১১ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

ক্রিকেটার পরিচয়টাই মুখ্য মাশরাফির কাছে

Published by: Subhamay Mandal |    Posted: January 2, 2019 3:39 pm|    Updated: January 2, 2019 3:39 pm

Cricket first, says Mashrafe Mortaza

সুকুমার সরকার, ঢাকা: এবার ডবল ব্যাটিং করবেন ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মোর্তাজা। ২২ গজের মাঠ ছাড়াও আইন প্রণেতার দায়িত্ব পালন করার রায় পেয়েছেন জনগণের কাছে। আওয়ামি লিগ চেয়ারপার্সন তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আর্শীবাদ নিয়ে ভোটের জন্য গত ২৩ ডিসেম্বর নড়াইলে গিয়েছিলেন। নৌকায় পাল তুলে ভোটে বিজয়ের মালা পড়ে মঙ্গলবার ঢাকা ফিরলেন। নড়াইল এক্সপ্রেসের এবারের সফরটা ছিল ৯ দিনের। রাজনীতিতে নেমেই বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ক্রিকেটার পরিচয়টাই এখনও অগ্রাধিকার পাচ্ছে মাশরাফির কাছে। নির্বাচনের মাত্র দুই দিনের মধ্যে নিজের এলাকা আর ভোটারদের ছেড়ে ঢাকায় ফেরার সেটিই কারণ। মিডিয়াকে মাশরাফি জানিয়েছেন, ‘আমি চাইছি অনুশীলনের শুরু থেকে দলের সঙ্গে থাকতে। খেলাটাই তো আমার পেশা।’

বিপিএলের অনুশীলনে জাতীয় দলের মতো কড়াকড়ি নেই। মাশরাফি তাতে এক-দুদিন পর যোগ দিলেও কারও কিছু বলার ছিল না। কিন্তু খেলার মাঠে সেরাটা দিতে হলে যে অনুশীলনের বাইরেও কিছু করতে হয়! মাশরাফি যেমন এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন নিজের ফিটনেসকে। তা ছাড়া একজন খেলোয়াড় মাঠ থেকে কত দিন আর দূরে থাকতে পারেন! মাশরাফির রক্তেও নির্বাচন শেষ হতেই ফুটতে শুরু করেছে ক্রিকেট, ‘আগে যেভাবে খেলেছি, অনুশীলন করেছি…এখনও সেভাবেই সময়মতো সবকিছু করব। ফিটনেসের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আমার শরীরের অবস্থা তো আর সবার মতো নয়। কাজেই এটার ওপর জোর দিতেই হবে।’ ভোটের মাঠে সরাসরি উপস্থিতি কম ছিল মাশরাফির। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শেষে নির্বাচনে সময় দিতে পেরেছেন মাত্র সাত-আট দিন। রাজনীতিতে এত অল্প সময়ের বিনিয়োগে সংসদ সদস্য হওয়াটাকে রেকর্ডই বলতে হবে। যদিও মাশরাফি এতে অস্বাভাবিক কিছু দেখছেন না, ‘এমন তো নয় যে আমি ভোট উপলক্ষ্যে হঠাৎ করে নড়াইলে গিয়েছি। নড়াইলে আমার নিয়মিত যাতায়াত আছে। মানুষের কাছেই ছিলাম।’ জিম্বাবোয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ, এরপর নির্বাচন-সব মিলিয়ে তিন-চার মাস ধরে কম চাপ যায়নি মাশরাফির উপর দিয়ে। খেলা, অধিনায়কত্ব আর রাজনীতির মধ্যে ভারসাম্য রাখতে প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলতে হয়েছে সতর্কভাবে। হাতে সময় কম থাকায় নির্বাচনের আগের কদিন নড়াইলে গিয়ে ছোটাছুটিও করতে হয়েছে অনেক বেশি। অবশ্য নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে চাপের কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছেন তিনি, ‘মানুষ অনেক স্বতঃস্ফূর্ত ছিল। এটা দেখেই বেশি ভাল লেগেছে। একশো বছরের এক বৃদ্ধাকে দেখলাম তাঁর ৬০ বছর বয়সী মেয়ের কোলে চড়ে ভোট দিতে এসেছেন। ভোট শেষে অনেকে আমার সঙ্গে দেখাও করেছেন। মানুষের এ রকম ভালবাসা পাওয়ার পর আর তো কিছু লাগে না!’

[বিশ্বকাপের পর ক্রিকেট ছাড়তে পারেন মাশরাফি, তুঙ্গে জল্পনা]

নির্বাচনের আগে মাশরাফি মাঠে নামলেই ‘নৌকা নৌকা’ স্লোগান উঠেছে গ্যালারিতে। সংসদ সদস্য হয়ে যাওয়ার পর নিশ্চয়ই মাঠে মাশরাফির ওপর চোখটা আরও বেশি থাকবে সবার। অনেকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে যাচাই করতে পারেন তাঁর পারফরম্যান্সও। মাশরাফিও সেটা জানেন। তবে তিনি এটাকে বলছেন ‘যার যার দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার।’ তাঁর কথা, ‘কে কীভাবে ভাববে, সেটা তো আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না। আর এটা নতুন নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও ছিল। খেলোয়াড় হিসেবে আমার যা দায়িত্ব, মাঠে নেমে আমি তাই করার চেষ্টা করব।’ সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্তাজা প্রথম মাঠে নামবেন বিপিএলে। তবে বিপিএল ভাবনার মধ্যেই ওয়ানডে অধিনায়ককে মাথায় রাখতে হচ্ছে আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফর ও বিশ্বকাপের কথা। মাশরাফি আগেই আভাস দিয়েছেন, বিশ্বকাপের পর কেরিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাববেন। তাঁর কথার সূত্র ধরে ধারণা-হয়তো ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পরই বিদায় বলবেন ক্রিকেটকে। কিন্তু এ মুহূর্তে মাশরাফির মাথায় সেসব নেই। বিপিএলের পর জাতীয় দলের নিউজিল্যান্ড সফর। এরপর আয়ারল্যান্ড হয়ে বিশ্বকাপযাত্রা। ২০১৯ সালটাকে যে সবাই বাংলাদেশ দলের জন্য চ্যালেঞ্জের বছর বলছে, মাশরাফির চোখে সেটি নিউজিল্যান্ড সফর আর বিশ্বকাপের কারণেই।

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে