ধার করা টেকনিকেই রুখলেন ব্রুনোর পেনাল্টি! কীভাবে হালান্ডের যোগ্যসঙ্গী নরওয়ের নাইল্যান্ড?
বুক পেতে বিপক্ষের আক্রমণ রুখে দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন, তবু গোলকিপাররা স্কোরলাইনে নেই। সেরকমই এক নেপথ্য নায়কের নাম ওরহান নাইল্যান্ড।
ব্রাজিল বনাম নরওয়ে (Brazil vs Norway) ম্যাচের আগে একটা পরিসংখ্যান ঘোরাফেরা করছিল। সেটা হল, ভাইকিংদের বিরুদ্ধে সেলেকাও বাহিনী কখনও জিততে পারেনি। পাঁচবার খেলে একটাও ম্যাচ হারেনি নরওয়ে। সেই ছবিটা বিশ্বকাপের মঞ্চে পালটে দিতে পারতেন ভিনিসিয়াস জুনিয়ররা। সেটা হতে দিলেন না নাইল্যান্ড। অন্তত চারটে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন। এমনকী রুখে দিয়েছেন পেনাল্টিও। ব্রুনো গিমারেজের শট আটকে দেন।
আরও পড়ুন:
স্রেফ পেনাল্টি আটকানোই নয়। প্রথমার্ধেই গুরুত্বপূর্ণ সেভ করতে হয় নাইল্যান্ডকে। বিশেষ করে ৪০ মিনিটে ভিনিসিয়াসের শট আটকে দেন পা বাড়িয়ে। এমনকী আত্মঘাতী গোল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রুখেছেন ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই প্রহরী। তবে ৯০ মিনিটের সেরা সেভটা সম্ভবত আসে ৬৩ মিনিটে। রায়ানের শট আটকাতে হাত-পা এমনভাবে ছড়িয়ে দেন, সেই ভঙ্গি দেখে অবিকল তারার মতো দেখতে লাগছিল।
জোড়া গোল করা আর্লিং হালান্ডকে স্কোরবোর্ড হয়তো ম্যাচের তারকা বলবে না। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে ঠিক তারার মতোই উজ্জ্বল হয়ে উঠলেন ভাইকিং গোলকিপার। ম্যাচে তাঁর সেরা সেভ কোনটা, সেই নিয়ে নরওয়ে ভক্তকুলের মধ্যে মুচমুচে চর্চা চলবে। কারণ প্রত্যেকটা সেভ দেখেই মনে হয়েছে, এটাই সবার সেরা। কী করে এমন দুর্ভেদ্য হয়ে উঠলেন নরওয়ের গোলকিপার? তাঁর সাফল্য লুকিয়ে ফুটবল মাঠ থেকে বহুদূরে।
নাইল্যান্ডের খেলাধুলা শুরু হয় সাঁতার আর হ্যান্ডবল দিয়ে। এছাড়াও গলফ, স্কিইং-সব খেলাতেই দাপিয়ে বেড়াতেন ছোটবেলায়। পছন্দ ছিল ফুটবলও। তাঁর বয়স যখন ১৩, তখন একই সময়ে পড়ল ফুটবল আর হ্যান্ডবল টুর্নামেন্ট। সকালে হ্যান্ডবল ম্যাচ খেলে রাতে নেমে পড়েন ফুটবল ম্যাচে। সেখান থেকেই শুরু হ্যান্ডবলের টেকনিক ফুটবলে ব্যবহার করা। তারপর জাতীয় দলের উদ্ধারকর্তা হয়ে উঠলেন, ব্রাজিলের মতো হেভিওয়েটের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন:
এবারের বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) নায়ক হয়ে উঠেছেন একাধিক গোলকিপার। কখনও কেপ ভার্দের ভোজিনহা, কখনও কুরাসাওয়ের এলয় রুম, আবার কখনও প্যারাগুয়ের অরল্যান্ডো গিল। তাঁদের হাতে আটকে গিয়েছে আর্জেন্টিনা-জার্মানির মতো হেভিওয়েট প্রতিপক্ষ। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান থেকে বিশ্বকাপ খেলতে নেমে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন আলিরেজা। কঙ্গোর গোলকিপার লিওনেল এমপাসিও আটকেছেন পর্তুগাল-ইংল্যান্ডকে। সেই তালিকাতেই আরেক উজ্জ্বল সংযোজন নরওয়ের ওরহান নাইল্যান্ড।
নাইল্যান্ডের হাতেই টানা ষষ্ঠবারের মতো আটকে গেল ব্রাজিলের হেক্সার স্বপ্ন। বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, গত ৬টি মেগা টুর্নামেন্টের নকআউটে উঠলেও ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি সেলেকাও। ২০০২ বিশ্বকাপে জার্মানিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। কিন্তু তারপর থেকে টানা স্বপ্নভঙ্গ। এবং তাৎপর্যপূর্ণভাবে, প্রত্যেকবারই ব্রাজিলের শক্ত গাঁট হয়ে দাঁড়িয়েছ ইউরোপীয় দেশগুলি। ইউরোপের দেশের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে জার্মানি।
ইউরোপীয় যন্ত্রণার শুরু ২০০৬ সালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে হার দিয়ে। তারপর ২০১০তে নেদারল্যান্ডস, ২০১৪তে জার্মানি, ২০১৮তে বেলজিয়াম, ২০২২এ ক্রোয়েশিয়া-বারবার হেরেছে ব্রাজিল। এবারের বিশ্বকাপে অবশ্য ব্রাজিলভক্তদের অনেকেই কাপ জয়ের দাবিদার হিসাবে সেলেকাওদের ধরছিলেন না। কিন্তু 'অখ্যাত' নরওয়ের বিরুদ্ধে হারের যন্ত্রণা মানতে পারছেন না তাঁরা।