২২ আষাঢ়  ১৪২৭  মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

লকডাউনে জুটছিল না উচ্ছিষ্টও, অভুক্ত সারমেয়দের দায়িত্ব নিলেন ক্যানিংয়ের যুবক-যুবতীরা

Published by: Tiyasha Sarkar |    Posted: May 27, 2020 12:41 pm|    Updated: May 27, 2020 12:41 pm

An Images

দেবব্রত মণ্ডল, বারুইপুর: লকডাউনে বন্ধ হোটেল,রেস্তোরাঁ-সহ প্রায় সব খাবারের দোকান। ফলে প্রায় মাস দুই ধরেই  মানুষের ফেলে যাওয়া খাবার জুটছিল না তাদের। এরই মাঝে হামলা চালিয়েছে সুপার সাইক্লোন আমফান। ফলে এদিক ওদিক থেকে যাও বা কিছু  জুটছিল সেটাও বন্ধ। ফলে অভুক্ত অবস্থাতেই দিন কাটাতে হচ্ছিল বহু সারমেয়কে। এই পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়ালেন ক্যানিংয়ের কয়েকজন যুবক-যুবতী। শুধু খাবার দেওয়াই নয়, পথের সারমেয়দের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করছেন তাঁরা।

ক্যানিং বাজার ও তার আশপাশ এলাকায় শত শত সারমেয়র বাস। সকাল হোক বা বিকেল এখন নির্দিষ্ট টোটো দেখলেই ছুটে যায় এই কুকুরগুলো। দলবেঁধে ঘুরতে থাকে টোটোর আশেপাশে। হাবেভাবে বুঝিয়ে দেয় পেটের জ্বালা। এরপর খাবার সামনে পড়তেই নিমেষে উধাও তা। এ বিষয়ে পশুপ্রেমি বিদিশা হালদার বলেন, “যখন থেকে লকডাউন শুরু হল সেই সময় থেকেই বুঝলাম কুকুরদের অবস্থা ভীষণ খারাপ। কোথাও খেতে পারছে না তারা। সেই থেকে আমরা খাওয়ার ব্যবস্থা করলাম। শুধু লকডাউনে এমন হল তা নয়, আমফান পরবর্তী পরিস্থিতিতে সমস্যা আরও বেড়েছে। এখন মানুষ নিজেই খেয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। আর আমরা চেষ্টা করছি নিজেদের সাধ্য মতো কিছু জোগাড় করে ওদের মুখে তুলে দিতে।”

[আরও পড়ুন: গ্রিনজোন পুরুলিয়ায় করোনার থাবা, প্রথম আক্রান্ত মহারাষ্ট্র ফেরত শ্রমিক]

শুধু খাওয়া-দাওয়া নয়, খাওয়া শেষে নিয়মিত চলছে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা। কারণ, প্রতিনিয়ত কুকুরদের উপর অত্যাচার বেড়েই চলেছে। তাই কেউ যদি কোনওভাবে তাদের গাড়ি চাপা দিয়ে দেয় বা মারধর করে সেক্ষেত্রে তাদের চিকিৎসা করা হচ্ছে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে। এ বিষয়ে পশুপ্রেমী রাকেশ শেখ বলেন, “বিভিন্ন বয়সের কুকুরদের উপর অত্যাচার চলছে মানুষের। বাচ্চা কুকুরগুলোকেও মারধর করা হয়। কোনও কুকুরের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত তো কারও পায়ের উপর দিয়ে গাড়ি চাপা দেওয়ার চিহ্ন। সেই সব কুকুরদের এনে তাদের চিকিৎসা করে সুস্থ করতে হয়।” শুধু তাই নয়, প্রত্যেকে গুনে গুনে হিসেব রাখেন সারমেগুলির। যদি কোনও একজনও মিসিং দেখেন খোঁজ চলে তার। আর এই ভাবেই প্রতিদিন শতশত কুকুরকে খাবার খাইয়ে যাচ্ছেন এইসব যুবক-যুবতীরা।

অনেকেই এগিয়ে এসেছেন যুবক-যুবতীদের এই কর্মকাণ্ড দেখে। হাত রেখেছেন তাঁদের হাতে। তেমনই একজন মনজুর রহমান। তিনি স্বাস্থ্য দপ্তরের সরকারি ল্যাবের কর্মী। তিনি বলেন, “রাস্তায় যত কুকুর দেখি বিশেষ করে যারা অভুক্ত অবস্থায় থাকে তাদের কিছু না কিছু কিনে খেতে দিই। আর যতটা সম্ভব রান্না করে খাবার দেওয়ার চেষ্টা করি। এই কাজ আমরা লকডাউনের পরবর্তী পরিস্থিতিতেও চালিয়ে যাব। কারণ, লকডাউন উঠে গেলে হোটেলে বা রেস্তোরাঁয় খেতে মানুষ যে উপস্থিত হবেন এমন নাও হতে পারে।” যখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে  কুকুর হত্যার ঘটনা ঘটে চলেছে সেখানে দাঁড়িয়ে এই মানুষগুলোর উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

[আরও পড়ুন: ভিনরাজ্যে হৃদরোগে মৃত্যু যুবকের, দেহ গ্রামে ফিরলেও করোনা আতঙ্কে সৎকারে বাধা পরিবারকে]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement