Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Melting Glaciers

উষ্ণায়নে ঝাঁকেঝাঁকে বেরিয়ে আসছে বরফচাপা মৃত্যুদূত! হিমবাহের গলনে কত বড় বিপদে মানবসভ্যতা?

হিমবাহে জমা ছিল কোটি কোটি বছরের ক্ষতিকর জিন, উষ্ণায়নের ফলে বরফ গলে মিশছে সমুদ্র-নদীতে, এবারই কি শেষের সেদিন?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১৭:৪৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১৭:৪৬

options
link
উষ্ণায়নে ঝাঁকেঝাঁকে বেরিয়ে আসছে বরফচাপা মৃত্যুদূত! হিমবাহের গলনে কত বড় বিপদে মানবসভ্যতা? zoom
প্রতীকী ছবি।

৪৫৪ কোটি বছরের পৃথিবী! ৬৫০ মিলিয়ন বছর আগে শ্যাওলা জাতীয় পদার্থ থেকে বহুকোষী প্রাণীর সৃষ্টি! সেই পুরনো পৃথিবীর ইতিহাস, জীবাষ্ম, জিন রয়ে গিয়েছে মেরু অঞ্চলের মাইল মাইল বিস্তৃত হিমবাহগুলিতে। বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে সেই হিমবাহই এবার গলতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে বাড়ছে সমুদ্রের জলস্তর। এর ফলে বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড প্লাবিত হওয়ার থেকেও বড় বিপদ ওঁত পেতে আছে। সেই বিপদ হতে পারে কোটি কোটি বছর ধরে হিমবাহে জমে থাকা ক্ষতিকর জিনের থেকে। সাম্প্রতিক গবেষণায় এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য় সামনে এসেছে। কত বড় বিপদ অপেক্ষা করছে মানবসভ্যতার জন্য?

কিছুদিন আগে কোভিডের মতো দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হয়েছিল পৃথিবী। এছাড়াও ইবোলা, এইচআইভি, ডেঙ্গুর মতো প্রাণঘাতী ভাইরাসের সঙ্গে গত কয়েক দশক ধরে লড়ছে মানুষ। চিনের লানঝাউ বিশ্ববিদ্যলয়ের গবেষকদের দাবি, এর চেয়েও ভয়ংকর কিছু অপেক্ষা করছে দীর্ঘদিন ধরে সবুজ-নীল গ্রহ শাসন করা হোমোসেপিয়েন্সের জন্য।

Advertisement

গবেষকরা বলছেন, কোটি কোটি বছর ধরে হিমবাহের মধ্যে জমে রয়েছে ক্ষতিকর জিন! এই জিন অ্যান্টিবায়োটিক বা জীবণুনাশক প্রতিরোধকারী। যে সমস্ত ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ করে, এই জিন তাদের সাহায্য করে। ফলে এটি জলে মিশে জলের জীবাণুনাশক ক্ষমতাকে কমিয়ে দিতে পারে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে এই জিন বরফের সঙ্গে গলে মিশছে সমুদ্র ও নদীর জলে। এর ফলে ভবিষ্যতে বাড়তে পারে জলবাহিত মারাত্বক রোগ। আপাতত যে সমস্ত জায়গায় হিমবাহ-গলা জল প্রবাহিত জলের সঙ্গে মেশে, অর্থাৎ কিনা পাহাড়ি এলাকাগুলির স্বাস্থ্যের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

কিছুদিন আগে কোভিডের মতো দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হয়েছিল পৃথিবী।

বিশ্ব উষ্ণায়নের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও পক্ষান্তরে উষ্ণায়নের কারণেই বিপদ বাড়ছে। কীভাবে? কোটি কোটি বছর ধরে ক্ষতিকর জিন হিমবাহে জমাট বাঁধা অবস্থায় ছিল। তাতে জীবজগতের কোনও ক্ষতি হত না। কিন্তু বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহ গলতে শুরু করায় বিষাক্ত জিন এখন নদী এবং হ্রদগুলিতে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধকের সক্রিয় উৎসে পরিণত হয়েছে। চিন্তা বাড়ছে মানুষের।

দীর্ঘদিন ধরে হিমবাহকে জমাট বাঁধা জলের ভাণ্ডার মনে করা হত। কিন্তু আন্টার্কটিকা, আর্কটিক এবং তিব্বতীয় মালভূমির হিমবাহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণা চালিয়ে গবেষকরা বলছেন, এই ভাবনা সম্পূর্ণ ভুল। হিমবাহ আসলে প্রকৃতির ফ্রিজ! চিনা গবেষকদলের অন্যতম সদস্য গুয়ান্নান মাও বলেন, ‘‘হিমবাহগুলিকে দীর্ঘ দিন ধরে বিচ্ছিন্ন হিসাবে দেখে আসা হয়েছে। আমাদের গবেষণা দেখাচ্ছে, এগুলি আসলে জিনের সংরক্ষণাগারও বটে, যা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধকগুলিকে সঞ্চয় করে।’’বিষয়টি রীতিমতো আতঙ্কের। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই হিমবাহপুষ্ট নদী এবং হ্রদ বহু মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জলের উৎস।

দীর্ঘদিন ধরে হিমবাহকে জমাট বাঁধা জলের ভাণ্ডার মনে করা হত।

বিপদের এখানেই শেষ নয়, জীবাণু-জগতে জিনের স্থানান্তরের জন্য প্রজননের প্রয়োজন পড়ে না। অনুকুল পরিস্থিতি পেলেই ড়়িয়ে পড়তে পারে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক। সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিরোধক প্রতিরোধক জিনগুলি ভাইরাসের সঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে। এর ফলে ব্যাকটেরিয়ার রোগসৃষ্টি আরও সহজ হয়। বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, সভ্যতার কারণেই দূষণ বাড়ন্ত। ফলে হিমাবাহের গলন রোখা কঠিন। ফলে ভবিষ্যৎ পৃথিবী কোভিডের কয়েক শো গুণ ভয়ংকর ভাইরাসের কবলে পড়তে। সেটাই কি অন্তিম পরিণতি হোমোসেপিয়েন্সের। তারপর হয়তো নির্মম মহাপৃথিবী মানুষের থেকেও মেধাবী কোন প্রাণীকে পৃথিবীতে আনবে!

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.