Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১২ জুন ২০২৬
IND vs SA

গম্ভীরের ‘গোয়ার্তুমি’তে হারল ভারত, আবদারি পিচের আত্মঘাতী চালে ‘হারল’ টেস্ট ক্রিকেটও

পিচের জন্য 'পাহারাদারের' ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে খবর।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০২৫, ১৫:১৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০২৫, ১৫:১৯

options
link
গম্ভীরের ‘গোয়ার্তুমি’তে হারল ভারত, আবদারি পিচের আত্মঘাতী চালে ‘হারল’ টেস্ট ক্রিকেটও zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ৬ বছর পর টেস্ট ফিরেছে ইডেনে। ময়দান চত্বরের আনাচে-কানাচে গত কয়েকদিন উৎসাহী মুখের ভিড়। গঙ্গার হিমেল হাওয়া যত তাড়াতাড়ি শীত নামাচ্ছে, তার থেকেও দ্রুত ভরে উঠছে ক্রিকেটের নন্দনকাননের গ্যালারি। কদিন আগে দিল্লিতে ভারতের টেস্ট ম্যাচে দর্শকাসন ফাঁকা ছিল। আর সেখানে ইডেন আলাদাই! কিন্তু এত কিছু করে কী প্রাপ্তি? দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট হারল ভারত। সেই সঙ্গে ইডেনের পিচ একরাশ বিতর্ক এবং টেস্ট ক্রিকেটের গৌরবকে আরেকবার প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল। নেপথ্যে ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীরের ‘আবদার’। 

রনজি ট্রফির ম্যাচগুলোর ছবি তো এরকম ছিল না। সেটা তো এই কদিন আগের কথা। দুটো ম্যাচই চারদিনে গড়িয়েছে। তাহলে ২০ দিনের মধ্যে পিচে কী এমন ম্যাজিক হয়ে গেল? না, কোনও ম্যাজিক হয়নি। যেটা হয়েছে, সেটা ‘ট্র‍্যাজিক’। পিচে টার্ন চাই, টার্ন চাই। এই টার্নের নেশাতেই যেমন-তেমন অবস্থা হয়ে গেল ইডেনের পিচের। টেস্ট শুরুর তিনদিন আগে থেকেই পিচের উপর গোলটেবিল বৈঠক হয়েছে। ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর যার মধ্যমণি। ইডেনের পিচ নিয়ে নাকি তিনি কোনও ভাবেই সন্তুষ্ট নন। তাঁর ‘আবদার’ মতোই পিচে দু’দিন জল দেওয়া হয়নি বলে খবর। ফলে যা হওয়ার, তাই হয়েছে। প্রথম দিন থেকেই পিচে ফাটল। বল বনবন করে ঘুরতে শুরু করেছে। যে কারণে প্রথম দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ের প্রথম ইনিংসের অষ্টম ওভারেই স্পিনার অক্ষর প্যাটেলকে নিয়ে আসা হল।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ম্যাচ শেষে গৌতম গম্ভীর জানিয়েই দিলেন, এরকম পিচই চেয়েছিলেন। কথা কিছু কিছু বুঝে নিতে হয়। শেষ কবে ভারত চার স্পিনার নিয়ে নেমেছে? নিশ্চয়ই পিচ বুঝেই এই পদক্ষেপ। গম্ভীর তো বললেন, দলকে স্পিন খেলা শিখতে হবে। যদি দল স্পিনই না খেলতে পারে, তাহলে ‘টার্নিং ট্র্যাক’ কেন চাওয়া হচ্ছে? সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আগেই বলে দিয়েছেন, গম্ভীরের নির্দেশেই এরকম পিচ বানানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “গম্ভীর এখন ভারতীয় টিমের বস। ও যেরকম পিচ চাইবে, টিম যা চাইবে, সেটা তো দিতেই হবে। এখানে আমাদের তো কিছু করার নেই।”

