Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৩ জুলাই ২০২৬

আমরা আইএসএল খেলবই, জানালেন টুটু বোস

এবার প্রতিটি পাড়ায় স্বাধীনতা দিবসে বাগানের প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত হবে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৬, ২০১৭, ০৯:৩৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৬, ২০১৭, ০৯:৩৬

options
link
আমরা আইএসএল খেলবই, জানালেন টুটু বোস zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ক্লাব আইএসএল খেলবে কি খেলবে না, বহুদিন ধরেই চলেছিল জল্পনা। শেষপর্যন্ত স্থির হয় শতাব্দীপ্রাচীন মোহনবাগান আই লিগেই অংশগ্রহণ করবে। তবে তাঁদের প্রিয় ক্লাবকে কি কোনওদিনই আইএসএলে খেলতে দেখা যাবে না? সবুজ-মেরুন সভ্য সমর্থকদের এই প্রশ্ন বহুদিনের। শনিবার ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন স্বপনসাধন বোস। ইস্তফা দিলেও খাতায়-কলমে এখনও তিনি মোহনবাগানের সভাপতি। তবে এদিন সভায় যোগ দিলেও বসেননি মঞ্চে। সাংবাদিক পরিবেষ্টিত হয়ে নিচেই বসেন। কিন্তু সেখানে বসেই জানিয়ে দিলেন, আইএসএলে খেলবে মোহনবাগান এবং সেটা তাঁর জীবদ্দশাতেই সম্ভব হবে। পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবসের মতোই ১৫ আগস্ট পাড়ায় পাড়ায় মোহনবাগান জন্মদিবস পালন করার আহ্বানও জানালেন টুটু বোস।

[রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার বৃদ্ধের মৃতদেহ, খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য নিউ আলিপুরে]

এদিন সভায় না বসে সাধারণ দর্শকদের মাঝেই আসন গ্রহণ করেন টুটুবাবু। তবে মঞ্চে না থাকলেও তিনিই ছিলেন সভার মধ্যমণি। এর মধ্যেই ক্লাবের এক সদস্য জানতে চান, ২৯ জুলাই মোহনবাগান দিবসের দিন কী মোহনবাগান স্থাপিত হয়েছিল? তার প্রত্যুত্তরে অর্থসচিব দেবাশিস দত্ত জানিয়ে দেন, রেকর্ড অনুযায়ী ১৮৮৯ সালে ১৫ আগস্ট মোহনবাগান প্রতিষ্ঠিত হয়। “যে কোনও প্রতিষ্ঠানে বছরে একটা অনুষ্ঠানকে বড় করে দেখানো হয়। ২৯ জুলাই ক্লাবের একটা বিশেষ দিন। তাই আমরা একটা দিনকে পালন করে আসছি। তবে রেকর্ড বলছে, মোহনবাগান প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৮৮৯ সালের ১৫ আগস্ট।” তখনই টুটু বোস চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, “১৫ আগস্ট পাড়ায় পাড়ায় স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। আমরা যাঁরা মোহনবাগানি তাঁরা না হয় পাড়ায় পাড়ায় স্বাধীনতা দিবসের মতোই মোহনবাগান প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করি আসুন।” তাঁর এই প্রস্তাবে পুরো সভার সদস্যরা করতালিতে ফেটে পড়েন। সকলই মেনে নেন তাঁর এই প্রস্তাব।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

বার্ষিক সভায় এদিন বেশ কিছু প্রস্তাব গৃহীত হয়। যেমন, এবার থেকে সদস্যদের বার্ষিক চাঁদা দিতে হবে ৫০০ টাকা, সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন করা হবে, ক্লাবের নাম-ব্র্যান্ড-লোগো সব ট্রেডমার্ক করা হচ্ছে। ফলে কেউ ক্লাবের এই লোগো ব্যবহার করতে পারবে না। গতবার ক্লাবের আয়-ব্যয়ের হিসাব কষে দেখা হয়। জানা গিয়েছে, মোহনবাগানের ক্ষতি হয়েছে ৩০ লাখ ৬৪ হাজার ৭৪৭ টাকা। “কবে আমাদের চাঁদা বাড়ানো হয়েছিল বর্ষীয়ান কোনও সদস্য বলতে পারেননি। সুতরাং পাঁচশো টাকা করায় মনে হয়না কারও কোনও সমস্যা হবে। আমাদের চাঁদা বাড়িয়ে আয় করা ছাড়া আর সামনে কোনও পথ খোলা নেই। এতদিন ক্লাব সোসাইটি অব রেজিস্ট্রেশনের আওতায় ছিল না। এবার হয়ে যাচ্ছে। ক্লাবের প্যান কার্ডও হয়েছে। আমরা মোহনবাগান নামটা এবার রেজিস্ট্রেশন করব। এবার থেকে কেউ আমাদের রাইটস ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে লোগো, ক্লাবের নাম, ব্র‌্যান্ড-দের ধরে এগোন সম্ভব হবে। ক্লাবের আয় বাড়ানো যাবে।” জানান ক্লাবের অর্থসচিব দেবাশিস দত্ত।

[বেলাইন বোল্ট! শেষ ১০০ মিটার রেসে পেলেন তৃতীয় স্থান]

এদিকে, টুটু বোসের সভাপতি পদে থাকা না থাকা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেল। সভার শেষে টুটু বোস সরাসরি জানিয়ে দিলেন, “আমি সভাপতি পদে কোনওমতে ফিরছি না। যদি এই সিদ্ধান্তে অটল না থাকতাম তাহলে মঞ্চে বসতাম। কিন্তু বসেছি নিচে। সাধারণ সদস্যদের মাঝে। আসলে টুটু ভিত্তিক হয়ে যাচ্ছিল মোহনবাগান। যা কোনওমতে মেনে নিতে পারছিলাম না। কাল মারা গেলে ক্লাবের কী হবে? ক্লাবের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে জানবেন ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে মরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি নই।” সভাপতি যখন এমন সব মন্তব্য করছেন তখন নিজের চেয়ারে বসে সচিব অঞ্জন মিত্র জানিয়ে দেন, “টুটু বোস-ই মোহনবাগানের সভাপতি। ছিল, থাকবেও।” তাহলে সভায় সভাপতি উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন বার্ষিক সভায় চেয়ারপার্সন হলেন প্রাক্তন বিচারপতি মুরারি মোহন ঘোষ? প্রশ্নের জবাবে অর্থসচিব দেবাশিস দত্ত বলেন, “সাধারণত কোনও বার্ষিক সভায় সভাপতি থাকাকালীন অন্য কেউ চেয়ারপার্সন হতে পারে না। কিন্তু এদিন সভাপতি সভা শুরু হওয়ার অনেক পরে উপস্থিত হন। তাই আমরা অপেক্ষা না করে সভার চেয়ারপার্সন করে দিই মুরারিবাবুকে। আর একবার সভার চেয়ারপার্সন ঘোষণা হওয়ার পর তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”

[ভারতে হামলার ছক, যোগীর রাজ্যে ধৃত বাংলাদেশের জঙ্গি]

তবে তাঁর মঞ্চে বসা বা না বসা নিয়ে যতই বিতর্ক দানা বাঁধুক না কেন, টুটু বোস ছিলেন আপন মেজাজেই। সাংবাদিক পরিবেষ্টিত হয়ে টুটুবাবু জানিয়ে দেন, “আমি যদি মরে যাই তাহলে আলাদা কথা। নাহলে জোর দিয়ে বলছি, আইএসএল মোহনবাগান খেলবে। এবং আমার জীবদ্দশাতেই খেলবে।” ক্লাবের সুদিন যে ফিরছে তাও তিনি কথা প্রসঙ্গে জানিয়ে দেন, “ক্লাব ধীরে ধীরে স্পনসর পাচ্ছে। আগামী দিনেও পাবে। কেউ আমাদের আটকে রাখতে পারবে না।” গত দু’-তিন বছর বিনা স্পনসরশিপে ক্লাব চলছে। আর্থিক সমস্যা মেটাচ্ছেন স্বয়ং টুটুবাবু। তাই ধরেই নেওয়া যায় অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখতে চলেছে মোহনবাগান।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.