সুকুমার সরকার, ঢাকা: কয়েকদিন আগেই জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ আদালত। তারপর হাসিনার দলের প্রাক্তন সাংসদ শাকিব আল হাসানকে বিপাকে ফেলার চেষ্টায় ইউনুস সরকার। শেয়ার বাজারে অর্থ আত্মসাৎ মামলা তদন্তের কারণে জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও আওয়ামি লিগের প্রাক্তন সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত চিঠিও পাঠানো হয় তাঁকে। সেখানে আগামী ২৬ নভেম্বর তাঁকে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে হাজির থাকার কথা বলা হয়েছে।
শাকিব-সহ আরও ১৫ জনকে তলব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক মহম্মদ আক্তার হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করেছেন তিনি। এমনকী বেআইনি পদ্ধতিতে শেয়ার বাজারে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন শাকিব। ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের মামলার তদন্তের স্বার্থে শাকিব-সহ ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানে ওই মামলায় অভিযুক্ত শাকিবকে ২৬ নভেম্বর সকাল ১০টায় দুর্নীতি দমন কমিশনের ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শেয়ার বাজারে কারসাজির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে শাকিব-সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে গত জুনে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা দায়ের করেছিলেন। বলা হয়েছে, শাকিব তিনটি কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করেছিলেন। সেই কোম্পানিগুলোকে কেন্দ্র করে শেয়ার বাজারে কারসাজি হয়েছে। মার্কেট ম্যানিপুলেশনে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গিয়েছে।
একসময় দুর্নীতি দমন কমিশনের বা দুদকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর ছিলেন ক্রিকেটার শাকিব আল হাসান। কিন্তু প্রাক্তন অ্যাম্বাসাডরের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করে দুদক। মামলার এজাহারে বলা হয়, প্যারামাউন্ট ইনস্যুরেন্স, ক্রিস্টাল ইনস্যুরেন্স ও সোনালি পেপারস লিমিটেড – এই তিন কোম্পানির কারসাজি করা শেয়ারে শাকিব বিনিয়োগ করে প্রতারণায় যোগ দেন। এর মাধ্যমে তিনি ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকার বেশি ‘রিয়েলাইজড ক্যাপিটাল গেইন’ নামে অপরাধলব্ধ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
মামলায় শাকিব অন্য আসামিরা হলেন সমবায় অধিদপ্তরের প্রাক্তন উপনিবন্ধক মহম্মদ আবুল খায়ের (হিরু) ও তাঁর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কণিকা আফরোজ, মহম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, মহম্মদ জাহেদ কামাল, মহম্মদ হুমায়ুন কবির ও তানভির নিজাম।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। পরিকল্পিতভাবে শেয়ার বাজারে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন তাঁরা। শেয়ার বাজারের প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে বাজারে গুজব ছড়িয়ে কারসাজি চালান তাঁরা। এভাবে শেয়ার বাজার থেকে ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করে নিজেদের বিও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তা তোলেন।
প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামি লিগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা হয়। এই সংসদে ক্রিকেটার শাকিব আওয়ামি লিগের টিকিটে মাগুরা থেকে সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। শাকিবের বিরুদ্ধে নানা ‘দুর্নীতির’ অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট দুদকে আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিলহানুর রহমান নাওমি। গত বছরের ৮ নভেম্বর শাকিব আল হাসানের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার কথা জানায় আর্থিক খাতের গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।
সর্বশেষ খবর
-
প্রশিক্ষণ চলাকালীন পুঞ্চে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে ভয়ংকর বিস্ফোরণ, গুরুতর আহত ২ জওয়ান
-
পুজোর অনুদান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত কলকাতার ‘বিগ বাজেটে’র ক্লাবগুলির, সংশয় কী নিয়ে?
-
জার্মানির জাবরা ফ্যান, জমি বিক্রির অর্থে ৮ কিমি দীর্ঘ পতাকা বানিয়ে তাক লাগালেন বাংলাদেশি ভক্ত!
-
এবার বাংলায় ‘মার্শাল প্ল্যান’, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত ইউরোপের মতোই চাঙ্গা হবে রাজ্যের অর্থনীতি?
-
আমেরিকায় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে থাকবেন না ‘হত্তাকত্তা’ ট্রাম্পই, নেপথ্যে কোন অভিসন্ধি?