সিএবি-র তরফ থেকে অবশ্য ঘুরিয়ে একটা চেষ্টা করা হয়েছিল। ম্যাচ শুরুর একদিন আগে সারারাত পিচ খোলা রাখা হয়েছিল। যাতে অন্তত শিশিরে কিছুটা প্রাণ পায় পিচটা। কিন্তু সেই খবরও নাকি গম্ভীরের কানে ওঠে। তারপর থেকে শুধু পিচ দেখার একজন ‘পাহারাদার’ রাখা হয়। যার কাজ হবে যাতে কোনও ভাবেই ‘আইনের ফাঁক’ দিয়ে নির্দেশ বহির্ভূত আর কিছু না হয়, সেটা নজরদারি করা। সেটা না হয় হল। কিন্তু প্রত্যেকদিন ৩০-৪০ হাজার দর্শকের নজরে কী পড়ল? উইকেট-বৃষ্টি। শুধু দ্বিতীয় দিনে পড়ল ১৫টা উইকেট। ট্রেনে-বাসে প্রার্থনা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য। কুলদীপ-বুমরাহদের সামনে টেম্বা বাভুমারা আরেকটু খেলুক। তাহলে চতুর্থ দিনের টিকিটটা জলে যাবে না। অদ্ভুত লাগলেও সত্যি।

বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল দ্বিতীয় দিনের শেষে বলে যান, পিচ এত তাড়াতাড়ি ‘খারাপ’ হবে বুঝতে পারেননি। সমস্যা হল, কার্যকারণ সম্পর্কের বাইরে ইডেনের পিচের খারাপ দশা নিয়ে চর্চা হবে। সাধারণ দর্শকরা সেটা দেখবেন। দেশ-বিদেশের প্রাক্তনী বা সমালোচকরা পিচকে দুষবেন। কিংবা শাস্তির খাঁড়া এলে সেটা ইডেনের উপরই আসবে। তখন কার নির্দেশে কী হয়েছে দেখা হবে না। তার মধ্যে আবার আছে, গত মরশুমে কেকেআরের ম্যাচের সময় পিচ প্রস্তুতকারক সুজন মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে বিতর্ক। সেটা তাঁর ‘ইমেজ’ খারাপ করেছে, ‘সফট টার্গেট’ হয়ে গিয়েছেন। 

কিন্তু তাতে দীর্ঘমেয়াদি লাভ পাওয়া মুশকিল। রাহুল দ্রাবিড়ের আমলে ভারতে ‘স্পোর্টিং’ পিচ তৈরি হত। তাতেই রোহিত শর্মারা দেশের মাটিতে ইংল্যান্ড হারিয়েছিলেন। তারপর ব্যাটন বদলাল। গম্ভীর জমানায় নিউজিল্যান্ডের কাছে চুনকাম। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে হার। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের টিকিট হাতছাড়া হয়েছে। ফের দেশের মাটিতে ঘূর্ণি পিচের ‘আবদার’ শুরু। এতটা ‘নিরাপত্তাহীনতা’ কেন? টেস্টে এখনও পর্যন্ত বড় সাফল্যের দেখা পাননি গম্ভীর। সব দল বাংলাদেশ বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয়। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। ভারতকে রীতিমতো ঘোল খাইয়ে জিতল। আরেকটা বিষয় হল, এই ভারতীয় দল ইংল্যান্ডে গিয়ে লড়াই দিয়ে এসেছিল। টেস্ট সিরিজ ড্র করে ফিরেছিল। সেখানে টার্নিং ট্র্যাক ছিল না। তাহলে কি দলের ক্ষমতার উপর ভরসা রাখতে পারছেন না গম্ভীর? স্পোর্টিং পিচে লড়াই করে একবার দেখুকই না গিলরা। যেখানে টেস্ট ক্রিকেটকে ‘গৌরব’ ফেরানো নিয়ে এত কথা হচ্ছে, সেখানে কেন উলটো পথে হাঁটা? গম্ভীর ব্রিগেড ম্যাচ শুধু হারল না, নিজেদের ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিল।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.