প্রায়শই খবরে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য— পৃথিবীর অধিকাংশই ভরে উঠছে প্লাস্টিক বর্জ্যে। স্থল তো বটেই, সমুদ্রতলেও জড় হচ্ছে গাদা গাদা প্লাস্টিক, যা জৈববিয়োজ্য নয়। ফলে ধবংস না হয়ে জমেই থাকছে বছরের পর বছর। এমনকী মানুষের খাবারেও যে মাইক্রোপ্লাস্টিক মিশছে ক্রমাগত, সে খবরও শোনা যাচ্ছে প্রায়ই।
কীভাবে কমানো যাবে প্লাস্টিক? মানুষের খাদ্যজগতের অংশ হয়ে উঠতে পারে কি প্লাস্টিক? সম্প্রতি সাদার্ন ইলিনয়েস ইউনিভার্সিটি কার্বনডেলের গবেষকরা তৈরি করেছেন এক খাদ্যযোগ্য কুকি, যার মুখ্য উপাদানগুলির মধ্যে অন্যতম হল প্লাস্টিকের বোতল এবং উদ্ভিজ্জ বর্জ্য। এই কুকির নাম রাখা হয়েছে ‘মাইক্রোবাইটস’ (µBites)। বিস্কুট-জাতীয় এই খাবারটি সত্যি সত্যিই খাওয়া যাবে! রীতিমতো পেটও ভরবে তাতে (Plastic Bottle Cookies)!
আরও পড়ুন:

‘নাসা ডিপ স্পেস ফুড চ্যালেঞ্জ’-এর জন্য এই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে এটিকে বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা—খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলার সম্ভাব্য উপায় হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির এক বৈঠকে গবেষকরা এই কুকিটি উপস্থাপন করেন। তাঁদের দাবি, এই পদ্ধতিতে প্লাস্টিক ও উদ্ভিজ্জ বর্জ্যকে ভোজ্য উপাদানে রূপান্তর করে, পুষ্টিকর ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার তৈরি করা সম্ভব। গবেষকদের মতে, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত এবং স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য রাখেন না। তাই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সমস্যা বর্তমানে আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৭.৮ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ২১০ কোটি মানুষ অনাহারে ভুগছে। গবেষকদের মতে, তাঁদের এই পদ্ধতি একদিকে যেমন খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে, অন্যদিকে তেমনই প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করবে।

কিন্তু প্লাস্টিকের বোতল থেকে কুকি তৈরি হয় কীভাবে?
গবেষকরা এ কাজে প্রথমে ‘পেট’ (PET) প্লাস্টিক ব্যবহার করেন। সাধারণত পানীয়ের বোতল তৈরিতে এই ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়। এর সঙ্গে নেওয়া হয় ফেলে দেওয়া ভুট্টার গাছের কাণ্ড, পাতা এবং অন্যান্য বায়ো-মাস। উপাদানগুলোকে অক্সিডেটিভ হাইড্রোথার্মাল ডিসলিউশন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে পাঠানো হয়। ফলে সেগুলো ভেঙে ব্যবহারযোগ্য উপাদানে পরিণত হয়। পরবর্তী ধাপে বিশেষ ইস্টের সংস্পর্শে আসে উপাদানগুলি। এই ইস্ট সেগুলোকে নতুন খাদ্য উপাদানে রূপান্তর করে। এর মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, ফ্যাট ও বিভিন্ন অ্যাসিড।
আশা করা যায়, আগামিদিনে সুস্বাদু ও সুগন্ধী করে তোলা যাবে কুকিগুলিকে। ভ্যানিলা ফ্লেভারও যোগ করা যেতে পারে।
তবে এই প্লাস্টিক-জাত কুকি এখনও নিজেরাই চেখে দেখার প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন পাননি বিজ্ঞানীদের দলটি! যদিও তাঁদের বিশ্বাস, গবেষণার পরবর্তী কোনও ধাপে সত্যিই এমনটা সম্ভব হবে। তাই এখনই মানুষের খাওয়ার উপযোগী বলে দাগিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না সেগুলিকে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ফের রণক্ষেত্র মণিপুর, স্কুলের প্রধানশিক্ষক-সহ ৫ জনের রক্তে লাল হল মাটি!
-
‘বেঁচে আছে তো?’ বেড়াতে গিয়ে বিধ্বস্ত নেপালে নিঁখোজ কলকাতার ৬! উৎকণ্ঠায় পরিবার
-
মুহূর্তে ‘জলরাক্ষস’ গ্রাস করল স্ত্রী-পুত্রকে! নেপালের ব্যবসায়ীর দু’চোখে এখনও আতঙ্ক ও বিষাদ
-
ক্যামাক স্ট্রিটে ফের ঝুলল ‘বেআইনি’ হোর্ডিং! ‘যতদূর যেতে হয়, যাব’ পুলিশের সঙ্গে গাজোয়ারির পর হুঁশিয়ারি অভিষেকের
-
মহারাষ্ট্র পিএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ‘ফাঁস’! ব্যর্থ প্রেমকাহিনিতেই প্রকাশ্যে কেলেঙ্কারি