২৮ আশ্বিন  ১৪২৬  বুধবার ১৬ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

শুভময় মণ্ডল: সংসারের হাল ধরতে হেঁশেল ছেড়ে ধরেছিলেন স্টিয়ারিং। বাংলা তথা গোটা দেশের নারীসমাজে প্রতিকূলতাকে জয় করার প্রতীক তিনি। কথা হচ্ছে প্রতিমা পোদ্দারের। কলকাতার প্রথম মহিলা বাস ড্রাইভার। আর এবার তাঁর সংগ্রামের কাহিনিই শহরের দুর্গাপুজর বিষয় ভাবনা। উত্তর কলকাতার অন্যতম বিখ্যাত পুজো নর্থ ত্রিধারা সর্বজনীনের মণ্ডপে এবার উঠে আসবে প্রতিমা পোদ্দারের কাহিনি। প্রতিমাই এবার দুর্গা তাদের।

প্রতিমা পোদ্দারকে হয়তো দেখেছেন শহরের রাস্তায়। নিমতা-হাওড়া রুটে মিনিবাস চালান তিনি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অনেক এমন কাজ আছে যেখানে মহিলাদের প্রবেশাধিকার নেই। তেমনই একটি কাজে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন প্রতিমা পোদ্দার। সমাজের সব বাধা ভেঙে বেরিয়ে এসেছেন তিনি। কিন্তু কেন বাস চালান তিনি? সে এক দারুণ সংগ্রামের কাহিনি। স্বামী শিবেশ্বর পোদ্দার চাাতেন বাস। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় ছাড়ে হল কাজ। অভাবের সংসারের হাল ধরতে কোমর বাঁধলেন প্রতিমা। দুই মেয়ে ও বৃদ্ধা শাশুড়ি রয়েছেন সংসারে। সবার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে স্বামীর কাছে গাড়ি চালানো পেলেন লাইসেন্স। ধরলেন স্টিয়ারিং। মা দুর্গার মতো দশ হাতে সংসারে সামলে শহরের রাস্তায় মিনিবাস নিয়ে ছুটে বেড়ান। আজকের দিনের প্রকৃত দশভুজা বলতে যা বোঝায় তাই-ই প্রতিমা পোদ্দার।

[আরও পড়ুন: ধুধুলের কেরামতিতেই অনন্য মণ্ডপ, চোরবাগানের থিম মন কাড়বে দর্শনার্থীদের]

এমন একজন মানুষকে নিয়ে পুজোর থিম শহরে প্রথম। সাহস করে ঠিক করে ফেলে নর্থ ত্রিধারা। শিল্পী সম্রাট ভট্টাচার্য প্রতিমাকে তাঁর ভাবনার কথা বলেন। শুনে তো আপ্লুত হয়ে যান প্রতিমা। তাঁকে নিয়ে থিম! এ জিনিস ভাবতেই পারেননি বলে জানালেন প্রতিমা পোদ্দার। বললেন, ‘শুনে খুব অবাক হয়েছিলাম। খুশিও হয়েছি। এতে আমার মতো আরও অনেক মহিলা এই পেশায় আসতে উৎসাহ পাবেন। অনুপ্রেরণা পাবেন।’ এবার আসা যাক পুজোর কথায়। প্রতিমাকে সামনে রেখেই থিমভাবনা যখন, তখন মণ্ডপের আদল মিনিবাসের মতো বলাই বাহুল্য। গোটা মণ্ডপজুড়েই বাসের চেনা পরিচিত সরঞ্জামের বাহার থাকবে। পুজোমণ্ডপে ঢুকতেই থাকবে প্রতিমা পোদ্দারের সিলিকনের মূর্তি। পুজোর পর সেই মূর্তি আবার স্থান পাবে মাদার ওয়্যাক্স মিউজিয়ামে। প্রতিমা গড়ছেন মৃৎশিল্পী নবকুমার পাল। প্রতিমাতেও রয়েছে অভিনবত্ব। বাসের স্টিয়ারিংয়ের মধ্যে অধিষ্ঠান করবেন মা দুর্গা। প্রতিমাই যখন দুর্গা, তখন সেই কথা মাথায় রেখেই পুজোমণ্ডপ ও ঠাকুর তৈরি করা হচ্ছে।

প্রতিমা পোদ্দার

শিল্পী সম্রাট ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, গত বছর ডিসেম্বর থেকেই ভাবনাচিন্তা চলছিল অন্য ধরনের কিছু করার। বাস নিয়ে ভাবতে ভাবতে প্রতিমা পোদ্দারের কথা মাথায় আসে। দশভুজা মা দুর্গার মতোই জীবন প্রতিমা পোদ্দারের। তাই তাঁকে নিয়েই এই পুজো। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বাধা পেরিয়ে আসা প্রতিমার জীবনকাহিনি ফুটিয়ে তোলা হবে মণ্ডপজুড়ে। আর্ট ইনস্টলেশন এবং স্লাইড শোয়ের মাধ্যমে বর্ণিত হবে প্রতিমার জীবন। পুজোর উদ্যোক্তারা বলছেন, অনেক চেহারায় তো দেখেছেন মাকে, এবারে দুর্বার গতিতে মায়ের ধেয়ে আসার রূপ দেখুন।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং