁরা এখনও মধ্যবয়সে পৌঁছে যাননি, তাঁদেরও বলব, এই বেলা ইনসিওরেন্স নিয়ে সজাগ হোন, সময়ে শুরু করলে আপনার প্রিমিয়ামও আয়ত্ত্বের মধ্যে থাকবে এবং দীর্ঘদিনের কভারেজের সুযোগও পাবেন।
(লেখক বিমা বিশেষজ্ঞ)
[আরও পড়ুন: হোম লোনে পিএনবি-র নয়া চমক, গড়ে তুলুন স্বপ্নের ঘর]
সর্বশেষ খবর
-
বদলে যাবে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম! রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার