Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Durga Puja 2025

পরাধীন ভারতবর্ষে দেবীর বাহন ছিল ঘোটকমুখী সিংহ, অবাক করে নেপথ্যে কাহিনি

মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের চালু করা শরৎকালীন দুর্গাপুজোয় দেবীর বাহন ছিল ঘোটকমুখী সিংহ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২১, ২০২৫, ১৮:৫৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২১, ২০২৫, ১৮:৫৪

options
link
পরাধীন ভারতবর্ষে দেবীর বাহন ছিল ঘোটকমুখী সিংহ, অবাক করে নেপথ্যে কাহিনি zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সিংহের পিঠে বসে আছেন দেবী। দুপাশে তাঁর চার ছেলেমেয়ে। এই ছবিই বাঙালি দেখে এসেছে চিরকাল। মহিষাসুরমর্দিনী দেবীর বাহন সিংহ। সিংহের শক্তি ও তেজের কথা কে না জানে! কিন্তু এই সিংহ কি রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের শরৎকালীন পুজোর সেই সিংহ? বোধহয় না।

কারণ, মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের চালু করা শরৎকালীন দুর্গাপুজোয় দেবীর বাহন ছিল ঘোটকমুখী সিংহ। পৌরাণিক কাহিনিতে ঘোড়ার অশ্বমেধ যজ্ঞের কথা রয়েছে। তাছাড়া যুদ্ধ সম্পর্কিত যেকোনও ঘটনায় সিংহ নয়, ঘোড়ার উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করা যায়। তাই অসুর নিধনে দেবী ঘোটকমুখী সিংহ নিয়ে আবির্ভূতা হয়েছিলেন বলে অনেকেই মনে করে থাকেন। আর সেই কারণেই দুর্গাপুজোর প্রথম দিকে ঘোড়ামুখী এই সিংহকে দেখা যেত দেবীর বাহন রূপে।

Advertisement

ঘোটকমুখী সিংহ বলতে বোঝায় শরীরের আকৃতি সিংহের মতো হলেও মুখটি ঘোড়ার। পরাধীন ভারতবর্ষে বহু বাঙালি বাড়ির পুজোতেই দেখা মিলত এই ঘোটকমুখী সিংহের। মনে করা হয়, এই ঘোড়া ছিল ব্রিটিশ বাহিনির প্রতীক। কালের বিবর্তনে এই ঘোড়ামুখী সিংহ আজ হারিয়ে গেছে। এটিই ছিল দেবীর প্রথমদিকের বাহন। পরে ঘোড়ার মুখের জায়গায় আসে আসল সিংহের মুখ। যদিও কলকাতার মিত্রবাড়িতে এখনও সেই প্রাচীন ধারা অনুসৃত হয়। এমনকী কৃষ্ণনগরের রাজবাড়িতেও সিংহের মুখ অশ্বসদৃশ। কিন্তু কেন? কেন সিংহবাহিনীর বাহনের মুখে অশ্বের ছাপ?

মহেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর ‘কলিকাতার পুরাতন কাহিনী ও প্রথা’ গ্রন্থে জানাচ্ছেন, এটা আসলে বৈষ্ণববাড়ির প্রতিমার বৈশিষ্ট্য। যদিও কালীঘাটের পটে আঁকা কিংবা উনিশ শতকের কাঠখোদাই ছবিতেও এমন ঘোড়ামুখী সিংহের দেখা মেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে রয়েছে একটা অন্য কারণ। ১৮৬৬ সালে আলিপুরে চিড়িয়াখানা স্থাপিত হয়। দল বেঁধে সেখানে গিয়ে বাঙালি প্রত্যক্ষ করে সিংহকে। তার আগে পর্যন্ত সুজলা সুফলা বঙ্গদেশে হলদে-কালো ডোরাকাটা বাঘই ছিল সর্বেসর্বা। সিংহকে চাক্ষুষ করার সুযোগ হয়নি। আর সেই কারণেই এর আগে শিল্পীরা তাঁর কল্পনায় পশুর মাথায় কেশর বসিয়ে দিতেন বটে, কিন্তু সিংহের মুখের অবয়ব তাঁদের অধরাই ছিল। কালক্রমে এটা হয়ে ওঠে একটা বিশেষ স্টাইল। যে ধাঁচের সিংহ আজও কোথাও কোথাও রয়ে গিয়েছে দেবী দুর্গার পাশে।

আজকের থিমসর্বস্ব পুজোয় অবশ্য নানা এক্সপেরিমেন্টই দেখা যায়। মোটামুটি ভাবে গত শতকের ছয়ের দশক থেকেই তা লক্ষ করা গিয়েছিল। কিন্তু নতুন সহস্রাব্দে এসে তা নতুন মাত্রা পায়। নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে ফিরে ফিরে এসেছে একচালা প্রতিমাও। এভাবেই পুরনো সময় ফিরে এসে নতুনের বুকে জায়গা করে নেয়।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.