১৭ চৈত্র  ১৪২৬  মঙ্গলবার ৩১ মার্চ ২০২০ 

Advertisement

রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য কাটা পড়বে কয়েক হাজার গাছ, ক্ষুব্ধ পরিবেশপ্রেমীরা

Published by: Subhamay Mandal |    Posted: February 24, 2020 4:59 pm|    Updated: February 24, 2020 4:59 pm

An Images

অরূপ বসাক, মালবাজার: আমরা সব সময় বলি, ‘একটি গাছ, একটি প্রাণ’। এবার রাস্তা তৈরি ও সম্প্রসারণের জন্য এই রকম কয়েক হাজার গাছ ভূপতিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা গেল মাল ব্লকের কালিম্পং জেলার সীমানা লাগোয়া বাগরাকোট থেকে চুইখিম, চারকোল, আলগাড়া হয়ে সিকিমের নাথু লা’র সিল্ক রুট পর্যন্ত রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। ন্যাশনাল হাইওয়ে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের অধীনে এই কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজের জন্য হাজার হাজার গাছ কাটা পড়তে চলেছে।

এনিয়ে জানতে চাওয়া হলে সংস্থার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শ্রী লক্ষ্মণ জানান, এনএইচআইডিসিপি’র অধীনে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ২২০ কিমি রাস্তা তৈরি হবে। এরমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ৬৭ কিমি পথ রয়েছে। বাকিটা সিকিমে। পশ্চিমবঙ্গের ৬৭ কিমি পথ ৫ ধাপে তৈরি হবে। প্রথম ধাপে ১৩ কিমি রাস্তার জন্য ১০৯৮টি গাছ কাটার প্রয়োজন হবে। ৪৫০ গাছ কাটা হয়েছে। বাকিটা পরে হবে। জাতীয় পরিবেশ দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, একটি গাছ কাটলে ৫টি গাছ লাগাতে হবে। সেই অনুযায়ী গাছ লাগাতে যে খরচ পড়বে সেই পরিমাণ অর্থ কালিম্পং ফরেস্ট ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশনকে দেওয়া হয়ে গিয়েছে।

[আরও পড়ুন: আমাজনকে দেখেও শিক্ষা নেই! জঙ্গলমহলের শালবনে আগুনের ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ]

শ্রী লক্ষ্মণের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় ১০৯৮টি গাছ কাটা পড়বে। ঘন বনাঞ্চলে আর ৪ দফা বাকি আছে অনুমান আরও হাজার পাঁচেক গাছ কাটা পড়বে। এতেই উদ্বিগ্ন পরিবেশপ্রেমীরা। যদিও সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, আমাদের এক প্রতিবেশী দেশ ক্রমাগত এগিয়ে আসছে। বর্তমানে সিকিম যাওয়ার সড়কপথে একটি মাত্র রাস্তা রয়েছে। বর্ষায় মাঝেমধ্যে ধসে রাস্তা বন্ধ থাকে। সেইজন্য বিকল্প সড়ক প্রয়োজন। উন্নত মানের এই রাস্তা নির্মাণ হলে সড়কপথে সিকিমের সঙ্গে যোগাযোগ নতুন মাত্রা পাবে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে এই সড়কপথ খুব জরুরি।

এ ব্যাপারে বিভিন্ন পরিবেশপ্রেমী সংগঠন সরব হয়েছে। পরিবেশপ্রেমী মৃণাল সিংহ রায়, নফসর আলি, সুজিত দাস বলেন, ‘রাস্তা হচ্ছে হোক। দেশের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই রাস্তা তৈরি হচ্ছে। তবে যেসব গাছ কাটা হচ্ছে রাস্তা তৈরি হওয়ার পর যাতে সম পরিমাণ গাছ লাগানো হয়। তা নাহলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। এরজন্য আমরা চেষ্টা করব এই এলাকায় যাতে পুনরায় গাছ লাগানো যায়।’ একই বক্তব্য এলাকার মানুষদের। তাঁদের বক্তব্য, যত বেশি গাছ কাটা হবে তত ভূমিধস নামার সম্ভাবনা বাড়বে।

এ ব্যাপারে রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমোদন নিয়েই এই গাছ কেটে রাস্তা তৈরি হচ্ছে। দেশের নিরাপত্তা এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তবে আমরা এটাও দেখব। যাতে যতগুলো গাছা কাটা হয়, তার দ্বিগুণ গাছ যেন ওই এলাকায় লাগানো হয়। ‘

Advertisement

Advertisement

Advertisement