Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬

সাইকেলে হিমালয়ের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত, নজির করিমপুরের জ্যোতিষ্কর

পৃথিবীর তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে এই রেকর্ড গড়লেন বাঙালি যুবক।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০১৮, ১৮:০৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০১৮, ১৮:০৬

options
link
সাইকেলে হিমালয়ের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত, নজির করিমপুরের জ্যোতিষ্কর zoom

সুলয়া সিংহ: বয়স মাত্র ২২ বছর। আর এই বয়সেই নজির গড়লেন নদিয়ার করিমপুরের বাসিন্দা জ্যোতিষ্ক বিশ্বাস। পৃথিবীর তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে সাইক্লিং করে ট্রান্স-হিমালয়ান সফর শেষ করলেন তিনি। ইচ্ছা থাকলেই যে সবটা সম্ভব, সেটাই বুঝিয়ে দিলেন এই বাঙালি যুবক।

গত ১৭৬ দিন ধরে সাইকেল চালিয়ে অসাধ্যসাধন করেছেন তিনি। তাও আবার একা। কলকাতা থেকে সাইকেলে বারাণসী, লখনউ, আগ্রা, মথুরা, দিল্লি, সোনপl, জলন্ধর, জম্মু, শ্রীনগর, সোনমার্গ, কারগিল, লাদাখ হয়ে পৌঁছান খারদুংলা। সেখান থেকে শুরু হয় ট্রান্স-হিমালয়ান ট্রেল। মানালি, গাড়োয়াল, নেপাল, উত্তরবঙ্গ, অসম হয়ে অরুণাচলে এসে থামেন। মোট ৭,৮৯১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আজ, শনিবার অরুণাচলের পূর্ব প্রান্তে পাসিঘাটে নিজের সফর শেষ করেন তিনি।

Advertisement

[মা সানিয়ার কোলে ইজহান মির্জা মালিক, নেটদুনিয়ায় ভাইরাল ছবি]

প্রথম দিন থেকেই নিজের সফরের প্রায় সব খুঁটিনাটিই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন জ্যোতিষ্ক। অসম, হিমাচল প্রদেশ, লেহ-লাদাখে নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে আলাপ হয়েছে তাঁর। বিদেশিরাও তাঁকে নানাভাবে সাহায্যও করেছেন। ক্রিকেটপ্রেমী যুবক হিমাচল প্রদেশে আবার সাইক্লিংয়ের ফাঁকে স্থানীয়দের সঙ্গে ক্রিকেটও খেলেছেন। তবে গোটা সফরই যে খুব মধুর ছিল তা বলা যাবে না। টানা সাইক্লিংয়ের ফলে শেষমেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন জ্যোতিষ্ক। এমনকী তাঁর ওজনও প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। সফরের মাঝে একবার সাইকেল চালাতে গিয়ে এতটাই কষ্ট হচ্ছিল, যে নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে সাইকেল থেকে পড়েও যান তিনি। একা থাকায় সেক্ষেত্রে বেশ সমস্যাও হয়েছিল। তবে ইচ্ছেশক্তির কাছে বাকি সবকিছুই হার মানে। সফর শেষ করে ‘সংবাদ প্রতিদিন’-কে বলছিলেন, “গত দু’বছর ধরে শুধু প্ল্যান করেছি খারদুংলা যাওয়ার। আমার ঘরে এখনও লেখা আছে একটা কাগজে যে ‘ড্রিম খারদুংলা’। অবশেষে অনেক কষ্ট-যন্ত্রণা সহ্য করে সেখানে পৌঁছাই। তবে সফর শেষে এখন এতটাই দুর্বল হয়ে গিয়েছি, যে পাসিঘাট পৌঁছানোর পর চার বোতল ফ্রুট জ্যুস খেতে হয়েছে।”

[‘আমার অধিনায়কত্বের দর্শন আলাদা’, ঘুরিয়ে কোহলিকে কটাক্ষ রোহিতের]

ছোটবেলা থেকেই ভ্রমণের শখ জ্যোতিষ্কর। পাহাড় যেন তাঁকে ডাকে। বাবা-মা তো বটেই, তবে মাস কমিউনিকেশনের ছাত্র সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা পেয়েছেন সত্যরূপ সিদ্ধান্তকে দেখে। তাঁকে দেখেই সাইকেলে ভ্রমণের ইচ্ছাপূরণের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। আর এ সফরে যখনই সমস্যায় পড়েছেন, তখনই নিজের আইকনের কথা ভেবেছেন। সব বাধা টপকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে সেই মানুষটাই। দিন কয়েকের মধ্যেই বাড়ি ফিরবেন। তারপর হবে সেলিব্রেশন। তবে তাঁর পরিবার, বন্ধু-বান্ধব মহলে ইতিমধ্যেই উৎসবের মেজাজ। ঘরের ছেলের ফেরার অপেক্ষায় গোটা করিমপুর। নজির গড়ে উচ্ছ্বসিত যুবক। বিশ্ব দরবারে এখন জ্যোতিষ্কের মতোই উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন জ্যোতিষ্ক। 

ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.