Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
Hooghly

কুসংস্কার ঘুচিয়ে নজির, অম্বুবাচীতেও অবারিত হুগলির ‘সবুজ কালী’র মন্দির

কেন এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত? কারণ ব্যাখ্যা করলেন মন্দিরের পীঠাধীশ দেবজ্যোতি অধিকারী।

সুমন করাতি
সুমন করাতি

শেষ আপডেট: জুন ২১, ২০২৬, ১৪:৩০

link
সুমন করাতি
সুমন করাতি

শেষ আপডেট: জুন ২১, ২০২৬, ১৪:৩০

options
link
কুসংস্কার ঘুচিয়ে নজির, অম্বুবাচীতেও অবারিত হুগলির ‘সবুজ কালী’র মন্দির zoom
Advertisement

​হিন্দু ধর্মের প্রাচীন প্রথাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর আষাঢ় মাসে পালিত হয় অম্বুবাচী। লোকবিশ্বাস ও প্রচলিত নিয়ম মেনে এই তিনদিন দেশের প্রায় সমস্ত দেবী মন্দিরের গর্ভগৃহের দরজা বন্ধ থাকে, বন্ধ থাকে পুজোআর্চাও। দেবীর মুখ ঢাকা থাকে। কিন্তু সেই চেনা ছবি আর চিরাচরিত প্রথা ভেঙে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছে হুগলির নালিকুলের বিখ্যাত সবুজ কালী মায়ের মন্দির। বিগত বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এ বছরও অম্বুবাচীর দিনগুলিতে সম্পূর্ণ খোলা থাকছে মন্দিরের দ্বার, চলবে পুজোও।

মন্দিরের পীঠাধীশ দেবজ্যোতি অধিকারী জানান, ‘‘ঋতুস্রাব কোনও অপবিত্র বিষয় নয়। বরং তা সৃষ্টির আদি উৎস। এই বৈজ্ঞানিক সত্যকে মেনে নিয়ে এবং নারী সমাজকে ঘিরে থাকা আদিম কুসংস্কারের ধাক্কা দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ। বিগত বছরের মতো এবারও অম্বুবাচীতে মায়ের পুজো ও দর্শন কোনও কিছুই বন্ধ থাকবে না।”

হুগলির বিখ্যাত সবুজ কালীর পুজো চলবে অম্বুবাচীতেও। নিজস্ব ছবি

​সাধারণত অম্বুবাচীর দিনগুলিতে দেবীকে ঋতুমতী হিসেবে কল্পনা করা হয় এবং সেই কারণে অশুচিতার দোহাই দিয়ে দেবী দর্শন বন্ধ রাখা হয় মন্দিরগুলিতে। কিন্তু সবুজ কালী মন্দিরের সেবাইত ও পুজো কমিটি এই ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে চান। মন্দিরের পীঠাধীশ দেবজ্যোতি অধিকারী জানান, ‘‘ঋতুস্রাব কোনও অপবিত্র বিষয় নয়। বরং তা সৃষ্টির আদি উৎস। এই বৈজ্ঞানিক সত্যকে মেনে নিয়ে এবং নারী সমাজকে ঘিরে থাকা আদিম কুসংস্কারের ধাক্কা দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ। বিগত বছরের মতো এবারও অম্বুবাচীতে মায়ের পুজো ও দর্শন কোনও কিছুই বন্ধ থাকবে না।” তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘মা কখনও সন্তানদের অদর্শন চান না। না দেখে থাকতে পারেন না।” মন্দির কর্তৃপক্ষের এই আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ ও সমাজকর্মীরা। তাঁদের মতে, ধর্মের নামে চলতে থাকা নানাবিধ সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল।

Advertisement
অম্বুবাচীর দিনগুলিতেও এই মন্দিরে চলবে পুজো, দর্শন। নিজস্ব ছবি

এ বছর ২২ থেকে ২৬ জুন অর্থাৎ আষাঢ়ের ৭ তারিখ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত অম্বুবাচী ব্রত চলবে। এসময়ে দেবী মন্দিরের পাশাপাশি গৃহস্থ বাড়িতেও সিংহাসনে দেবীমূর্তির মুখ ঢেকে রাখা হয়। তবে নিত্যপুজো বন্ধ থাকে না কোথাও। মন্দিরগুলিতে পুজো চলে। এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। এই সময়ে শুধুমাত্র সবুজ কালীর মন্দিরের দুয়ারই নয়, খোলা থাকে কৃষ্ণনগরের দু-একটি দেবী মন্দিরও। তবে গত কয়েকবছর ধরে হুগলির ওই মন্দির দর্শন ও পুজোর জন্য খোলা থাকার ধারাবাহিকতা নজির গড়েছে বলে মনে করেন স্থানীয় মানুষজন ও ভক্তরা।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.