সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়: সবাই বিশ্বকাপে নেমে যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত আজ নামছে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকা বুধবার টুর্নামেন্টে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে নামবে, ভারত সেখানে খেলবে প্রথম। দক্ষিণ আফ্রিকার সময়টা খুব ভাল যাচ্ছে না। লোকে ওদের দুর্বল ব্যাটিং নিয়ে বলছে। কিন্তু আমার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকা বোলিংও যথেষ্ট সাধারণ হচ্ছে। আর এনগিডি-স্টেইন চোটের কারণে না থাকায় ওদের রিজার্ভে বিশেষ কেউ আর পড়েও নেই।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আমি প্রথম খেলি ১৯৯৯ সালে। আমার বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচ ছিল ওটা। কী টিমই না তখন ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার! আমরা ২৬০ তুলে ওদের কিছুটা ভাবিয়ে তুলেছিলাম ঠিকই, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটিংয়ে এতটাই গভীরতা ছিল যে, শেষ পর্যন্ত ওরাই ম্যাচটা নিয়ে চলে যায়। পোলক, ক্লুজনারের মতো প্লেয়ার ছিল ওদের। যাঁরা শুধুমাত্র দুর্ধর্ষ ফাস্ট বোলারই ছিল না। পোলক-ক্লুজনার ব্যাট হাতেও চাপের মধ্যে একশো রান তুলে ম্যাচ নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখত। আসলে ওই রকম প্লেয়ার প্রজন্মে একবারই আসে! তুমি আশা করতে পারো না যে, বছরের পর বছর তুমি একটা পোলক কিংবা ক্লুজনার তুলে আনবে। কিন্তু এই দক্ষিণ আফ্রিকা টিমটাকে ওদের অতীতের ছায়া মনে হচ্ছে। আর সে বড় দীনহীন ছায়া। অতএব দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ভারত বুধবার দারুণ শক্তিশালী এক প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে। ওয়ার্ম আপ ম্যাচের পর আশ্চর্য করে দেওয়ার মতো লম্বা বিশ্রামের সময় পেয়ে বুধবার ভারত চাইবে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়তে। বিশ্বকাপে ভারতের আজই প্রথম ম্যাচ। এবারের বিশ্বকাপকে খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দেখাচ্ছে। ইংল্যান্ডে সাম্প্রতিক অতীতে জুন মাসে যত না ঠান্ডা পড়ত, তার চেয়ে এবার অনেক বেশি ঠান্ডা পড়েছে। সঙ্গে বৃষ্টি। যে কারণে অনেক ক্যাপ্টেন বাধ্য হচ্ছে টস জিতে ফিল্ডিং নিতে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, টস জিতে ফিল্ডিং নিলেই সেই সিদ্ধান্ত দুর্দান্ত কাজ করছে।
[আরও পড়ুন: ভারতের বিরুদ্ধে নামার আগেই ধাক্কা প্রটিয়াদের, চোটের জন্য ছিটকে গেলেন স্টেইন]
দেখুন, ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা দু’টো টিমেরই কিছু না কিছু দুর্বলতা আছে। ভারতীয় মিডল অর্ডার এখনও পরীক্ষার মুখে পড়েনি। কেএল রাহুল আর এমএস ধোনি ওয়ার্ম আম ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছে ঠিকই। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা পেস অ্যাটাক বোধহয় ধোনি-রাহুলের আরও বেশি পরীক্ষা নেবে। কেএল রাহুল দুর্দান্ত প্লেয়ার। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, ও-ই ভারতের নাম্বার ফোর। কিন্তু ইংলিশ পরিবেশে ব্যাট করতে গিয়ে অসুবিধায় পড়েছে রাহুল। আশা করছি, এবার সে সব অসুবিধে সামলে ও নিজেকে চেনাবে। এই একটা বিশ্বকাপ রাহুলের কেরিয়ারই ঘুরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু তার পরেও বলছি, ভারত অনেকটাই নির্ভর করে থাকবে ব্যাটিং লাইন আপের প্রথম তিনজনের উপর। যাদের ওয়ার্ম আপ ম্যাচে কিছুটা হলেও ফিকে লেগেছে। লম্বা আইপিএল খেলে আসার ফলে একটু বোধহয় ক্লান্তও। কিন্তু পাঁচ দিনের এই লম্বা বিশ্রামের পর বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ওরা ঝলসে উঠবে বলেই আমার ধারণা। শিখর, রোহিত, কোহলি- পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে তিন জনের রেকর্ডই দুর্দান্ত। ভারত শেষ দু’টো যে বড় টুর্নামেন্ট জিতেছে সেই ২০১৩ আর ২০১৫-র চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পিছনেও এদের অবদান প্রচুর ছিল। লোকে ভারতীয় ব্যাটিং নিয়ে প্রচুর কথা বলছে, প্রচুর শব্দ খরচ করছে। কিন্তু আমার মতে, ভারতের বোলিংটাই আসল। বুমরা-সামি অসাধারণ বল করছে। আর চাহাল-কুলদীপ যদি ফর্মে থাকে, ভারতকে ওরা বিশ্বকাপ জিতিয়ে দিতে পারে। আমি নিশ্চিত বাদবাকি টিমগুলোর চেয়ে স্পিনার দিয়ে প্রতিপক্ষকে অনেক বেশি আক্রমণ করবে বিরাট।
৩০ মে বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আসল বিশ্বকাপ বোধন বোধহয় হচ্ছে আজ। ভারতের নামা দিয়ে। আমাকে বিশ্বাস করতে হবে না। আপনি বিলেতের রাস্তা ধরে হাঁটুন। দেখবেন, চারদিকে শুধু ভারতীয় সমর্থক। যাঁরা অধীর অপেক্ষা করছেন বিশ্বকাপে তাঁদের টিমের নামার!
[আরও পড়ুন: প্রথম ম্যাচের আগেই ডোপ টেস্ট বুমরাহর, নেওয়া হল রক্তের নমুনা]
সর্বশেষ খবর
-
এবার মাদ্রাসাতেও জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা, নির্দেশিকা জারি স্বাস্থ্যদপ্তরের
-
বিশ্বকাপের ‘দ্বিতীয়’ উদ্বোধনী মঞ্চে আগুন ধরালেন নোরা, কানাডা কাঁপালেন ‘বাংলাদেশি’ ডিজে
-
জুটত না থালাভর্তি ভাতও! অভাবকে পরাস্ত করে আকাদেমি পুরস্কার পাচ্ছেন ২ ছৌ শিল্পী
-
‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যেতেই পদ খোয়ালেন মালা রায়, মহিলা তৃণমূলের নতুন সভানেত্রী কে?
-
সড়কপথে ৩৫০ কিমি পাড়ি, বাংলাদেশ পৌঁছলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী