বিজ্ঞজনেরা বলেন, অন্ধকার নামলে জঙ্গল সাফারি সেরে ফিরে আসাই ভালো। যদি সন্ধে নামার মুখে জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে দেখতে পান, কোনও পাখির মাথা উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে রয়েছে, তবে সাধু সাবধান! সেদিকে এগোনো তো দূরের কথা, সময় থাকতে ফিরতি পথে হাঁটাই ভালো! কারণ হতে পারে সেই মুহূর্তে আপনি দেখতে পাচ্ছেন পৃথিবীর সবচাইতে ভয়ংকর পাখিটিকে (World’s Most Dangerous Bird)!
কেবল ভয়ংকর নয়, পৃথিবীর অন্যতম রহস্যময় পাখির তকমাও জুটেছে ক্যাসোওয়ারির ভাগে। অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পাপুয়া নিউগিনি এবং ইন্দোনেশিয়ার ঘন রেইনফরেস্টে বাস করা এই বিশাল আকৃতির পাখি কিন্তু উড়তে পারে না। ক্যাসোওয়ারির উচ্চতা ৬ ফুট পর্যন্ত হতে পারে এবং ওজন ৭০ কেজিরও বেশি হয়! এদের প্রতিটি পায়ে প্রায় ৫ ইঞ্চি লম্বা ছুরির মতো ধারালো নখ থাকে, যা দিয়ে আত্মরক্ষার সময় লাথি মারতে পারে এরা। মানুষের উপর আক্রমণের ঘটনা খুবই বিরল হলেও, কোণঠাসা হলে বা নিজেদের বাচ্চাকে রক্ষা করতে গেলে, এরা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন:

তবে সাম্প্রতিকতম গবেষণায় আরও এক অদ্ভুত তথ্য উঠে এসেছে। জীববিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ক্যাসোওয়ারির মাথার ওপরে থাকা শক্ত, হেলমেটের মতো অংশ— যাকে ক্যাস্ক বলা হয়, তা অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে এলে উজ্জ্বল নীল-সবুজ রঙে জ্বলে ওঠে। সাধারণ আলোয় দেখা যায় না, তাই এতদিন এই বৈশিষ্ট্যটি মানুষের নজর এড়িয়েছিল।
ক্যাস্ক মূলত হাড় ও কেরাটিনের তৈরি এক শিংয়ের মতো অংশ। ধনেশ পাখির ক্ষেত্রেও এই ক্যাস্ক দেখা যায়। বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, ক্যাসোওয়ারির এই ক্যাস্ক হয়তো ঘন জঙ্গলের ডালপালা সরিয়ে এগিয়ে যেতে, শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে বা শব্দ উৎপাদনে সাহায্য করে। কিন্তু এর প্রকৃত ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক ছিল।
‘সাইন্টিফিক রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত নতুন গবেষণায় জানা গিয়েছে যে, বিজ্ঞানীদের একটি দল জীবিত ও জাদুঘরে সংরক্ষিত বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাসোওয়ারির মাথার অংশ অতিবেগুনি আলোতে পরীক্ষা করেন। দেখা যায়, ক্যাস্কে জৈব ফ্লুরোসেন্স রয়েছে। তাই, অতিবেগুনি রশ্মিতে ক্যাস্কের নির্দিষ্ট অংশ উজ্জ্বল নীল-সবুজ আভা ছড়ায়। শুধু তাই নয়, প্রতিটি ক্যাসোওয়ারি প্রজাতির ফ্লুরোসেন্ট নকশাও আলাদা।
গবেষকেরা আরও দেখেছেন, ক্যাসোওয়ারির চোখ ৩৬৫ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অতিবেগুনি রশ্মি শনাক্ত করতে পারে এবং তাদের ক্যাস্ক সেই আলো প্রতিফলিতও করে। ফলে এই বিশেষ আলোর সংকেত ক্যাসোওয়ারিরা নিজেরাই দেখতে পারে— এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, ঘন রেইনফরেস্টে সূর্যের আলো খুব কম পৌঁছায়। এমন পরিস্থিতিতে জ্বলে ওঠা ক্যাস্কের মাধ্যমে ক্যাসোওয়ারিরা একই প্রজাতির অন্য সদস্যকে চিনতে পারে। তবে তা কেবল বিজ্ঞানীদের অনুমান। বাস্তবিক অর্থে দেহের এই অঙ্গ ক্যাসোওয়ারিরা কীভাবে ব্যবহার করেন, তা জানতে দীর্ঘ গবেষণা চলবে এখনও।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাত্র ১৭-তেই নিখোঁজ, এক যুগ পর সোনার পদক নিয়ে ঘরে ফিরল কোচবিহারের মূক ও বধির মেয়ে
-
চললে শীত, বন্ধ হলেই গুমোট! বর্ষাকালে কীভাবে চালালে আরামদায়ক হবে এসি? বাঁচবে বিলও
-
এনকাউন্টার: আদালতের পরিবর্তে বন্দুকের নলে কি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়?
-
দয়াদাক্ষিণ্য নয়, মাতৃত্বকালীন ছুটি সাংবিধানিক অধিকার, স্পষ্ট জানাল আদালত
-
এ যেন স্পেশাল ২৬! পুলিশি অভিযানের নামে টালিগঞ্জে দু’কোটি টাকা লুট দুষ্কৃতী দলের