Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
Rakhi Bandhan 2026

স্বামীর মঙ্গল কামনায় ইন্দ্রের কবজিতে রক্ষাসূত্র বেঁধে ছিলেন ইন্দ্রাণী, কীভাবে শুরু হয় রাখি?

চান্দ্রমাসের হিসাব অনুসারে, এটি শ্রাবণ মাস। আর এই মাসের শেষ দিনটিতে পূর্ণিমার চাঁদ উঠলে সুতোর টানে বাঁধা পড়ে এক অমলিন স্নেহের বন্ধন। আজ যা ভাই-বোনের ভালোবাসার প্রতীক, তার নেপথ্যে রয়েছে হাজার বছরের পৌরাণিক ইতিহাস। কী সেই ইতিবৃত্ত?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১৫:৫৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১৫:৫৬

options
link
স্বামীর মঙ্গল কামনায় ইন্দ্রের কবজিতে রক্ষাসূত্র বেঁধে ছিলেন ইন্দ্রাণী, কীভাবে শুরু হয় রাখি? zoom
কী সেই ইতিবৃত্ত?
Advertisement

চান্দ্রমাসের হিসাব অনুসারে, এটি শ্রাবণ মাস। আর এই মাসের শেষ দিনটিতে পূর্ণিমার চাঁদ উঠলে সুতোর টানে বাঁধা পড়ে এক অমলিন স্নেহের বন্ধন। আজ যা ভাই-বোনের ভালোবাসার প্রতীক, তার নেপথ্যে রয়েছে হাজার বছরের পৌরাণিক ইতিহাস। কিন্তু জানেন কি, রক্ষাসূত্রের এই পবিত্র ঐতিহ্য আদতে শুধুই ভাই-বোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না! কালের নিয়মে বদলালেও, রাখি পূর্ণিমার মূল দর্শন লুকিয়ে রয়েছে সুরক্ষার অমোঘ প্রতিশ্রুতির মধ্যেই।

Explore the mythological origins of Rakhi Bandhan 2026
ফাইল ছবি

ভবিষ্যপুরাণের পাতায় চোখ রাখলে মেলে এক আশ্চর্য কাহিনি। সত্যযুগে অমরাবতী গ্রাস করেছিল পরাক্রান্ত অসুর বৃতাসুর। দেবরাজ ইন্দ্রও পরাস্ত হন তাঁর কাছে। অবশেষে মহর্ষি দধিচির অস্থি দিয়ে নির্মিত হল অমোঘ অস্ত্র ‘বজ্র’। কিন্তু যুদ্ধে যাওয়ার পূর্বে দেবরাজের সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন সুরেশ্বরী শচী। স্বামীর মঙ্গল কামনায় নিজের তপোবল এক ছত্রে এনে তিনি একটি অলৌকিক রক্ষাসূত্র রচনা করেন। শ্রাবণী পূর্ণিমার পুণ্য তিথিতে ইন্দ্রের কবজিতে সেই সুতো বেঁধে দিয়েছিলেন ইন্দ্রাণী। সেটিই ছিল মর্ত্যের ইতিহাসে প্রথম রূপক রাখি, যা পত্নী বেঁধেছিলেন পতির সুরক্ষিত প্রত্যাবর্তনের প্রার্থনায়।

Advertisement

মহাভারতের যুগে এই রক্ষাসূত্র লাভ করে এক পরম আত্মিক মাত্রা। রাজসূয় যজ্ঞে শিশুপাল বধের সময় সুদর্শন চক্রের তীক্ষ্ণ প্রভাবে আহত হন পুরুষোত্তম কৃষ্ণ। আঙুল কেটে রক্তধারা বইতে দেখে ক্ষণমাত্র বিলম্ব করেননি পঞ্চালনন্দিনী দ্রৌপদী। নিজের রক্তাম্বর শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে তিনি পরম শ্রদ্ধায় বেঁধে দেন কৃষ্ণের ক্ষতে। সেই এক টুকরো কাপড়ই হয়ে ওঠে মহাভারতের অন্যতম শক্তিশালী রক্ষাকবচ। পরবর্তীতে কৌরবসভায় যখন দ্রৌপদীর কুলস্ত্রীত্ব লুণ্ঠনের অপচেষ্টা হয়, তখন সেই বস্ত্রখণ্ডের ঋণ শোধ করেন বাসুদেব। অনন্ত বস্ত্র জুগিয়ে সখীর লজ্জা নিবারণ করেছিলেন তিনি।

Explore the mythological origins of Rakhi Bandhan
ফাইল ছবি

শুধু ইন্দ্রানী বা দ্রৌপদী নন, রাখি পূর্ণিমার এই পরম লগ্নে জড়িত আরও বহু পৌরাণিক গাথা। যমুনার হাতের রক্ষাসূত্র যেমন যমরাজের হৃদয় দ্রবীভূত করেছিল, তেমনই দরিদ্র নারীর ছদ্মবেশে বৈকুণ্ঠেশ্বরী লক্ষ্মী এসে সুতো বেঁধেছিলেন দানবীর বালির হাতে।

সময় গড়িয়েছে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পতি-পত্নীর সুরক্ষার প্রার্থনা আজ রূপ নিয়েছে ভাই-বোনের মধুর সম্পর্কে। কিন্তু রক্ষাসূত্রের সেই আদিম সুরক্ষার মন্ত্র এখনও এক ও অভিন্ন।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.